আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বহুল প্রত্যাশিত মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় মুসল্লি ও বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে নির্মাণকাজের মান যাচাই ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের দাবির পাশাপাশি মসজিদ হস্তান্তরের আগে ত্রুটি পরীক্ষা করতে সাত সদস্যের একটি যাচাই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সম্প্রতি সরজমিনে দেখা যায়, ভবনের দেয়াল, প্লাস্টার ও বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় ফাটলের চিহ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এখনো পুরোপুরি ব্যবহার শুরু হয়নি। এর মধ্যেই ভবনের এমন অবস্থা নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন তো উঠবেই।
কয়েকজন মুসল্লি বলেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের আওতায় নির্মিত মসজিদটি এলাকার মানুষের জন্য একটি মূল্যবান স্থাপনা। তাই উদ্বোধনের আগেই ফাটল দেখা দেয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত প্রয়োজন। উল্লেখ্য, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে সারা দেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রায় ৯ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পে উপজেলা পর্যায়ের প্রতিটি মসজিদ নির্মাণে গড়ে ১৫ থেকে ১৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
ভালুকা মডেল মসজিদ নির্মাণ করছে নাঈমা এন্টারপ্রাইজ। প্রায় ১৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত তিনতলা ভবনটিতে নারী ও পুরুষের পৃথক নামাজের ব্যবস্থা, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যালয়, ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, হজযাত্রীদের প্রশিক্ষণ সুবিধা, লাইব্রেরি এবং গণশিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ রাখা হয়েছে।
হস্তান্তর-পূর্ব যাচাই কমিটির সদস্য ও ভালুকা পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হাতেম খান দাবি করেন, নির্মাণকাজে বিভিন্ন ধরনের ত্রুটি রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত মানের জেনারেটর ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) সরবরাহ করা হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এ ছাড়া দরজার কাঠের মান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
উপজেলা প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক বলেন, কমিটির সদস্যদের নিয়ে পরিদর্শনে গিয়ে কয়েকটি স্থানে ফাটলসহ কিছু ত্রুটি পাওয়া গেছে। এসব ত্রুটি মেরামতের পর আবার পরিদর্শন করা হবে। সন্তোষজনক অবস্থায় পাওয়া গেলে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: ফিরোজ হোসেন বলেন, ত্রুটিযুক্ত অবস্থায় মসজিদটি হস্তান্তরের উদ্যোগ নেয়া হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। পরে উপজেলা প্রকৌশলীকে প্রধান এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজারকে সদস্যসচিব করে সাত সদস্যের হস্তান্তর-পূর্ব যাচাই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ফাহমিদ ইফতেখার আলী বলেন, মসজিদটি হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছিল। তবে কিছু ত্রুটি চিহ্নিত হওয়ায় ঠিকাদারকে সেগুলো দ্রুত সংশোধনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ঈদের ছুটির কারণে কিছুটা সময় দেয়া হয়েছে। ত্রুটি সংশোধন শেষে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে মসজিদটি হস্তান্তর করা হবে।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, জনগণের অর্থে নির্মিত এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার গুণগত মান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা উচিত।



