শরীয়তপুর প্রতিনিধি
শরীয়তপুরে হৃদরোগে একজনের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসকের ওপর বর্বরোচিত হামলার হয়েছে। এ সময় উত্তেজিত স্বজনরা দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা: নাসির ইসলামকে টেনেহিঁচড়ে কক্ষ থেকে বের করে দফায় দফায় নির্যাতন ও মারধর করেন। যার ভয়ঙ্কর দৃশ্য ধরা পড়ছে হাসপাতালের সিসিটিভির ফুটেজে। হামলায় রোগীর স্বজন ও বহিরাগতসহ ২০-২৫ জনেরও বেশি মানুষ অংশ নেয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে হামলাকারী সন্দেহে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। আহত চিকিৎসককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকায় নেয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন পৌরসভার উত্তর বিলাসখান এলাকার পঞ্চাশোর্ধ্ব লাল মিয়া কাজী। এ সময় অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: নাসির ইসলাম তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে রেফার করেন; কিন্তু রোগী শরীয়তপুর হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায়ই মারা যান। এ ঘটনায় চিকিৎসকের গাফিলতির অভিযোগ তুলে তার ওপর উত্তেজিত স্বজনরা বর্বরোচিত হামলা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই চিকিৎসককে গতকাল দুপুরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সদর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: নাসির ইসলামকে রুম থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করছে কিছু লোক। এরপর শুরু হয় কিল-ঘুসি। এ সময় তিনি নিজেকে রক্ষায় একাধিকবার চেষ্টা চালালেও ব্যর্থ হন। আঘাতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও ক্ষান্ত হয়নি হামলাকারীরা। এক পর্যায়ে তাকে হাসপাতালের বাইরে নিয়ে চালানো হয় কয়েক দফা হামলা। এতে মাথা ফেটে গুরুতর আহত হন ওই চিকিৎসক। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার পাশাপাশি দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসকসহ আহতের স্বজনরা।
জেলা পুলিশ সুপার রওজনক জাহান, হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দোষীদের আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন। শরীয়তপুর-১ আসনের এমপি সাঈদ আহমেদ আসলাম বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার করা হবে। কাউকে ছাড় দেয়ার কোনো অবকাশ নেই। তিনি এ ন্যক্কারজনক ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন।



