রাজপথে মৃত্যুর হানা

নাটোর ও মেহেরপুরে চার শিশু নিহত

অন্যান্য স্থানে মৃত্যু আরো ৪ জনের

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

নাটোরের বড়াইগ্রাম ও মেহেরপুরের গাংনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় চার শিশু নিহত হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য স্থানে পৃথক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে আরো চারজনের।

বড়াইগ্রাম (নাটোর) সংবাদদাতা জানান, নাটোরের বড়াইগ্রামে ট্রাকের সাথে সংঘর্ষে মাইক্রোবাসে প্রকৌশলী বাবার কোলে থাকা দুই মাস বয়সী ইজাদ ও ইহান (৪) নামে দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা রাজশাহীর লক্ষ্মীপুর এলাকার প্রকৌশলী আকিব হোসেনের ছেলে। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত প্রকৌশলী আকিব হোসেন (৩৫), তার স্ত্রী এমি খাতুন (৩২) এবং মা কণা বেগমকে (৬০) রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা রাজশাহী শহরের নিজ বাড়িতে ঈদ শেষে ঢাকায় ফিরছিলেন বলে জানা গেছে। বনপাড়া হাইওয়ে ওসি মনিরুজ্জামান এবং বনপাড়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বনপাড়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, রাজশাহীতে ঈদ শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই প্রকৌশলী একটি মাইক্রোবাসে সপরিবারে ঢাকায় ফিরছিলেন। মাইক্রোবাসে ওই প্রকৌশলী চালকের পাশের আসনে শিশু সন্তানকে কোলে ও অপর সন্তানকে পাশে বসিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে বড়াইগ্রামের চকপাড়া এলাকায় একটি আমবোঝাই ট্রাকের সাথে ওই মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই দুই মাস বয়সী শিশু ইজাদ নিহত ও অপর চারজন গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে ইহান মারা যায়।

গাংনী (মেহেরপুর) সংবাদদাতা জানান, মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো দু’জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গতকাল দুপুরে দ্রুতগতির একটি ট্রাকের সাথে ইজি বাইকের সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন সদর উপজেলার উত্তরশালিকা গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে ইজিবাইক চালক আরিফ হোসেন, যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার সজীব হোসেনের ছেলে শিশু আবরার হোসেন এবং উত্তরশালিকা গ্রামের মহিন হোসেনের মেয়ে আফরিন।

দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন শিশু আবরার, আফরিন, মাহিন ও মুক্তা খাতুন। আহতদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু আবরার ও আফরিনের মৃত্যু হয়। আহত মাহিন ও মুক্তা খাতুনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ট্রাকটি আটক করতে সক্ষম হলেও চালক পালিয়ে যান।

পিরোজপুর প্রতিনিধি জানান, পিরোজপুর-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কের ডুমুরিতলা এলাকায় বাস ও অটোরিকশার সংঘর্ষে এক কলেজছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আরো দু’জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মারিয়া আক্তার (১৮) সদর উপজেলার বানেশ্বরপুর এলাকার আবুল কালামের মেয়ে। তিনি আফতাব উদ্দিন কলেজের একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিলেন। আহতরা হলেন অটোরিকশা চালক রাসেল (৩৫) এবং মারিয়ার মা হাওয়া বেগম (৪৫)। তাদের বাড়িও বানেশ্বরপুর এলাকায়।

নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) সংবাদদাতা জানান, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে ট্রাকচাপায় এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। ওই স্কুলছাত্রের নাম মো: আলামিন (১১)। দুর্ঘটনায় তার ছোট বোন গুরুতর আহত হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর আঞ্চলিক সড়কের ভাদুরিয়া বাজারের চৌধুরী ফিলিং স্টেশনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় রাস্তা পার হতে গিয়ে একটি দ্রুতগামী পিকআপ ভ্যানের চাপায় ফেরদৌস শিকদার (৪৫) নামে এক ট্রাকচালক নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পাকুন্দিয়া-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের বাইপাস এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ফেরদৌস শিকদার পাকুন্দিয়া পৌর সদরের চরপাকুন্দিয়া গ্রামের মৃত মতিউর রহমানের ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকালে নিজ বাড়ির পাশে সড়কের ধার দিয়ে হাঁটাহাঁটি করছিলেন ফেরদৌস শিকদার। এ সময় পেছন থেকে আসা মুরগিবাহী একটি বেপরোয়া পিকআপ ভ্যান তাকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় পথিমধ্যেই তার মৃত্যু হয়।