আগাম নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কায় নেতানিয়াহু

Printed Edition

আনাদোলু

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অতি-রক্ষণশীল রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক করে বলেছেন, আগামী সেপ্টেম্বরে আগাম নির্বাচন হলে ক্ষমতাসীন জোটের পরাজয় হতে পারে। জোট নিজেই পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার বিল জমা দেয়া সত্ত্বেও এই সতর্কতা দিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম এই তথ্য জানিয়েছে।

ইসরাইলের চ্যানেল ১২ রাজনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, নেতানিয়াহু কট্টর ধর্মীয় দলগুলোর নেতাদের বলেছেন যে, ইরান ইস্যুতে ইসরাইল এখনো তার কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। তাই এই মুহূর্তে নির্বাচনী প্রচারণায় সময় দেয়ার মতো অবস্থা তার নেই। নেতানিয়াহু বিশ্বাস করেন, আগাম নির্বাচন হলে বর্তমান শাসক জোট ক্ষমতা হারাতে পারে। নির্বাচনে পরাজয়ের এই ভয়ের মধ্যেই গত ১৩ মে বিরোধী দলকে টেক্কা দিতে ক্ষমতাসীন জোট নিজেই পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়ার বিল জমা দেয়। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আগামী বুধবার নেসেটে (ইসরাইলি পার্লামেন্ট) এই বিলের ওপর ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে। তবে কোনো নতুন নিরাপত্তা পরিস্থিতির উদ্ভব হলে এই পরিকল্পনা বিফলে যেতে পারে। এদিকে বিরোধী দল ইসরাইল বেইতেনুর নেতা আভিগডোর লিবারম্যান বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে সতর্ক করেছেন যে, নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে নেতানিয়াহু বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারেন। বর্তমানে গাজা ও দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরাইলি বাহিনী তাদের দখলদারিত্ব বাড়াচ্ছে এবং ইরান ও লেবাননের বিরুদ্ধে উসকাানি অব্যাহত রেখেছে।

ইসরাইলি গণমাধ্যম কেএএন জানায়, ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির সদস্য ও জোটের চেয়ারম্যান ওফির কাটজ সব শরিক দলের নেতাদের সম্মতিতে পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়ার বিলটি পেশ করেছেন। এই বিল অনুযায়ী, আগাম নির্বাচনের জন্য ১ সেপ্টেম্বর, ১৫ সেপ্টেম্বর অথবা সাধারণ নির্বাচনের পূর্বনির্ধারিত তারিখ ২৭ অক্টোবর এই তিনটি সম্ভাব্য দিন প্রস্তাব করা হয়েছে। মূলত অতি-রক্ষণশীল ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের সামরিক পরিষেবা থেকে অব্যাহতি দেয়ার একটি বিলকে কেন্দ্র করেই জোটের ভেতরে এই সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে। গত মঙ্গলবার নেতানিয়াহু ধর্মীয় দলগুলোকে জানিয়েছিলেন যে, পার্লামেন্টে পর্যাপ্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় তিনি এই অব্যাহতি বিলটি পাস করতে পারছেন না। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ধর্মীয় দলগুলো আগাম নির্বাচনের হুমকি দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, অতি-রক্ষণশীল দলগুলোর অবস্থানই এখন ঠিক করবে ইসরাইলে আগাম নির্বাচন হবে কি না। কারণ তাদের ভোটেই ক্ষমতার পাল্লা যেকোনো একদিকে ঝুঁকে পড়তে পারে। এটি নেতানিয়াহুর সামনে সরকার টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সাল থেকে নেতানিয়াহু গাজা উপত্যকায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওয়ান্টেড তালিকায় রয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা ইসরাইলি হামলায় গাজায় এ পর্যন্ত ৭২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।