সহায়তার প্রস্তাবে ট্রাম্পের মতলব নিয়ে ভাববে কিউবা

Printed Edition

রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র মানবিক সহায়তা বাবদ ১০ কোটি ডলার দেয়ার যে প্রস্তাব দিয়েছে তা বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে কিউবা। মার্কিন তেল অবরোধ যখন দেশটির সরকারি পরিষেবাগুলো প্রায় পঙ্গু করে দিচ্ছে, সে সময় এমন সহায়তার পেছনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসল অভিপ্রায় কী, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছে তারা। বৃহস্পতিবার কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ বলেছেন, তাদের সরকার যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব বিবেচনা করে দেখতে আগ্রহী, তবে এর সাথে অন্য কোনো শর্ত জুড়ে দেয়া যাবে না। ‘এটি রাজনৈতিক চালমুক্ত এবং অবরোধে থাকা জনগণের দুর্ভোগ ও কষ্টকে ব্যবহার করার চেষ্টা থাকবে না বলে আমরা আশা করছি,’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি এ কথা বলেছেন।

এমন এক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব এবং তা ভেবে দেখতে কিউবার কমিউনিস্ট পার্টি-শাসিত সরকারের আগ্রহ প্রকাশ পেল, যখন তীব্র বিদ্যুৎ সঙ্কটে বিপর্যস্ত দ্বীপদেশটির কিছু এলাকায় বিক্ষোভের খবর পাওয়া যাচ্ছে। সপ্তাহখানেক আগে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, তারা গোপনে কিউবাকে ১০ কোটি ডলার ত্রাণসহায়তা এবং ‘বিনামূল্যে দ্রুতগতির স্যাটেলাইট ইন্টারনেট’ দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে এসব পেতে দ্বীপটির সরকারকে ‘অর্থবহ সংস্কারে’ রাজি হওয়ার শর্তও দিয়েছে তারা। রদ্রিগেজ সে সময় একে ‘মনগড়া’ আখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে তাদের কাছে এমন প্রস্তাব আসেনি।

পরে বুধবার ট্রাম্প প্রশাসন এক বিবৃতিতে কিউবাকে ত্রাণসহায়তাবাবদ ১০ কোটি ডলার দেয়ার প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করে। জানুয়ারিতে ট্রাম্প কিউবায় কোনো দেশ তেল সরবরাহ করলে তাদের পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক বসানোর হুমকি দেয়ার পর থেকে দ্বীপদেশটির জীবনযাত্রার মারাত্মক অবনতি হয়েছে। ট্রাম্পের চাপে ও হুমকিতে মিত্র হিসেবে পরিচিত মেক্সিকো ও ভেনিজুয়েলাও আর তেলের চালান পাঠাতে না পারায় কিউবায় জ্বালানি ও বিদ্যুতের ভয়াবহ ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। দিনকয়েক আগে জাতিসঙ্ঘ কিউবায় ট্রাম্পের জ্বালানি অবরোধকে ‘বেআইনি’ আখ্যা দিয়ে বলেছে, এটি কিউবার জনগণের বিকাশের অধিকারকে বাধাগ্রস্ত এবং তাদের খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা, পানি ও পয়োনিষ্কাশনের অধিকারকে ক্ষুণœ করছে।

মার্কিন ত্রাণসহায়তার প্রস্তাব নিয়ে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াস কানেল বলেছেন, তার সরকার এ প্রস্তাব গ্রহণ করবে যদি তা মানবিক সহায়তার আন্তর্জাতিক রীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। কিউবার এ নেতা একইসাথে মার্কিন প্রস্তাবকে ‘বেমানান ও পরস্পরবিরোধী’ বলেও অভিহিত করেছেন। বলেছেন, ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেই তা কিউবাকে বেশি সহায়তা করা হবে।

দিয়াস কানেল বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওই অর্থ নিলে তা জ্বালানি, খাদ্য ও ওষুধে ব্যয় করাকেই অগ্রাধিকার দেবে কিউবা। ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার এখনকার কমিউনিস্ট পার্টি পরিচালিত সরকারকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত ও অযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে তাদের এ শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করতে চাইছে। অবশ্য একই সাথে দুই দেশের মধ্যে আলোচনাও চলছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এ আলোচনা থমকে আছে বলেই মনে হচ্ছে। যদিও বৃহস্পতিবার কিউবার সরকার তাদের সাথে সিআইএ পরিচালক জন র‌্যাটক্লিফের সাক্ষাতের খবর নিশ্চিত করেছে। সিআইএর এক কর্মকর্তা জানান, কিউবা যদি ‘মৌলিক পরিবর্তন’ করে তাহলে তাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিষয়ে জড়িত হতে যুক্তরাষ্ট্র যে প্রস্তুত কিউবায় গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সেটাই বলেছেন র‌্যাটক্লিফ।