কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর শাহ আমানত সেতুর (নতুন ব্রিজ) দণি প্রান্তে শিকলবাহা এলাকায় নদী ভরাট করে জেটি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও ‘তাসনিয়া এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী মোজাম্মেল হক ওরফে গাছ মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ২০০ মিটার নদী দখল করে কৃত্রিম বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে জেটিটি স্থাপন করা হয়েছে। জেটিতে পাথর লোড-আনলোডের কারণে এলাকায় পরিবেশগত ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শাহ আমানত সেতুর দণি প্রান্তের প্রথম সিঁড়িসংলগ্ন এলাকায় কর্ণফুলী নদীর অংশ ভরাট করে জেটি নির্মাণ করা হয়েছে। বালু ও কংক্রিটের মিশ্রণে তৈরি কৃত্রিম বাঁধ দিয়ে নদীর একটি অংশ দখল করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। বিদেশ থেকে আসা জাহাজ থেকে এস্কেলেটরের মাধ্যমে পাথর খালাস করতেও দেখা গেছে সেখানে।
জেটিতে দায়িত্বরত এক সুপারভাইজার জানান, জেটি নির্মাণের জন্য অনুমোদন নেয়া হয়েছে। তবে কোন সংস্থা বা কর্তৃপ থেকে অনুমোদন নেয়া হয়েছে সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাসনিয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তিনি সাবেক অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র। এ ছাড়া বৈষম্যবিরোধী হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি আওয়ামী লীগের দাপুটে এই নেতা। ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর আনোয়ারা উপজেলার বিএনপি কর্মী তৌহিদ মিয়া বাদি হয়ে আনোয়ারা থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলারও আসামি তিনি।
২০২৪ সালের ৯ জুন পুলিশের দায়ের করা একটি ছিনতাই ও হামলার মামলাতেও তার নাম উঠে আসে। ওই মামলায় আনোয়ারা উপজেলার নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী মোজাম্মেল হকসহ ৪৪ জনকে আসামি করা হয়। বন্দর ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে যুবলীগের এক কর্মীকে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছিল। সেই ঘটনায় মোজাম্মেল হককেও আসামি করা হয়।
এ বিষয়ে মোজাম্মেল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপরে প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়েই জেটিটি নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছর বন্দর কর্তৃপকে নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করে অনুমতির নবায়ন করে থাকে। প্রায় চার থেকে পাঁচ বছর আগে জেটিটি নির্মাণের পর সেখানে ক্রেন স্থাপন করা হয় এবং এরপর থেকে নিয়মিতভাবে পাথর ওঠানামা চলছে। তার দাবি, সব কিছু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপরে অনুমোদন ও শর্ত মেনেই করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরের এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (এস্টেট-২) মোহাম্মদ রায়হান উদ্দিন জানান, অভিযোগের বিষয়টি তার জানা নেই। তবে নদী ভরাট করে অবৈধভাবে জেটি নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। এমন কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।



