নিখিল ভারত মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপকার ও দানবীর নবাব স্যার সলিমুল্লাহর ১১১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ মুসলিম লীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন দলীয় সভাপতি জুবায়দা কাদের চৌধুরী।
সভাপতির বক্তব্যে জুবায়দা কাদের চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, ‘নবাব সলিমুল্লাহ, ফজলুল কাদের চৌধুরী ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আধিপত্যবাদী চক্রের নীলনকশার শিকার হতে হয়েছে। ১৯১৫ সালে কলকাতায় নবাব সলিমুল্লাহর মৃত্যু ছিল অত্যন্ত রহস্যজনক। তার কবর পর্যন্ত ছয় মাস ব্রিটিশ সৈন্য দিয়ে পাহারা দেয়া হয়েছিল। একইভাবে আমার পিতা ফজলুল কাদের চৌধুরী ১৯৭৩ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর পর তার শরীরের বর্ণ পরিবর্তন হয়ে যাওয়া প্রমাণ করে যে তাকে বিষপ্রয়োগ করা হয়েছিল। বর্তমানে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেও দীর্ঘ সময় উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছিল।’
নবাব সলিমুল্লাহর ঐতিহাসিক ভূমিকা তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের পর এ অঞ্চলের মুসলিম সমাজ যখন সর্বস্ব হারিয়ে ভিখারিতে পরিণত হয়েছিল, তখন তাদের মুক্তির দূত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন নবাব সলিমুল্লাহ। ১৮৮৫ সালে কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হলেও তা মুসলিম ও নিম্নবর্ণের হিন্দুদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ হয়। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের সময় উচ্চবর্ণের হিন্দু জমিদার ও কংগ্রেস নেতাদের চরম বিরোধিতার মুখে তরুণ নবাব সলিমুল্লাহ উপলব্ধি করেন যে, মুসলিমদের নিজস্ব রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯০৬ সালে ঢাকার শাহবাগে (বর্তমান মধুর ক্যান্টিন এলাকা) উপমহাদেশের ৮০০ মুসলিম নেতার উপস্থিতিতে তার প্রস্তাবে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘নিখিল ভারত মুসলিম লীগ’।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত না হলে ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তি এবং পাকিস্তান সৃষ্টি সম্ভব হতো না। আর সেই ধারাবাহিক পথপরিক্রমায় ১৯৭১ সালে আমরা স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি। নবাব সলিমুল্লাহর শিক্ষা ও রাজনৈতিক দর্শনই আধুনিক বাংলাদেশের ভিত্তিমূল তৈরি করে দিয়েছিল।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন আবুড়ী, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু সাঈদ মোল্লা, অ্যাডভোকেট মো: জসিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নেতা তারেক জমির সজীব, মহিলা মুসলিম লীগের সভানেত্রী ডা: হাজেরা বেগম, সাংগঠনিক সম্পাদক এস আই ইসলাম মিলন এবং কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল খালেক। বক্তারা নবাব সলিমুল্লাহর বর্ণাঢ্য কর্মজীবন ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীর প্রতি তার ত্যাগের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। বিজ্ঞপ্তি।



