ক্রীড়া প্রতিবেদক
জয় দিয়ে পুরুষ এশিয়ান গেমস বাছাইপর্ব শুরু করল বাংলাদেশ হকি দল। গতকাল থাইল্যান্ডের ব্যাংককে রয়্যাল থাই এয়ারফোর্স মাঠে অনুষ্ঠিত ‘বি’ গ্রুপে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে শুভ সূচনা করেছে বাংলাদেশ। হভশ গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচ জিতেছে আশিকুজ্জমান ও রাজীবের দল। চাইনিজ তাইপেকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে এগিয়ে গেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। আজ নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ৬ এপ্রিল শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান। এই টুর্নামেন্ট হওয়ার কথা ছিল ওমানের মাসকাটে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে ভেনু বদলেথ- সেটা এখন ব্যাংককে হচ্ছে। চায়নিজ তাইপের বিপে এটি বাংলাদেশের টানা চতুর্থ জয়। এর আগে গত বছর এশিয়া কাপে তাদের ৮-৩ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল আশরাফুল-রাকিবুলরা। এর আগে দলটির বিপে ৪-২ এবং ১১-৩ গোলের বড় জয় পাওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে বাংলাদেশের।
ম্যাচের শুরুতে চার মিনিটে লি চি শুয়ান গোল করে চাইনিজ তাইপেকে এগিয়ে দেন। পরে বাংলাদেশ দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে। ১-১ সমতা নিয়ে প্রথম কোয়ার্টার শেষ হয়েছিল। এই ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে ১৫ ও ২২ মিনিটে দু’টি গোল করেন আশরাফুল ইসলাম। বিরতির পর আক্রমণ আরো ধারালো করে লাল-সবুজরা। যুব হকি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা আমিরুল ইসলাম জাতীয় দলের জার্সিতেও নিজের মুন্সিয়ানা দেখান। তৃতীয় কোয়ার্টারে দুর্দান্ত এক পিসি গোলে ব্যবধান ৩-১ করেন তিনি। চতুর্থ কোয়ার্টারের ৫৯তম মিনিটে দ্বীন ইসলাম ইমন গোল করলে ৪-১ ব্যবধানে বাংলাদেশের জয় যখন প্রায় নিশ্চিত মনে হচ্ছিল, তখনই শুরু হয় আসল নাটকীয়তা। চাইনিজ তাইপে শেষ কোয়ার্টারে দু’টি গোল দিয়ে শোধ দিয়ে চমক সৃষ্টি করে।
গ্রুপ ‘বি’-তে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা, চাইনিজ তাইপে এবং উজবেকিস্তান। বাছাই পর্ব থেকে শীর্ষ চারটি দল এশিয়ান গেমসে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর জাপানের আইচি ও নাগোয়া শহরে হবে এশিয়ান গেমস। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ১১ বার এই বৈশ্বিক আসরে অংশ নিয়েছে। ১৯৭৮ এবং ২০১৮ সালে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করাই ছিল এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের হকির সর্বোচ্চ সাফল্য।
ম্যাচ শেষে কোচ হেদায়েতুল ইসলাম রাজীব জানান, ‘পুরো মাঠ আমাদের নিয়ন্ত্রণেই ছিল। ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সবাই একটু অসহনীয় ছিল। টেন্টে আমাদের অবস্থাই খারাপ হয়েছিল আর ওরা তো মাঠে খেলেছে। রকি তো এক পর্যায়ে বমি করে দিয়েছে। তা ছাড়া টার্ফটি একেবারে নতুন, সিøপি এবং বাউন্সি। পানি তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়।’ তিন আরো বলেন, ‘৪-১ গোলে লিডে ছিলাম। শেষ মুহূর্তে অতি আত্মবিশ্বাসে একটু গা-ছাড়া ভাব হওয়াতে তিন মিনিটে দু’টি গোল হজম করতে হয়েছে। এ থেকে শিক্ষা নিয়ে বলতে পারি, পরবর্তীতে আর হাল ছাড়া যাবে না ম্যচের শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত। ছেলেরা প্রতিটি বিভাগে ফুল এফোর্ট দিয়েছে। যার ফল এই জয়।’



