মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জ পৌর ভূমি অফিসের নিজস্ব স্থায়ী ভবন না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে চলছে সরকারি কার্যক্রম। শতবর্ষী টিন শেড ভবনে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংরক্ষণ ও দাফতরিক কাজ পরিচালনা করতে গিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দীর্ঘদিন ধরে চলমান জমিসংক্রান্ত মামলা জটিলতার কারণে নতুন ভবন নির্মাণও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ মৌজার সিএস ৭, ১৯২ ও ১৫০ নম্বর খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত প্রায় ০.৩৩৯৪ একর জমিতে বর্তমানে পৌর ভূমি অফিস পরিচালিত হচ্ছে। প্রায় ১০৫ বছর ধরে সরকারি কাজে ব্যবহৃত এ জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি বিরোধ চলছে।
ভূমি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জমিটি একসময় বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বোয়ালিয়া এলাকার বিবি আক্রামুননেছা ওয়াকফ এস্টেটের মালিকানাধীন ছিল। জমিদারি প্রথা বিলোপের পর ১৯৫০ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের আওতায় এটি সরকারের খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হয়। পরবর্তীতে ওই জমিতে রাজস্ব অফিস, উপজেলা ভূমি অফিস এবং বর্তমানে পৌর ভূমি অফিস পরিচালিত হয়ে আসছে।
তবে সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, আরএস রেকর্ডে ভুলক্রমে জমিটি হাফিজ উদ্দিন গংয়ের নামে রেকর্ডভুক্ত হওয়ায় শুরু হয় দীর্ঘ আইনি লড়াই। বিভিন্ন সময়ে মুন্সেফ আদালত, জেলা জজ আদালত, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আদালত এবং ভূমি আপিল বোর্ডে একাধিক মামলা ও আপিল দায়ের করা হয়।
১৯৯৩ সালে তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জমিটির নামজারি বাতিল করে পুনরায় খাস খতিয়ানভুক্ত করার আদেশ দেন। পরবর্তী আপিলেও সরকারের সিদ্ধান্ত বহাল থাকলেও ভূমি আপিল বোর্ডে গিয়ে পূর্বের সিদ্ধান্ত বাতিল হয়। বর্তমানে এ সংক্রান্ত দেওয়ানি আপিল মোকদ্দমা নং-৩০৪/২৫ মুন্সীগঞ্জ জেলা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
সম্প্রতি ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম সহকারী কমিশনার (ভূমি), মুন্সীগঞ্জ সদর বরাবর একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। প্রতিবেদনে জমির ইতিহাস, রেকর্ড সংশোধন, নামজারি এবং চলমান মামলার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।



