সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দেবেন, ডেপুটি স্পিকার পাচ্ছে বিরোধী দল

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে ঘিরে যখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তুঙ্গে, তখন সংবিধানের বিধান ও রাজনৈতিক বার্তা একসাথে তুলে ধরেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সংবিধান অনুযায়ী নতুন সংসদ গঠিত হলে প্রথম অধিবেশনের প্রারম্ভিক সেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন, এ বিধান এখনো বহাল আছে। পাশাপাশি সংসদের ভারসাম্য রক্ষায় বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

গতকাল সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানে বছরের প্রথম অধিবেশন এবং নতুন সংসদ গঠনের পর প্রথম অধিবেশনের প্রারম্ভিক সেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের বিধান রয়েছে। এটা এখন পর্যন্ত সংবিধানে বহাল আছে এবং দীর্ঘদিনের প্রথা ও ট্রেডিশনের অংশ। সুতরাং সেই হিসেবেই হবে।

সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিনকে ভাষণদান থেকে বিরত রাখতে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের বিধান পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত তা কার্যকর থাকবে।

তিনি আরো বলেন, কেউ যদি ভবিষ্যতে সংবিধান সংশোধনের দাবি তোলে এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণ না রাখার প্রস্তাব দেয়, সেটা তখন দেখা যাবে। কিন্তু বর্তমানে যে বিধান রয়েছে, সেটিই অনুসরণ করা হবে।

এর আগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা সমুন্নত রাখার যুক্তি তুলে ধরে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি দেন। চিঠিতে তিনি প্রস্তাব করেন, একজন সংসদ সদস্যকে স্পিকার নির্বাচন করে তার মাধ্যমে সংসদ অধিবেশন আহ্বান ও ভাষণ দেয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। বিকল্পভাবে, প্রধানমন্ত্রী তার সুবিধামতো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলেও অনুরোধ জানান।

তবে সরকারপক্ষ জানিয়েছে, সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি সংসদ অধিবেশন আহ্বান করেন এবং সেই সাংবিধানিক বিধান অনুসারেই আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছে। ওই দিন বেলা ১১টায় সংসদের বৈঠক শুরু হবে।

নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি সরকারের নীতিঅগ্রাধিকার ঘোষণার গুরুত্বপূর্ণ পর্ব। রাষ্ট্রপতির ভাষণে সরকারের আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা, অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা এবং আইন প্রণয়নের রূপরেখা তুলে ধরা হয়। ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব আনা হয় এবং তার ওপর সাধারণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা অংশ নেন।

প্রথম দিনের কার্যসূচিতে স্পিকার নির্বাচন অন্যতম প্রধান বিষয়। স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি সংসদের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন এবং পরবর্তী কার্যসূচি নির্ধারণে ভূমিকা রাখবেন।

বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধান বিরোধী দলকে মৌখিকভাবে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে যেন তারা ডেপুটি স্পিকার পদে প্রার্থী নির্ধারণ করে। স্পিকার নির্বাচনের দিনই একই সাথে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হতে পারেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি সম্মান রেখে এবং রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে ঐকমত্যের ভিত্তিতে এর বাস্তবায়ন এখন থেকে শুরু করতে চায় সরকার। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংসদীয় গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে বিরোধী দলকে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো উল্লেখ করেন, সরকারি দল হিসেবে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার উভয় পদ নেয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে রাজনৈতিক সমঝোতার আলোকে বিরোধী দল থেকে একজন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন। যদিও সমঝোতার দলিলে বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ নেই, তবুও বাস্তব প্রয়োগে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দিকেই সরকার এগোচ্ছে।