আইএমএফ শর্ত দেশের অর্থনীতির উপযোগী নয় : অর্থমন্ত্রী

বিগত সরকারগুলো ৪২ হাজার কোটি টাকা বিল বাকি রেখে গেছে

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

ঋণ সহায়তার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) যে শর্তগুলো দিচ্ছে, তার অনেক দেশের অর্থনীতির জন্য ‘সুইটেবল’(উপযোগী) নয় বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি ঠিক হতে দুই বছর লেগে যেতে পারে। আমরা দায়িত্ব নিয়ে দেখেছি, বিগত সরকার ৪২ হাজার কোটি টাকা বিল বাকি রেখে চলে গেছে। এটি কিভাবে সম্ভব। আমরা এমন কোনো প্রকল্প নেব না যা ভ্যালু ফর মানি বা আর্থিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ না। একই সাথে সেটি, রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট হতে হবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে এবং পরিশেষে তা পরিবেশ বান্ধবও হতে হবে।

গত সোমবার রাতে রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘বৈশ্বিক অস্থিরতায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে পথরেখা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান মাহমুদ হানিফের সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য দেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থার (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ), মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল প্রমুখ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সব জায়গায় আমরা একমত হচ্ছি না। অনেক জায়গায় দ্বিমত হচ্ছে, আইএমএফের সাথে দ্বিমত হচ্ছে। কারণ আইএমএফ যে কন্ডিশন দিচ্ছে ওটা আমার অর্থনীতির জন্য সুইটেবল না, আমার জনগণের জন্য সুইটেবল না।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সাথে বেশির ভাগ উন্নয়ন সহযোগীরা ‘এলাইন্ড’ দাবি করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘শুরুতে যদি ওর সাথে আমার অ্যালাইন না হয়, আমি তো এগোতে পারব না। দে আর মাই ডেভেলপমেন্ট পার্টনার। সো উই আর অ্যালাইনড অ্যাজ ফার অ্যাজ পলিসি গোজ, অ্যাজ ফার অ্যাজ ম্যানিফেস্টো গোজ।’

আইএমএফের শর্তের বিপক্ষে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘উই আর ইলেক্টেড গভর্মেন্ট। আমার জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা আছে। তাদের কথা মতো আমরা তো সব করতে পারব না। সো উই হ্যাভ আ ডিফারেন্স অব ওপিনিয়ন উইথ সাম মাল্টিল্যাটারাল বডিজ। ওপিনিয়ন ডিফারেন্স থাকবে, চলতে থাকবে। কিন্তু আমি আমার কোর্স কারেকশন করবো অতটুকু যতটুকু আমার ম্যানিফেস্টোর সাথে অ্যালাইনমেন্ট থাকবে। এর বাইরে গিয়ে আমি কোর্স আউট অব দ্য ওয়ে গিয়ে কিছু করা সম্ভব না।’

এ সময় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংস্কার প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এনবিআরকে নীতি ও বাস্তবায়ন- এই দুই ভাগে বিভক্ত করার যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, তা পূর্ণাঙ্গ সংস্কার ছিল না।

তিনি বলেন, এনবিআরের সংস্কার অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু আগের সরকার যে বিভাজনের উদ্যোগ নিয়েছিল, সেটি ছিল অসম্পূর্ণ। এটি প্রকৃত অর্থে কোনো সংস্কার হয়নি। অসম্পূর্ণ সংস্কার রেখে গেলে তা আরো জটিলতা তৈরি করে। তাই প্রথমে সেটিকে পুনর্বিবেচনা করতে হবে, এরপর কার্যকর সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।

এনবিআর সংস্কারে আমলাতান্ত্রিক নির্ভরতা কমিয়ে ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ত করার ইঙ্গিতও দেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ট্যাক্স নীতি প্রণয়ন করবেন যারা, তাদের অবশ্যই বাংলাদেশের অর্থনীতির বাস্তবতা, বিভিন্ন খাতের চাহিদা ও সমস্যার বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। শুধু আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে থেকে নীতি নির্ধারণ করলে কাক্সিক্ষত সংস্কার সম্ভব নয়।

তিনি আরো বলেন, যারা করনীতি নির্ধারণ করবেন, তাদের সুপারিশ সরাসরি অর্থমন্ত্রীর কাছে আসবে। এর মধ্যে অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রাখতে চাই না। তিনি দাবি করেন, প্রশাসনে কোথাও রাজনৈতিক বিবেচনা নিয়োগ হবে না।