প্রস্তুতি শুরু টাইগারদের

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ

বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়া দল ঢাকায় পা রাখবে ৫ জুন। পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ ৪ জুন শেষ করবে তারা। ৯, ১১ ও ১৪ জুন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ওয়ানডে হবে ওয়ানডে সিরিজ। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে বাংলাদেশের জন্য সিরিজটি গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ৮৪ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ৯ম স্থানে আছে টাইগাররা। ৮ম স্থানে থাকা ইংল্যান্ডের পয়েন্ট ৮৯। ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ রথ্যাঙ্কিংয়ে উন্নতির শেষ সময়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শেষ করে লিটন কুমার দাসরা ১৭, ১৯ ও ২১ জুন চট্টগ্রামে খেলবেন তিন ম্যাচ টি-২০ সিরিজ।

ঈদের ছুটিটা বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য ছিল নিজেদের চাঙ্গা করার সুযোগ। পাকিস্তানকে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করার বেশির ভাগ তারকাই পরিবারের সাথে সময় কাটিয়েছেন। তবে ছুটি শেষ, এবার ওয়ানডে ক্রিকেটে মন দেয়ার পালা। আগামী ৯ জুন থেকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শুরু হচ্ছে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। এই সিরিজের প্রস্তুতি নিতে আগামী ৬ জুন থেকে ক্যাম্পে নামার কথা নাজমুল হোসেন শান্তরা। তার আগে রয়েছে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) ব্যস্ততা। মূলত ডিপিএলের কারণেই এই ক্যাম্প কিছুটা পিছিয়ে দেয়া হয়েছিল। দেশের বাইরে ছুটি কাটিয়ে ফিরেছেন লিটন দাস। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন জানিয়েছেন, চোটের কারণে বাদ পড়া তানজিম সাকিব ছাড়া বাকি সব ক্রিকেটারকেই এই সিরিজে পাওয়া যাবে।

২০২৭ বিশ্বকাপের সরাসরি কোয়ালিফিকেশনের হিসাব থাকায় এই ওয়ানডে সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গত শনিবার রাওয়ালপিন্ডিতে স্পিন উইকেটের সুবিধা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে জিতেছে পাকিস্তান। তবে বাংলাদেশও টানা তিনটি ওয়ানডে সিরিজ জিতে দারুণ ছন্দে আছে। তাই টিম ম্যানেজমেন্ট কেমন উইকেট চাইবে তা দেখার বিষয়। চলমান পাকিস্তান সিরিজে না খেললেও বাংলাদেশ সফরে অস্ট্রেলিয়া দলে যোগ দিচ্ছেন ট্রাভিস হেড। তবে অজি স্কোয়াডে অভিজ্ঞ মিচেল স্টার্ক এবং প্যাট কামিন্স না থাকায় বাংলাদেশ পেস বোলিংয়ে কিছুটা সুবিধা পেতে পারে। অবশ্য উইকেট কেমন হবে, তা নিয়ে আগাম কথা বলতে রাজি হননি প্রধান নির্বাচক। অস্ট্রেলিয়ার শক্তি নিয়ে বেশি চিন্তা করাটা কাজের কথা হবে না বলেই মনে করেন তিনি। হাবিবুলের মতে অস্ট্রেলিয়া কঠিন দল এবং তারা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবে।

‘অস্ট্রেলিয়া যদি তাদের দ্বিতীয় সারির দলও পাঠায়, তাও তারা ভালো খেলবে। তাই স্টার্ক বা কামিন্স নেই এসব ভেবে লাভ নেই, কারণ বাকি বোলাররাও বেশ ভালো। তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, কে আসছে আর কে আসছে না, তা নিয়ে আমাদের ভেবে লাভ নেই। যেমন ধরেন, ট্রাভিস হেড আসা বা না আসায় আমাদের পরিকল্পনায় কোনো বদল আসছে না।’

নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সাম্প্রতিক জয়ের আত্মবিশ্বাস কাজে লাগিয়ে টাইগাররা নিজেদের শক্তির জায়গাতেই ভরসা রাখবে। গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠের ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের পেছনে উইকেট থেকে স্পিনাররা বেশ সাহায্য পেয়েছিলেন।

বাংলাদেশের পেস আক্রমণও এখন দারুণ করছে। তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান এবং নাহিদ রানার মতো বোলাররা অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের পরীক্ষা নিতে মুখিয়ে থাকবেন। নাহিদ রানা তার নতুন ক্লাব মোহামেডানের হয়ে ডিপিএল শেষ করে আগামী ৬ জুন ক্যাম্পে যোগ দেবেন। এর পাশাপাশি টাইগারদের স্পিন বিভাগও বেশ শক্তিশালী। হাবিবুলের কথায়, ‘আমাদের রিশাদ আছে, মিরাজও খুব ভালো করছে। পেস আর স্পিন মিলিয়ে আমাদের বোলিং আক্রমণ বেশ চমৎকার।’

অস্ট্রেলিয়া সিরিজে থাকবেন কি আফিফ

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের দলে থাকা আফিফ হোসেন ধ্রুবকে বাদ দেয়া হতে পারে। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে বিবেচনা করা হতে পারে আফিফের জায়গায়। মোসাদ্দেককে নেয়া না হলে নুরুল হাসান সোহান থাকবেন ওয়ানডে দলে ফেরার প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। এমনটাই জানালেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন।