বড়াইগ্রামে ৪ জনের মৃত্যু

প্রেমিকাসহ পাষণ্ড স্বামীর বিচার দাবি

Printed Edition

বড়াইগ্রাম (নাটোর) সংবাদদাতা

বড়াইগ্রামে নিজ ঘরে আগুনে পুড়ে স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ চারজনের মৃত্যুর ঘটনাকে পরকীয়ার জেরে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন নিহতদের স্বজন ও এলাকাবাসী। এ ঘটনার মাত্র তিন মাসের মাথায় অভিযুক্ত মোহাম্মদ ওলি পরকীয়া প্রেমিকাকে নিয়ে পালিয়ে গিয়ে তার সাথেই ঘর সংসার করছেন। গতকাল মঙ্গলবার খাকসা গ্রামবাসীর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনকালে এ দাবি তুলে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন ও অভিযুক্ত স্বামী মোহাম্মদ ওলি ও তার প্রেমিকা রেখা খাতুনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।

মানববন্ধনকালে বড়াইগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক, অভিযুক্ত ওলির সহোদর বড় ভাই মোহাম্মদ আলী, চাচাতো ভাই হেলাল উদ্দিন, যুবদল নেতা মোজাম্মেল হক বাটুল, সমাজসেবক জরিপ মণ্ডল, মধু প্রামাণিক ও আব্দুস সামাদ বক্তব্য রাখেন।

এ সময় বক্তারা বলেন, ২০২৩ সালের ৭ মার্চ রাতে রাজ্জাক মোড়ে জ্বালানিবাহী লরি উল্টে গেলে ওলি সেখান থেকে অকটেন নিয়ে বাড়িতে যান। এর কিছুক্ষণ পরই নিজ ঘরে আগুনে পুড়ে ওলির স্ত্রী সুমা খাতুন (৩২), মেয়ে অমিয়া আফরিন মাহী (১০) ও ছেলে ওমর ফারুক (৪) মারা যায়। এ সময় তাদের বাঁচাতে গিয়ে ওলির বন্ধু আনোয়ার হোসেনও দগ্ধ হয়ে পরে হাসপাতালে মারা যান। কিন্তু একই ঘরে থেকেও রহস্যজনকভাবে ওলি অক্ষত ছিলেন। স্থানীয়রা জানায়, ওলি তার চাচাতো ভাই দুলালের স্ত্রীর সাথে পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। প্রেমিকাকে পাওয়ার আশায় পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী-সন্তানকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে তাদের দাবি।

এ সময় তারা বলেন, বিষয়টি তাৎক্ষণিক দুর্ঘটনা মনে হলেও পরবর্তীতে পরকীয়া প্রেমিকাকে নিয়ে পালিয়ে গিয়ে ঘরবাঁধাসহ তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও কথাবার্তায় এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হলেও তার কোনো অগ্রগতি নেই।

বড়াইগ্রাম থানার ওসি আব্দুস ছালাম বলেন, এ ব্যাপারে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।