সিলেট ব্যুরো
ফাল্গুনের শেষ লগ্নে শুক্রবার সিলেটে নেমেছিল মৌসুমের প্রথম বৃষ্টি। সেই সাথে প্রথম দিনেই হানা দেয় কালবৈশাখী ঝড়। মৌসুমের প্রথম দিনেই সিলেটে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৮১ মিমি। গ্রীষ্মকালীন ফলের পাশাপাশি বোরো ধানও বৃষ্টির অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দীর্ঘ খরা শেষে বৃষ্টি হওয়ায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে প্রকৃতি, ফসল ও ফলমূল।
জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ৬টা দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৬ ঘণ্টায় ৮১ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমের প্রথম দিনেই বিগত কয়েক বছরের মধ্যে এটাই সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। তবে বৃষ্টির পাশাপাশি আকস্মিক ঝড়ের কারণে বিভিন্ন স্থানে গাছ ও খুঁটি উপড়ে যায়। বিদ্যুৎ লাইনেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘœ ঘটে।
আবহাওয়া অফিস জানায়, শুক্রবার ভোর থেকে সিলেট নগরী, জেলা ও বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় আকাশ কালো করে বইতে থাকে শীতল বাতাস। দিনের শুরুতেই প্রকৃতির এই পরিবর্তনে নগরবাসীর মধ্যে স্বস্তির অনুভূতি ফিরে আসে। তবে আকাশের প্রচণ্ড গর্জন ও ঝড়ে উদ্বেগও দেখা দেয়।
ভোর থেকে হালকা বৃষ্টি শুরু হলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে থাকে। সকাল ৯টার দিকে নগরীতে শুরু হয় টানা বৃষ্টিপাত, যা একটানা চলতে থাকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। তিন ঘণ্টার এই বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যায়।
আবহাওয়া অধিদফতর সিলেটের তথ্যমতে, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সিলেটে ৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত আরো ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। সব মিলিয়ে দিনের প্রথম ছয় ঘণ্টায় মোট ৮১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে গতকাল সকালেও সিলেটে বৃষ্টি হয়েছে। দুই দিন ধরে আকাশ মেঘলা রয়েছে। সারাদিন রোদের দেখা মেলেনি । আরো কয়েকদিন বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ১৭ মার্চ পর্যন্ত সিলেট বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি, ঝড়ো হাওয়া এবং বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। তাই ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতের সময় জনসাধারণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।
এদিকে দীর্ঘ শুষ্ক মৌসুমের শেষে এই বৃষ্টি ধানের জন্য উপকারী হওয়ায় বোরো ধানচাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের নভেম্বর থেকে সিলেটে বৃষ্টির দেখা নেই বললেই চলে। বৃষ্টির অভাবে বোরো ধান ও চা উৎপাদন হুমকির মুখে পড়ে। স্বস্তির বৃষ্টিতে বোরো ধান ও চা উভয়ই উপকৃত হবে। তবে এর মধ্যে শঙ্কাও আছে, যদি বৃষ্টিপাত দীর্ঘায়িত হয়।



