নয়া দিগন্ত ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ) সম্প্রতি প্রকাশিত ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে ভারতের ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতকে ‘বিশেষ উদ্বেগের দেশ’ হিসেবে ঘোষণা করার পাশাপাশি ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (র) এবং কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর ওপর লক্ষ্যভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২৫ সালে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা এবং বৈষম্য আরো বেড়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে ধর্মান্তরবিরোধী আইন কঠোর করার পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের উপাসনালয় এবং সামাজিক কার্যক্রমকে লক্ষ্য করে নতুন বিধান প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা হয়েছে।
সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা
ইউএসসিআইআরএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিন্দু জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলো সারা বছর বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের বিরুদ্ধে হয়রানি, উসকানি এবং সহিংসতায় জড়িত। উদাহরণস্বরূপ, মার্চে মহারাষ্ট্রে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)-এর দাবি অনুযায়ী মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সমাধি অপসারণকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। জুনে উড়িষ্যায় ভিএইচপি আয়োজিত বিক্ষোভের সময় কুরআন অবমাননার অভিযোগে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন। এছাড়া কাশ্মিরে হিন্দু পর্যটকদের ওপর বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন নিহত হন, যা ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পাঁচ দিনের সংঘাতের দিকে নিয়ে যায়।
রোহিঙ্গা ও নাগরিক বহিষ্কারের অভিযোগ : প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, মে মাসে ৪০ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আটক করে মিয়ানমারের সমুদ্রসীমার কাছে ফেলে দেয়ার অভিযোগ ওঠে। এছাড়া জুলাইয়ে আসাম থেকে শত শত বাংলা ভাষাভাষী মুসলিমকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকে ভারতীয় নাগরিক।
ইউএসসিআইআরএফ সুপারিশ করেছে, আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা আইন অনুযায়ী ভারতকে সিপিসি হিসেবে ঘোষণা করা যেতে পারে। আরএসএস-এর মতো সংগঠনের বিরুদ্ধে সম্পদ বাজেয়াপ্ত, তাদের নেতাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ এবং লক্ষ্যভিত্তিক অন্যান্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ধর্মীয় স্বাধীনতার উন্নতির সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের নিরাপত্তা সহায়তা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক যুক্ত করার পরামর্শও রয়েছে। তবে এই সুপারিশগুলো কেবল নীতিগত এবং এগুলো কার্যকর হওয়া হোয়াইট হাউজ ও মার্কিন প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।
সূত্র : দ্য ইকোনমিক টাইমস, ইন্ডিয়া ডটকম



