নিজস্ব প্রতিবেদক
ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বিশাল এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই সমাবেশ থেকে স্বাধীনতা ঘোষণার আসার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকে মুক্তিকামী মানুষ। রেসকোর্স ময়দানে সমাবেশ অনুষ্ঠানের পর আন্দোলন সংগ্রামের নতুন এক পর্যায় শুরু হয়। সারা দেশে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন চলতে থাকে। হাইকোর্টের বিচারপতি থেকে শুরু করে সব ধরনের অফিস, কলকারখানা পূর্ব বাংলার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশে চলতে থাকে। পাকিস্তান সরকারের শাসনব্যবস্থা তখন পূর্ব পাকিস্তানে কার্যত সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়ে। সৈন্যরা ব্যারাকে অবস্থান নেয়।
৭ মার্চের সমাবেশ সরাসরি বেতারে প্রচারের আয়োজন সত্ত্বেও সামরিক সরকার তা বন্ধ করে দিয়েছিল। এর প্রতিবাদে বেতারের সব কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং কলাকুশলীরা একযোগে বেতার ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন রাস্তায়। হঠাৎ করে বেতারের প্রচারকার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জনমনে নানা সংশয় আর জল্পনা কল্পনা দানা বাঁধতে থাকে। আন্দোলন সংগ্রামের একপর্যায়ে তাদের দাবি মেনে নেয়ায় বেতার এবং টেলিভিশন ২৫ মার্চ পর্যন্ত স্বাধীনভাবে কাজ শুরু করে। পাকিস্তানের পরিবর্তে ঢাকা বেতার ও ঢাকা টেলিভিশন উল্লেখ করেন তারা।
৬ মার্চ পর্যন্ত পরিচালিত হরতাল এবং অসহযোগ আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে সারা দেশে কালো পতাকা উত্তোলন করা হতে থাকে। দেশের বিভিন্ন অফিস আদালত থেকে পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন শুরু হতে থাকে।
দেশের উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে ব্রিটিশ, জামার্নিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা পূর্ব পাকিস্তান ছেড়ে চলে যেতে থাকে। নুরুল আমিন ও খান এ সবুর এক বিবৃতিতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করার দাবি জানান। তখন ইয়াহিয়া খান এক লিখিত বার্তায় জানান, আপনারা যা দাবি করেছেন তার চেয়েও বেশি দিতে আমার আপত্তি নেই। আমি অচিরেই ঢাকা আসছি। তখন বিস্তারিত আলাপ হবে।


