আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর (মানিকগঞ্জ)
স্ত্রীকে পাশে নিয়ে মিষ্টির দোকানে পছন্দের মিষ্টি কিনছেন জামাই, একটু দূরে মাছের বাজারে চলছে দরদাম। কোথাও পরিবার নিয়ে কেনাকাটা, কোথাও আবার আড্ডা আর হাসি-আনন্দে মেতে উঠেছেন আত্মীয়স্বজন। এমন উৎসবমুখর পরিবেশ এখন মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার পুরানগ্রামে। প্রথমবারের মতো আয়োজিত চার দিনব্যাপী ‘জামাই মেলা’কে ঘিরে গ্রামজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।
পুরানগ্রাম গোল্ড স্টার ক্লাবের উদ্যোগে গত ২৯ মে শুরু হওয়া এ মেলা চলবে ১ জুন পর্যন্ত। দ্বিতীয় দিন থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। আয়োজকদের মতে, সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি, আত্মীয়তার বন্ধন সুদৃঢ় করা এবং গ্রামীণ ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
মেলাকে কেন্দ্র করে পুরানগ্রাম, বাষ্টিয়া, বালিয়াখোড়া, পেঁচারকান্দা, কাউটিয়া ও সাতবাড়িয়াসহ আশপাশের অন্তত ১০ থেকে ১২টি গ্রামের মেয়ে-জামাইদের দাওয়াত করে আনা হয়েছে। ফলে ঈদের পরও এলাকায় উৎসবের আবহ বিরাজ করছে। আত্মীয়স্বজনের আগমনে বাড়িগুলোতে বেড়েছে প্রাণচাঞ্চল্য, আর বিকেল হলেই পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই ছুটছেন মেলা প্রাঙ্গণে।
মেলায় মাছ, মিষ্টি, কসমেটিকস, খেলনা, গৃহস্থালি সামগ্রী ও বিভিন্ন ধরনের খাবারের দোকান বসেছে। বিশেষ করে জামাইদের আপ্যায়নের জন্য মাছ, মিষ্টি ও উপহারসামগ্রী কেনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন স্বজনরা। শিশু থেকে প্রবীণ- সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে মেলা হয়ে উঠেছে প্রাণবন্ত।
দর্শনার্থী লোকমান মোল্লা বলেন, ‘গ্রামে এমন আয়োজন এখন খুব একটা দেখা যায় না। পরিবার নিয়ে এসে ভালো লাগছে। পুরনো দিনের উৎসবের আবহ ফিরে পেয়েছি।’ রেবেকা সুলতানা বলেন, ‘শিশুদের নিয়ে ঘুরতে এসেছি। কেনাকাটার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও উপভোগ করছি।’
মেলায় ঘুরতে আসা জামাতা মো: সোহাগ বলেন, ‘শ্বশুরবাড়ির সবাইকে নিয়ে মেলায় এসেছি। স্ত্রী ও শ্যালিকাদের সাথে কেনাকাটা করছি। এমন আয়োজন আত্মীয়তার সম্পর্ক আরো দৃঢ় করে।’
প্রবীণ জামাতা আলাউদ্দিন মিয়া বলেন, ‘আগে ঈদ-পার্বণে আত্মীয়স্বজনের মধ্যে যে মিলনমেলা হতো, এখন তা অনেকটাই কমে গেছে। এই মেলা সেই পুরনো দিনের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে।’
মেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী মঞ্চনাটক ‘মায়ের আঁচল’। পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পীদের নাচ-গান দর্শকদের বাড়তি বিনোদন দিয়েছে।
মেলা উদযাপন কমিটির সদস্যসচিব সুমন দেওয়ান শাকিব বলেন, প্রথম আয়োজনেই ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে এ মেলা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, আধুনিকতার এই সময়ে এমন আয়ে#াজন শুধু বিনোদনের নয়, পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক জোরদারেরও একটি কার্যকর মাধ্যম। তাদের আশা, ‘জামাই মেলা’ এক সময় পুরানগ্রামের স্থায়ী ঐতিহ্যে পরিণত হবে।



