নওগাঁয় ৪ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা কো-অপারেটিভ সোসাইটি

প্রধান কার্যালয়ে তালা ঝুলছে পরিচালকসহ কর্মকর্তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না

Printed Edition

আব্দুর রশীদ তারেক নওগাঁ

নওগাঁয় গ্রাহকদের প্রায় চার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আলোচনায় এসেছে উদয়ের পথে মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে তালা ঝুলতে দেখা গেছে এবং পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন আমানতকারীরা। এতে শতাধিক গ্রাহক চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

গতকাল বুধবার সকালে নওগাঁ সদর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের ধামকুড়ি এলাকায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, অফিসটি বন্ধ। পরিচালক আসাদুজ্জামান টিটু ও সহকারী ম্যানেজার মাসুদ রানা বিদ্যুতের বাড়িতেও তাদের পাওয়া যায়নি।

অফিসের সামনে অপেক্ষমাণ গ্রাহক হারুন-অর-রশীদ জানান, তিনি পাঁচ লাখ টাকা আমানত রেখেছিলেন। প্রথম দিকে মুনাফা পেলেও কয়েক মাস ধরে কোনো টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

মারুফা বিবি নামে এক গ্রাহক বলেন, সাত বছর আগে তিনি ৭০ হাজার টাকা জমা রেখেছিলেন। অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য টাকা তুলতে গেলে বারবার ঘুরতে হয়েছে, কিন্তু টাকা ফেরত পাননি।

স্থানীয় বাসিন্দা মতিউর রহমান জানান, প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরুতে স্বাভাবিক থাকলেও করোনা পরবর্তী সময়ে আর্থিক সঙ্কট দেখা দেয়। গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করা হলেও ঋণ বা মুনাফা বিতরণ বন্ধ হয়ে যায়। পরে ধাপে ধাপে আসল টাকা ফেরতের আশ্বাস দেয়া হলেও বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

নীলা বেগম ও মজনু মিয়া নামের দুই আমানতকারী জানান, সন্তানদের ভবিষ্যৎ ও পারিবারিক প্রয়োজনের কথা চিন্তা করে তারা লাখ লাখ টাকা জমা রেখেছিলেন। এখন সেই টাকা ফেরত পাওয়ার অনিশ্চয়তায় তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩০ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি সঞ্চয়, ডিপিএস ও আমানত সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রামের সাধারণ মানুষকে বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করা হতো।

নওগাঁ সদর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চলতি বছর প্রতিষ্ঠানে অডিট পরিচালনার সময় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। এ কারণে ১৫ দিন আগে প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন বাতিলের নোটিশ দেয়া হয়। তবে কর্মকর্তাদের আত্মগোপনের বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।