২০ কোটি টাকার অনুদান ফেরত চায় মহিলা ক্রীড়া সংস্থা

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বরাদ্দ দেয়া ২০ কোটি টাকার অনুদান বাতিলের ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থায়। এই অনুদান বাতিলের ঘটনা খতিয়ে দেখতে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা। একইসাথে বিষয়টি সমাধানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সহযোগিতাও কামনা করেছেন তিনি। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে তাদের অভিযোগ, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ফেডারেশনকে দেয়া ২০ কোটি টাকার অনুদান সংস্থার সাথে কোনো ধরনের পূর্ব যোগাযোগ ছাড়াই ফেরত নেয়া হয়েছে।

ধানমন্ডিতে ক্রীড়া সংস্থার কার্যালয়ে শনিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শুক্লা বলেন, ‘সংস্থার অনুকূলে ২০ কোটি টাকার একটি অনুদান বরাদ্দ ছিল, যা দু’টি স্থায়ী আমানত (এফডিআর) হিসেবে রাখা হয়েছিল। এই আমানত থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ দিয়ে আমরা পরিচালন ব্যয়, প্রতিযোগিতা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতাম।’ তিনি আরো বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশে এবং তৎকালীন মুখ্য সচিব মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন মিয়ার স্বাক্ষরিত আদেশের ভিত্তিতে সোনালী ব্যাংকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় করপোরেট শাখা এফডিআরগুলো নগদায়ন করেছে।’ শুক্লার দাবি, নির্ভরযোগ্য সূত্রে তারা জেনেছেন, এই অর্থ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে দেয়া হয়নি; বরং প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, এই অনুদান বাতিলের ফলে ক্রীড়া সংস্থাটি কার্যত আর্থিকভাবে পঙ্গু হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। ১৯৭২ সাল থেকে গত ৫৪ বছর ধরে এই সংস্থা বাংলাদেশে নারী ও মেয়েদের ক্রীড়া বিকাশে কাজ করে আসছে। তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিভা অন্বেষণ, প্রশিক্ষণ প্রদান এবং বিভিন্ন ফেডারেশনকে সহায়তা করতে সংস্থাটি নিরলসভাবে কাজ করেছে। আমরা পরিচালন ব্যয় মেটাতে এফডিআরের লভ্যাংশের ওপর নির্ভরশীল ছিলাম। এই সহায়তা প্রত্যাহার করায় আমরা এখন আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে।’

ক্রীড়া সংস্থার তথ্যমতে, ২০২২ সালের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ১০ কোটি টাকা এবং ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আরো ১০ কোটি টাকা অনুদান দেয়া হয়। পুরো অর্থ সোনালী ব্যাংকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় করপোরেট শাখায় এফডিআর হিসেবে রাখা হয়েছিল। কর্মকর্তারা জানান, ২০২৪ সালের আগস্টে বিগত সরকারের পতনের পরও সুদের অর্থ পাওয়া অব্যাহত ছিল এবং সর্বশেষ কিস্তি পাওয়া যায় ২০২৫ সালের আগস্টে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় গঠিত বর্তমান অ্যাডহক কমিটি ২০২৫ সালের অক্টোবরে দায়িত্ব নেয়ার পর আর কোনো সুদের অর্থ পায়নি ফেডারেশন।অর্থ আসা বন্ধ হয়ে গেলে গত বছরের ডিসেম্বরে ফেডারেশনের হিসাবরক্ষক সোনালী ব্যাংকের করপোরেট শাখায় চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানতে চান। তবে ব্যাংক লিখিত কোনো জবাব দেয়নি। এমনকি সশরীরে যোগাযোগ করেও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা মেলেনি। পরে গত ৬ মে ব্যাংক মৌখিকভাবে জানায়, ড. ইউনূস নেতৃত্বাধীন সরকার ২০ কোটি টাকার অনুদান বাতিল করেছে এবং অর্থ প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে ফেরত নেয়া হয়েছে।

ফেডারেশনের পক্ষ থেকে অনুদানটি দ্রুত ফিরিয়ে দেয়ার আহ্বান জানান শুক্লা। তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারের কাছে, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত আবেদন জানাই, যেন এই ২০ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় অনুদান আমাদের ফিরিয়ে দেয়া হয়। ’