চীনা নির্ভরতা কমাতে ব্রাজিলের সাথে ভারতের খনিজ চুক্তি সই

Printed Edition
নরেন্দ্র মোদি, লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা
নরেন্দ্র মোদি, লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা

আলজাজিরা

ভারত ও ব্রাজিল গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও রেয়ার আর্থস নিয়ে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। গতকাল শনিবার নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা বৈঠক শেষে এই চুক্তি ঘোষণা করেন। মোদি একে ‘সহনশীল সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার বড় পদক্ষেপ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ খনিজসম্পদে সহযোগিতা বাড়াবে। ব্রাজিল বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ভাণ্ডার, যা বৈদ্যুতিক গাড়ি, সৌর প্যানেল, স্মার্টফোন থেকে শুরু করে জেট ইঞ্জিন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে ভারত দীর্ঘদিন ধরে চীনের ওপর নির্ভরশীল ছিল। চীন বর্তমানে রেয়ার আর্থস উৎপাদনে প্রায় একচেটিয়া অবস্থানে রয়েছে। ফলে বিকল্প উৎস খুঁজে বের করাই ভারতের প্রধান লক্ষ্য।

বৈঠকে দুই নেতা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ নিয়েও আলোচনা করেছেন। ভারত ইতোমধ্যেই দেশীয় উৎপাদন ও পুনর্ব্যবহার বাড়াচ্ছে এবং নতুন সরবরাহকারী খুঁজছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে ভারসাম্য আনতে সাহায্য করবে।

চুক্তির মাধ্যমে ভারত-ব্রাজিল সম্পর্ক আরো দৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দুই দেশই বৈশ্বিক দক্ষিণের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতি হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সহযোগিতা শুধু খনিজসম্পদ নয়, বরং প্রযুক্তি ও শিল্পক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।

এই চুক্তি ভারতের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কৌশলের অংশ, যেখানে তারা জ্বালানি রূপান্তর, বৈদ্যুতিক যানবাহন ও আধুনিক প্রযুক্তি শিল্পে টেকসই সরবরাহ নিশ্চিত করতে চাইছে। ব্রাজিলের বিপুল খনিজ ভাণ্ডার ভারতের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।