ক্রীড়া প্রতিবেদক
টি-২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে একবার করে ফাইনাল খেলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ড। ২০২১ সালে নিউজিল্যান্ড এবং ২০২৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা ফাইনাল খেলেছিল। কিন্তু শিরোপায় চুম্বন আঁকা হয়নি। আজ দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠার সুযোগ হাতছানি তাদের সামনে। চলতি আসরে গ্রুপ পর্বে চার ম্যাচ ও সুপার এইটে তিন ম্যাচ জিতে সেরা দলের তকমা নিয়ে সেমিতে উঠে গত আসরের রানার্স আপ দক্ষিণ আফ্রিকা। বিশ্বকাপে এর আগে তিনবার সেমিফাইনাল খেলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং চারবার সেমিতে উঠেছে নিউজিল্যান্ড। আজ প্রথম সেমিফাইনালে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে দল দু’টি।
পরিসংখ্যানের বিচারে এগিয়ে থেকেই আজ টি-২০ বিশ্বকাপের দশম আসরের প্রথম সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা। এখন পর্যন্ত টি-২০তে ১৯ বার মুখোমুখি হয়েছে দল দুটো। এর মধ্যে প্রোটিয়ারা ১২টিতে এবং কিউইরা ৭টিতে জিতেছে। দেখতে দেখতে শেষের পথে টি-২০ বিশ্বকাপ। আসর শেষ হতে আজকেরটা সহ তিন ম্যাচ বাকি। সেমিফাইনালের আগে গ্রুপ পর্ব ও সুপার এইট পর্ব মিলিয়ে হয়েছে ৫২ ম্যাচ।
চলতি টি-২০ বিশ্বকাপের একমাত্র অপরাজিত দল দক্ষিণ আফ্রিকা। গ্রুপ পর্বে কানাডা, আফগানিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারিয়ে সেরা দল হিসেবে সুপার এইটে উঠে প্রোটিয়ারা। সুপার এইটে ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় দিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালের মঞ্চে প্রোটিয়ারা। ফেবারিটের তকমা থাকায় খুশি দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ শুক্রি কনরাড। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বকাপের ফেভারিট। আমার সবসময়ই মনে হয়, দল হিসেবে ফেভারিট হয়েই খেলতে চায় দক্ষিণ আফ্রিকা। আন্ডারডগ হওয়া খুব সহজ। বড় কোনো প্রত্যাশা থাকে না। এখন পর্যন্ত যা করছি, এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে অনেক কিছুই সম্ভব। সামনের পথচলায় ভাগ্যের সহায়তাও প্রয়োজন। আশা করি, সামনের ম্যাচগুলোর পারফরম্যান্স ছেলেরা ধরে রাখতে পারবে এবং দলের জন্য সাফল্য বয়ে আনবে।’
ফেবারিটের তকমা সাথে থাকলেও সেমিফাইনাল ম্যাচ হওয়ায় চাপ আছে বলে স্বীকার করেছেন কনরাড। তিনি বলেন, ‘ফেবারিট হিসেবে আমরা মাঠে নামলেও সেমিফাইনাল ম্যাচ হওয়ায় চাপ থাকবে। সেমিফাইনাল-ফাইনাল মানে চাপ। যেকোন টুর্নামেন্টে এই দুটো ম্যাচে বাড়তি চাপ থাকে। নিউজিল্যান্ডের মতো শীর্ষ দলের সাথে সেমিফাইনাল খেলাতেও চাপ থাকবে। নিউজিল্যান্ডকে মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত। আশা করি প্রথম সেমিফাইনালে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারবে ছেলেরা। ধাপে ধাপেই এগোতে চায় পুরো দল। গ্রুপ পর্ব আর নকআউটপর্ব সম্পূর্ণই আলাদা। অবশ্য দিনটিও আমাদের হতে হবে।’
সর্বশেষ বিশ্বকাপ আসরে ফাইনালে ব্রিজটাউনের ভারতের কাছে ৭ রানে হারে প্রোটিয়ারা। ফাইনালে হারের দুঃস্মৃতি আছে নিউজিল্যান্ডেরও। ২০২১ সালে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৮ উইকেটে হারে তারা। এবারের আসরে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে সুপার এইটে উঠে নিউজিল্যান্ড। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী নিউজিল্যান্ড কোচ রব ওয়াল্টার। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের সেরা দল দক্ষিণ আফ্রিকা। খুব ভালো ক্রিকেট খেলছে তারা। গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে আমরা খেলেছি। ৭ উইকেটে ওই ম্যাচ হারি। এবার আমরা প্রতিশোধ নিতে চাই এবং জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে মুখিয়ে আছে সবাই।’
তিনি যোগ করেন, দক্ষিণ আফ্রিকা খুব ভালো ছন্দে থাকলেও আমরা বিশ্বাস করি, তাদের হারাতে পারব। ভালো খেলতে থাকা কোনো দলের একটি বাজে দিন আসতেই পারে। তবে আমাদেরও ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে ও প্রতিপক্ষকে সব বিভাগেই চাপে রাখতে হবে। তাদের হারিয়েই আরো একবার ফাইনালের মঞ্চে যেতে চাই। অবশ্যই শিরোপা ছোয়াটা শিহরণ।
এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি রান পাকিস্তানি ওপেনার সাহিবজাদা ফারহানের (৩৪৩)। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯২ রান করেছেন জিম্বাবুয়ের ব্রায়ান বেনেট। যৌথভাবে সবচেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের শ্যাডলি ফন শালকভিক ও জিম্বাবুয়ের ব্লেসিং মুজারাবানি ১৩টি করে।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই চারজনের দলই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে। রানের তালিকায় তিনে থাকা ২৬৮ রান নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার এইডেন মার্করাম ও ২৩১ রান নিয়ে ভারতের সূর্যকুমার যাদব সেমিফাইনালে।
বোলিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার লুঙ্গি এনগিডি ও ভারতের বরুন চক্রবর্তী ১২ নিয়ে আলাদা নজর কাড়ার অপেক্ষায়। এ ছাড়া করবিন বশ (দক্ষিণ আফ্রিকা), মার্কো ইয়ানসেন (দক্ষিণ আফ্রিকা), আদিল রশিদ (ইংল্যান্ড) ১১ উইকেট নিয়ে স্পটলাইট নিজেদের দিকে তাক করে রেখেছে। এখন পর্যন্ত দলীয় সর্বোচ্চ ২৫৬/৪ ভারতের।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কখনো হারেনি
দক্ষিণ আফ্রিকা
মজার বিষয় হচ্ছে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিউজিল্যান্ডের কাছে কখনো হারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। আগের পাঁচবারের মোকাবেলায় সবগুলোতেই জয় পেয়েছে প্রোটিয়ারা।
১. ২০০৭ সালের প্রথম টি-২০ বিশ্বকাপেই ডারবানের ম্যাচে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারায় প্রোটিয়ারা। প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৫৩ রান করে নিউজিল্যান্ড। জবাবে ৪ উইকেটে ১৫৮ রান তুলে জয়ের স্বাদ নেয় প্রোটিয়ারা।
২. ২০০৯ সালের দ্বিতীয় বিশ্বকাপে লর্ডসে গ্রুপ পর্বে কিউদের বিপক্ষে ১ রানের জয় পায় প্রোটিয়ারা। প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১২৮ রান করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর ৫ উইকেটে ১২৭ রানে আটকে যায় কিউইরা।
৩. ২০১০ বিশ্বকাপে ব্রিজটাউনে প্রথমে ব্যাট করা দক্ষিণ আফ্রিকার ৪ উইকেটে ১৭০ রানের জবাবে ৭ উইকেটে ১৫৭ রান করে নিউজিল্যান্ড। এতে ১৩ রানের হার বরণ করে নেয় কিউইরা।
৪. বাংলাদেশের মাটিতে ২০২৪ সালের বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডকে ২ রানে হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। চট্টগ্রামে প্রথমে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৭০ রান করে প্রোটিয়ারা। ১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৮ উইকেটে ১৬৮ রানে থামে নিউজিল্যান্ড।
৫. ২০১৪ সালের পর চলতি বিশ্বকাপে পঞ্চমবারের মতো দেখা হয় দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের। এ ম্যাচে ৭ উইকেটের বড় জয় পায় প্রোটিয়ারা। নিউজিল্যান্ডের ৭ উইকেটে ১৭৫ রানের জবাব দিতে নেমে ১৭ বল বাকী রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
নিউজিল্যান্ড দল :
মিচেল স্যান্টনার (অধিনায়ক), ফিন অ্যালেন, মাইকেল ব্রেসওয়েল, মার্ক চ্যাপম্যান, ডেভন কনওয়ে, জ্যাকব ডাফি, লকি ফার্গুসন, ম্যাট হেনরি, ড্যারিল মিচেল, জেমস নিশাম, গ্লেন ফিলিপস, রাচিন রবীন্দ্র, টিম সেইফার্ট, ইশ সোধি, কাইল জেমিসন।
দক্ষিণ আফ্রিকা দল :
আইডেন মার্করাম (অধিনায়ক), কুইন্টন ডি কক, ডেওয়াল্ড ব্রেভিস, ডেভিড মিলার, জেসন স্মিথ, ডনোভান ফেরেইরা, টনি ডি জর্জি, জর্জ লিন্ডে, মার্কো জানসেন, কর্বিন বশ, লুঙ্গি এনগিডি, কাগিসো রাবাদা, কেশব মহারাজ, এনরিচ নর্টি ও কোয়েনা মাফাকা।



