নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ নেতাদের নামে শোক প্রস্তাব করা হয়েছে। সংসদে আলোচনা শেষে শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয়।
গতকাল অধিবেশনের প্রথম দিন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর সংক্ষিপ্ত বিরতি শেষে রেওয়াজ অনুযায়ী শোকপ্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিভিন্ন ব্যক্তির নাম সংসদে উপস্থাপন করেন। এ সময় সরকারদলীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি সাবেক শিল্প ও কৃষিমন্ত্রী জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ছাড়াও ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মশিউর রহমানের নাম শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।
এরপর বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান বক্তব্য দিতে উঠে বলেন, শোকপ্রস্তাবে কিছু নাম বাদ পড়েছে। সেগুলো বলার জন্য তিনি বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে কথা বলার অনুরোধ করেন। স্পিকার তাকে মাইক দেন। ডা: তাহের বলেন, শোকপ্রস্তাব একপেশে করে তৈরি করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সংসদকে নিরপেক্ষ ও প্রাণবন্ত করতে আরো সচেতন হওয়া দরকার। এ সময় তিনি আরো কয়েকজনের নাম বলে সেগুলো শোকপ্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। তার বক্তব্যে শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, আবদুস সোবহান, শেখ আনছার আলী, রিয়াসাত আলী, আবদুল খালেক মণ্ডল, হাফেজা আছমা খাতুন, রোকেয়া আনছার, সুলতানা রাজিয়া, রাশেদা খাতুন, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, এ কে এম ইউসুফ, নাজির আহমেদ, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লা এবং মীর কাসেম আলীর নাম আসে। তাহের বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনার প্রসঙ্গে শোকপ্রস্তাবে ‘জামায়াতে ইসলামী’র বদলে ‘হেফাজতে ইসলামী’ বলা উচিত। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নিহতদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সেখানে ‘প্রায় দুই হাজার শহীদের’ কথা বলেন এবং শরিফ ওসমান হাদীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধীদলীয় উপনেতা যাদের নাম বলেছেন, সেগুলো শোকপ্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এ ছাড়া এনসিপির আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম শহীদ শরিফ ওসমান হাদী, শহীদ আবরাব ও শহীদ ফেলানি খাতুনের নাম শোক প্রস্তাবে অর্ন্তভুক্ত করার দাবি জানান। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানান। তিনি নামও যুক্ত করে নেন। সংসদে আলোচনা শেষে শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয়।
বৃহস্পতিবার স্পিকার নির্বাচনের পর তার সভাপতিত্বে প্রথম অধিবেশন শুরু হলে বেগম খালেদা জিয়াসহ দেশী-বিদেশী বিশিষ্ট জন, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নিহত এবং মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে শোকপ্রস্তাব আনা হয়।
তার আগে মৃতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ মৃতদের রূহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করেন।
এ ছাড়া খালেদা জিয়ার শোকপ্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম, কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং ঠাকুরগঁাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।



