হেলথ টিপস

স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাবে জাপানি কৌশল!

Printed Edition

প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে অসংখ্য মানুষ স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। অনেকে মনে করেন প্রবীণদের মধ্যেই স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি। তবে সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, কম বয়সীদেরও স্ট্রোক হতে পারে। বিভিন্ন কারণে মস্তিষ্কের রক্তবাহী ধমনীর পথ সরু হয়ে যায় এবং আচমকা চর্বি আটকে রক্ত চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এ রকম হলে মস্তিষ্কের কোষ অক্সিজেনের অভাবে নিস্তেজ হতে হতে অকেজো হয়ে যায়। এটাই স্ট্রোক। সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু না হলে রোগীর পাঘাতগ্রস্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সম্প্রতি অনেকে এক জাপানি পদ্ধতির কথা বলেছেন। জাপানি এই পন্থা নাকি স্ট্রোক প্রতিরোধ করে। স্ট্রোক আটকাতে হলে জাপানি পদ্ধতি মেনে গরম পানিতে ১৫-২০ মিনিট পা ডুবিয়ে রাখতে হবে। এটি রক্তনালি প্রসারিত করতে, রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে এবং শরীরকে শান্ত করতে সাহায্য করে। এটি মানসিক চাপও কমায়। পানিতে পরিমাণ মতো লবণ ব্যবহার করলে ঘুমেরও উন্নতি হবে।’

তবে এই মতামত নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে মতভেদ আছে। তাদের এক পক্ষের মতে ‘ঈষদুষ্ণ গরম পানিতে পা ভেজালে সাময়িক আরাম ও স্বস্তি মিললেও, এটি স্ট্রোক প্রতিরোধ করতে পারেÑএমন দাবির পে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। স্ট্রোক হলে মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহে বাধা তৈরি হয়। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল রোগীদের এই রোগের ঝুঁকি বেশি থাকে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরচর্চা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেলে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো যেতে পারে।’’

তাদের মতে, গরম পানিতে পা ভেজালে তা কিছু মানুষের রক্ত সঞ্চালন সামান্য উন্নত করতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু এই প্রভাবগুলো অস্থায়ী এবং একটি নির্দিষ্ট স্থানেই সীমাবদ্ধ। এই পদ্ধতিতে শরীরের গভীরের ধমনী বা মস্তিষ্কের রক্ত সরবরাহ প্রভাবিত হয় না। গরম পানিতে লবণ ব্যবহার করলে পেশি শিথিল হতে পারে বা ঘুম আসতে পারে, কিন্তু স্ট্রোক প্রতিরোধে এর কোনো সম্ভাবনা নেই।

অন্য দিকে, চিকিৎসকদের অপর পক্ষের মতে, ওয়ার্ম ওয়াটার থেরাপি একেবারেই কাজের নয়, সেটা বলা যুক্তিযুক্ত হবে না। এই পদ্ধতিটি শরীরের কান্তি দূর করে, মনমেজাজ শান্ত করে, ফলে স্ট্রেস হরমোনের উৎপাদন কমে এবং রক্তচাপও কিছুটা কমে। এই দু’টি বিষয় পরোভাবে স্ট্রোক প্রতিরোধের সাথে সম্পর্কযুক্ত। ইন্টারনেট।