কূটনৈতিক প্রতিবেদক
পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছেন, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) ব্যর্থ ও অকার্যকর হওয়ায় চীন ও বাংলাদেশের সাথে ত্রিদেশীয় জোটের দিকে ঝুঁকছে পাকিস্তান।
লাহোরে সাফার সম্মেলনে ইসহাক দার এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যবশত সার্ক নিজেকে মেলে ধরতে পারেনি। এতে আঞ্চলিক অর্থনীতির সম্পৃক্ততা ও সহযোগিতা সীমিত হয়ে গেছে। এ কারণে পাকিস্তান এখন বিকল্প আঞ্চলিক ব্যবস্থা খুঁজছে। বাণিজ্য ও যোগাযোগ শক্তিশালী করার জন্য আমরা চীন-পাকিস্তান-বাংলাদেশ এবং চীন-পাকিস্তান-আফগানিস্তান জোট গঠনে সক্রিয় হয়েছি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়া ‘একাকী’ থাকতে পারে না। এই অঞ্চলে ২০০ কোটি মানুষের বাস; কিন্তু প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে দুর্বল সহযোগিতামূলক সম্পর্ক থাকায় এ অঞ্চল অনেক অর্থনৈতিক সুযোগ হারাচ্ছে।
১৯৮৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশ বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে সার্ক গঠিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এতে আফগানিস্তান যোগ দেয়। এই জোটের লক্ষ্য ছিল দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য, উন্নয়ন, শিক্ষা, সংস্কৃতিসহ বহুমুখী বিনিময় ও সহযোগিতা বাড়ানো; কিন্তু ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনার কারণে বেশ কয়েক বছর ধরে সার্ক অকার্যকর হয়ে আছে। সর্বশেষ সার্ক শীর্ষ সম্মেলন ২০১৬ সালের নভেম্বরে ইসলামাবাদে হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু তার আগে ভারতের উরিতে সন্ত্রাসবাদী হামলা হওয়ায় শীর্ষ সম্মেলন ভেস্তে যায়। ভারত এ হামলার জন্য সরাসারি পাকিস্তানকে দায়ি করে। ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশ, ভুটান ও আফগানিস্তানও ইসলামাবাদ শীর্ষ সম্মেলন বয়কট করে। তবে গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করতে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়টিতে জোর দিচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে সার্ককে সক্রিয় করার ক্ষেত্রে ভাবনা কী জানতে চাইলে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি দিল্লি সফরকারী বাংলাদেশের সাংবাদিক প্রতিনিধিদলকে বলেছেন, সার্ককে ফলপ্রসূ করতে অতীতে আমরা অনেক পদক্ষেপ নিয়েছিলাম; কিন্তু আশানুরূপ ফল আসেনি। একটি দেশ এ অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদের বিস্তার ঘটানোয় সার্ক স্থবির হয়ে পড়েছে। যে দেশটি অতীতে এখানে সন্ত্রাসবাদকে ব্যবহার করেছে, তারা তাদের অবস্থান থেকে সরে এসেছে, এটা বিশ্বাস করার কোনো সুযোগ নেই। এমন প্রেক্ষাপটে আমরা আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বিমসটেক নিয়ে আশাবাদী। আর বাংলাদেশ এই মুহূর্তে বিমসটেকের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে। এখানে বেশ কিছু ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, সার্ক সনদ অনুযায়ী সদস্যভুক্ত কোনো একটি দেশের রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানের অংশগ্রহণ ছাড়া শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় না। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে চীন-পাকিস্তান-বাংলাদেশ ত্রিদেশীয় জোট গঠনের উদ্যোগ নেয় বেইজিং। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের পাশাপাশি বর্তমান সরকারও বিষয়টিকে নিয়ে সতর্কতার সাথে অগ্রসর হওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে।



