নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) সহসভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেছেন, ঘোষিত হতে যাওয়া বাজেটের মূল কাঠামোতে এখনো সেই পতিত স্বৈরাচারের আমলাতান্ত্রিক অপচয় ও প্রদর্শনীবাদী অর্থনীতির ভূত সওয়ার হয়ে আছে। ঋণনির্ভর ফাঁপা বড় বাজেট দিয়ে নয়, বরং রাষ্ট্রীয় কোষাগারকে লুটেরামুক্ত করে এবং দেশের প্রতিটি পয়সার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করেই একটি স্বনির্ভর ও মর্যাদাসম্পন্ন অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব। অপচয় ও আধিপত্যবাদবিরোধী সঙ্কুচিত ও প্রয়োজনীয় ব্যয়ভিত্তিক বাজেট দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে পল্টনের শফিউল আলম প্রধান মিলনায়তনে জাগপা আয়োজিত ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনা, অপচয় ও আধিপত্যবাদবিরোধী পথনকশা’ শীর্ষক আয়োজনে তিনি বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনায় এসব কথা বলেন।
জাগপা মুখপাত্র আরো বলেন, ‘আজকে আমাদের উপস্থাপিত এই বাজেট পথনকশা কোনো নিছক তাত্ত্বিক সংখ্যার খেলা নয়। এটি এদেশের সাধারণ করদাতাদের লুণ্ঠিত অর্থের সুরা, তরুণ-যুবকদের মর্যাদা এবং আমাদের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব রার এক অমোঘ দলিল।
আমরা নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারকে স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করতে চাই, জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তের ঋণে কেনা এই বাংলাদেশে আমলাতান্ত্রিক অপচয় ও আধিপত্যবাদের চক্রে ফেলে আবার কলঙ্কিত করবেন না।
জাগপার প থেকে ৭.৫০ লাখ কোটি টাকার সঙ্কুচিত ও প্রয়োজনীয় ব্যয়ভিত্তিক বাজেট প্রস্তাবনা দেখা হয়েছে।
অপচয় ও অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প ছাঁটাই করে অভ্যন্তরীণ ঋণ গ্রহণ শূন্যের কোঠায় আনার মাধ্যমে ঘাটতি পূরণ, কালো টাকা শ্বেতকরণ সম্পূর্ণ বাতিল এবং পাচারকৃত ২৮ লাখ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করা, ফ্যামিলি কার্ড বা অন্যান্য কার্ডের নামে রাষ্ট্রীয় আমলাতন্ত্র ও রাজনৈতিক মধ্যস্বত্বভোগীদের পেছনে অর্থ অপচয় বাতিল করে সরাসরি স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল ক্যাশ ট্রান্সফার, কর ব্যবস্থা ও ব্যক্তি করমুক্ত সীমা পাঁচ লাখ টাকায় উন্নীতকরণ এবং হয়রানিমুক্ত ‘ফেসলেস কর ব্যবস্থা’ চালুকরণ, অগ্রিম কর ও ভ্যাট সম্পূর্ণ বিলুপ্তকরণ, নারী ও এসএমইদের জন্য বিশেষ কর অবকাশ, শিা ও স্বাস্থ্য খাতে ক্রমান্বয়ে জিডিপির ৬ শতাংশে উন্নীতকরণ ও স্বাধীন জনস্বাস্থ্য সুরা অধিদপ্তর গঠন, তরুণ-যুব কর্মসংস্থানে এক হাজার কোটি টাকার ‘উদ্যোক্তা সংযোগ কর্মসূচি’ ও গ্রামীণ কাজের বিনিময়ে কর্মসূচি, শর্তযুক্ত ঋণের দাসত্ব বর্জন ও জিডিপির ৫ শতাংশ সার্বভৌমত্ব ও প্রতিরা বরাদ্দসব নানাবিধ প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- জাগপা সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য আসাদুর রহমান খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ সফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: আকরাম হোসেন, সহসাংঠনিক সম্পাদক সাব্বির আহমেদ, সহপ্রচার সম্পাদক মো: সাইফউদ্দিন, যুব জাগপা সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবলু, সাংগঠনিক সম্পাদক ওলিউল আনোয়ার, জাগপা ছাত্রকাফেলা ঢাকা মহানগর সাধারণ সম্পাদক ইমরান হাসান রাহুল প্রমুখ।



