ক্রীড়া ডেস্ক
টসে জিতে বড় আশা নিয়েই শ্রীলঙ্কাকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিল ওমান। ধারণা ছিল পাল্লেকেলেতে স্বাগতিকদের চেপে ধরে জয়ই তুলে নেবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। আসলে অপেশাদার আর বিদেশী রিক্রুট খেলোয়াড় দিয়ে ছোটখাটো কয়েকটি চমক দেখানো যায়। ম্যাচ জেতা কঠিন। স্পিন অলরাউন্ডার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার অনুপস্থিতি বুঝতেই দেননি লঙ্কান ক্রিকেটাররা। বল হাতে দুশমান্দে চামেরা, মাহেশ থিকাসানারা কোমড় ভেঙে দিয়েছেন ওমানি ব্যাটিং লাইন আপের। ৯ উইকেটে ১২০ রান তুলতেই ওমানের শেষ নির্ধারিত ২০ ওভার। আর এর আগে দাসুন শানাকা ও পাবান রতœায়েকের ঝড়ে পাঁচ উইকেটে ২২৫ রানের ইনিংস। এর যোগ ফলেই চলমান টি-২০ বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় জয় শ্রীলঙ্কার। ‘বি’ গ্রুপে আইরিশদের ২০ রানে হারানোর পর কাল ওমানকে ১০৫ রানে বিধ্বস্ত করা। ম্যাচসেরা হয়েছেন পাবান রতœায়েকে।
শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি সাবেক চ্যাম্পিয়নদের। দ্বিতীয় ওভারেই ওপেনার কামিল মিশ্রতে হারায় তারা। দলের স্কোর তখন ১৫। কামিলের সংগ্রহ ৮। ৬ষ্ঠ ওভারের প্রথম বলেই প্যাভিলিয়নে পাথুম নিশাংকা। তার ব্যাটে তখন ১৩ রান। দলীয় স্কোর তখন ৪২। এরপরই লঙ্কানদের রান বন্যা। ম্যাচে ইতিহাস গড়েছেন অধিনায়ক দাসুন শানাকা। টি-২০তে লঙ্কানদের হয়ে দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরির নজির গড়েছেন তিনি। ভেঙেছেন নিজের রেকর্ডই। ২০২৩ সালে ভারতের বিপক্ষে করেছিলেন ২০ বলে ফিফটি। কাল ১৯ বলে অর্ধশত রান করেন। শানাকা শেষ পর্যন্ত ২০ বলে ৫০ রান করেই ফিরেছেন। এতে ছিল দু’টি চার ও ৫টি ছক্কা। তাণ্ডব চালিয়েছেন পাবান রতœায়েকেও। ২৮ বলে ৬০ রান করে তিনি। পাবান অবশ্য আটটি বাউন্ডারি মেরেছেন। ছক্কা হাঁকিয়েছেন মাত্র একটি। ফিফটি হাঁকিয়েছেন কুশাল মেন্ডিসও। এ উইকেটরক্ষক ব্যাটার অবশ্য বল বেশি খেলেছেন। তার ৬১ রান তুলতে বল ব্যয় হয়েছে ৪৫টি। ওভার বাউন্ডারি ছিল না। ছিল সাতটি বাউন্ডারি। এরপর কামিন্দু মেন্ডিস শেষ দিকের ঝড়ে ভর করে স্বাগতিকদের বিশাল সংগ্রহ। কামিন্দু সাত বলে ১৯ রান করেছেন। ছিল দু’টি ছক্কা ও একটি চার। এতে চলতি টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত এটি সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। পাঁচ উইকেটে ২২৫ রান করে তারা। লঙ্কানরা ভেঙেছেন এবার আহমেদাবাদে কানাডার বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার করা চার উইকেটে ২১৩ রানকে। ওমানের বোলারদের মধ্যে জিতেন রামানন্দি ৪১ রানে দুই উইকেট নেন।
জবাবে ওমান ৫.৫ ওভারে ৩৬ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে। তৃতীয় উইকেট জুটিতে মোহম্মদ নাদিম ও ওয়াসিম আলী হাল ধরেন। এতে অবশ্য দলের স্কোর ১০০ পেরুতে পেরেছে। দলের পক্ষে এ দু’জনই দুই অঙ্কের কোটা অতিক্রম করতে পেরেছেন। অবশিষ্ট বড় সংগ্রহ ১৫ রান এসেছে অতিরিক্ত থেকে। মোহাম্মদ নাদিম ৫৬ বলে ৫৩ রানে অপরাজিত থাকেন। ছিল তিনটি চার ও একটি ছয়। ওয়াসিম আলী তিন ছক্কায় ২০ বলে ২৭ রান করেন। বল হাতে লঙ্কানদের হয়ে ১১ রানে দু’টি উইকেট নেন মাহিশ থিকশানা। ১৯ রানে দু’টি নেন দুশমন্থ চামিরাও। শেষ চার ওভারে ৫৪ তোলে লঙ্কানরা।
সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতে ধারাবাহিকতা না থাকায় শানাকা চাপে ছিলেন। যদিও অবশেষে জবাব দিয়েছেন সমালোচকদের।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
শ্রীলঙ্কা : ২০ ওভারে ২২৫/৫ (কুশল মেন্ডিস ৬১, রতœায়েকে ৬০, শানাকা ৫০; রামানন্দি ২/৪১, সুফিয়ান ১/৬০)।
ওমান : ২০ ওভারে ১২০/৯ (নাদিম ৫৩*, ওয়াসিম ২৭; তিকশানা ২/১১, চামিরা ২/১৯, ভেল্লালাগে ১/১৭)।
ফল : শ্রীলঙ্কা ১০৫ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা : পাবান রতœায়েকে (শ্রীলঙ্কা)।



