নয়া দিগন্ত ডেস্ক
বগুড়ায় এক দিনের নবজাতককে গলাকেটে হত্যার পর পুকুরে ফেলে দিয়েছে মা ও সৎবাবা। অপর দিকে ময়মনসিংহে বাবার সাথে বিরোধে দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রকে হত্যা করেছে এক জুয়াড়ি। এ ছাড়া মৌলভীবাজারে এক চা শ্রমিক কৃষক ও রিকশাচালকের এবং মুন্সীগঞ্জে এক গ্রামপুলিশের (চৌকিদার) অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।
নবজাতকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার
বগুড়া অফিস জানায়, বগুড়ায় পুকুর থেকে এক দিনের এক নবজাতকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার সদর উপজেলার শেখেরকোলা ইউনিয়নের তেলিহারা উত্তরপাড়া এলাকার একটি পুকুর থেকে শনিবার বেলা ১১টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় শিশুটির মা নিপা ও সৎ বাবা দুলালকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মা হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। গত রমজান মাসে নিপার বিয়ে হয়। ধারণা করা হচ্ছে- নবজাতকটি আগের স্বামীর সন্তান। এ কারণেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়ে থাকতে পারে।
দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার
মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান,
মুক্তাগাছা রেসিডেন্সিয়াল মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী আন্দালিব সাদমান রাফি (৯) নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় পর প্রতিবেশী খোকনের টয়লেট থেকে তার বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করেছে মুক্তাগাছা থানা পুলিশ। এ ঘটনায় নূর মুহাম্মদ খোকন (২০) নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ শনিবার দুপুরে বাড়ির একটি স্যানেটারি ল্যাট্রিনের রিং সø্যাবের ভেতর থেকে ওই শিশুর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করে।
শিশু রাফি উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের জমিনপুর গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানায়, শুক্রবার বেলা ১১টার পর থেকে ওই শিশুকে খুঁজে পেয়ে রাতে পরিবারের পক্ষ থেকে মুক্তাগাছা থানায় জিডি করা হয়। পরে বাবার সন্দেহের ভিত্তিতে পুলিশ শনিবার সকালে পাশের বাড়ির কলেজছাত্র নূর মুহাম্মদ খোকনকে আটক করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে খোকন জানায়, সে অনলাইনে জুয়ায় আসক্ত। শিশুটির বাবা জহিরুল ইসলাম জুয়া খেলায় বিভিন্ন সময় বাঁধা দেয়াসহ জুয়ার বিষয় নিয়ে তার সাথে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। সেই ক্ষোভ থেকে সে শিশুটিক প্রথমে অপহরণ ও পরে হত্যা করে লাশ গুম করে রাখে।
পুকুর থেকে ২ জনের লাশ উদ্ধার
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা জানান, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পৃথক দু’টি চা বাগানের পুকুর থেকে দুই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। গতকাল সকাল ও বিকেলে এসব ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, বিকেলে উপজেলার রাজঘাট ইউনিয়নের ফুসকুড়ি চা বাগানের ৪ নম্বর বস্তির একটি পুকুর থেকে কৃষক মো: আবেদ আলীর (৫৮) লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের ষাড়েরগজ পূর্ব নওয়াগাঁও এলাকার মৃত কমরউদ্দিনের ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি গত ৭ মে থেকে নিখোঁজ ছিলেন।
অন্য দিকে একই দিন সকালে উপজেলার কালিঘাট ইউনিয়নের ভাড়াউড়া চা-বাগানের রামপাড়া এলাকায় অজয় হাজারার বাড়ির পুকুর থেকে রিকশাচালক মোহাম্মদ হোসেনের (৫৪) লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের খোজারকলা গ্রামের মৃত শরবত আলীর ছেলে, মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চা শ্রমিকের লাশ উদ্ধার
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা জানান, কুলাউড়া উপজেলার জয়চণ্ডি ইউনিয়নের মীরবক্সপুর গ্রাম থেকে চা শ্রমিক প্রদীপ তেলির (৩৫) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি গাজীপুর চা বাগানের অনিল তেলীর ছেলে।
পুলিশ জানায়, শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মীরবক্সপুর এলাকায় মুফতি আবদুর রহমানের বাড়ির সামনে একটি কালভার্টের নিচে লাশটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে জানায়, খবর পেয়ে কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: আজমল হোসাইন, কুলাউড়া থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত) ফরহাদ মাতব্বর ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং লাশ উদ্ধারের পর পোস্ট মর্টেমের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠান।
পুলিশের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় গ্রাম পুলিশ আবদুল জব্বারের (২৭) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সকালে উপজেলার কোলাপাড়া ইউনিয়নের নাওপাড়া গ্রামে নিজ বসতঘর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের জলিল চৌকিদারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও পারিবারিক সদস্যদের বরাতে জানা যায়, আবদুল জব্বারের সাথে তার স্ত্রীর বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দাম্পত্য কলহ চলছিল। তার স্ত্রী দীর্ঘ দিন বাবার বাড়িতে অবস্থান করার পর রমজানের ঈদের পর আবার স্বামীর বাড়িতে ফিরে আসেন। এর পরও তাদের মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত। শনিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে পরিবারের সদস্যরা দেখতে পান, ঘরের ফ্যানের সাথে স্ত্রীর ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় ঝুলছেন আবদুল জব্বার। পরে তাকে উদ্ধার করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।



