নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর মীরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় রাখা আলোচিত অ্যালবিনো মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-এর নাম প্রদর্শন এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দেশের রাষ্ট্রপতির নামের বানান ভুল লেখার ঘটনায় জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা: মো: আতিকুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার। একই সাথে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
গত শনিবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: দেলোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে ওই কর্মকর্তাকে বরখাস্তের তথ্য উঠে আসে। যদিও এই প্রজ্ঞাপনে মহিষের নাম ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ সংবলিত সাইনবোর্ড রাখা কিংবা নামের বানান ভুল লেখার বিষয়টি উল্লেখ নেই।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিসিএস (পশুপালন) ক্যাডারের কর্মকর্তা ও জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা: মো: আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সাথে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন। তবে প্রজ্ঞাপনে অভিযোগের প্রকৃতি উল্লেখ করা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, সম্প্রতি জাতীয় চিড়িয়াখানায় রাখা আলোচিত অ্যালবিনো মহিষটির পরিচিতি ফলকে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-এর পরিবর্তে ‘ডোনাল্ড ট্টাম্প’ লেখা হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং পরে সরকারের উচ্চপর্যায় পর্যন্ত গড়ায়। সূত্রের দাবি, শুধু বানান ভুল নয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে একটি মহিষের নাম সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রদর্শনী বোর্ডে রাখা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। একজন প্রভাবশালী দেশের রাষ্ট্রনেতার নামে প্রাণীর নাম প্রদর্শন এবং পরে সেই নামও ভুলভাবে লেখা গ্রহণযোগ্য মনে করা হয়নি। বিষয়টি উচ্চপর্যায় পর্যন্ত গিয়েছিল। বিব্রতকর এই পরিস্থিতিতে চিড়িয়াখানার কিউরিটেরকে বরখাস্তসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা যায়।
একই দিন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রজ্ঞাপনে ডা: মো: আতিকুর রহমানকে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের পরিচালক (সমমান) পদে বদলি করা হয়। তাকে লিভ, ডেপুটেশন অ্যান্ড ট্রেনিং রিজার্ভে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। একই প্রজ্ঞাপনে ডা: মো: হাবিবুর রহমানকে জাতীয় চিড়িয়াখানার নতুন কিউরেটর হিসেবে পদায়ন করা হয়।
পবিত্র ঈদুল আজহার আগে দেশজুড়ে আলোচনায় আসে প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের বিরল অ্যালবিনো মহিষটি। গোলাপি-সাদা রঙ, মাথার সামনের সোনালি চুল এবং শারীরিক বৈশিষ্ট্যের কারণে খামারিরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম অনুসারে এর নাম রাখেন।
পরে মহিষটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার পায়। সরকার প্রাণীটিকে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে সেটিকে জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর করা হয়। চিড়িয়াখানায় প্রদর্শনের সময় পরিচিতি ফলকে ‘ডোনাল্ড ট্টাম্প’ লেখা হলে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সমালোচনার মুখে পড়ে ফলক পরিবর্তন করা হয় এবং মহিষটির নাম ‘সাদা মহিষ’ হিসেবে প্রদর্শন করা শুরু হয়।



