অলিম্পিক গোলে সর্বশেষ সংযোজন ঋতুপর্ণা

Printed Edition

রফিকুল হায়দার ফরহাদ

১০ এপ্রিল বাংলাদেশ ফুটবল লিগে অলিম্পিক গোল করেছিলেন মোহামেডানের মোজাফফরভ। ঢাকা আবাহনীর বিপক্ষে তার নেয়া কর্নার কিক সরাসরি জালে যায়। কর্নার কিক সরাসরি জালে গেলেই তা অলিম্পিক গোল হিসেবে বিবেচিত হয়। বাংলাদেশের ফুটবলে সরাসরি কর্নার থেকে গোলটা নতুন কিছু নয়। শুধু ঘরোয়া ফুটবলেই নয়, আন্তর্জাতিক ম্যাচেও বাংলাদেশের একাধিক অলিম্পিক গোল আছে। গতকাল আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের হয়ে নেপালের বিপক্ষে অলিম্পিক গোল করেন ঋতুপর্ণা চাকমা। গত দুই যুগে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ম্যাচ মিলে এই অলিম্পিক গোলের যে রেকর্ড তা শুধু মিডফিল্ডার মামুনুল ইসলাম মামুনের দখলে। তার মতো এতো বেশী অলিম্পিক গোল আর কেউ করতে পারেনি। এ পর্যন্ত চারটি গোল করেছেন জাতীয় দলের সাবেক এই ফুটবলার। আর নারী ফুটবলে বাংলাদেশ দলে এর আগে তিন ফুটবলারের অলিম্পিক গোল আছে। এরা গোলদাতারা হলেন মনিকা চাকমা, শান্তি মার্ডি ও মামনি চাকমা।

এই শতাব্দীর আগে বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে একাধিক অলিম্পিক গোলের ঘটনা আছে। প্রতাপ শংকর হাজারা, হাসানুজ্জামান বাবলু এবং হারুন অর রশীদরা করেছিলেন সরাসরি কর্নার থেকে গোল। এই শতাব্দীতে আন্তর্জাতিক ম্যাচে বাংলাদেশের প্রথম অলিম্পিক গোল ২০০৮ সালের কলম্বো ও মালে সাফে। কলম্বোর মাঠে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ০-২ পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশ ২-২ গোলে ড্র করেছিল। সেই ম্যাচে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে অলিম্পিক গোল লাল-সবুজদের। আবু ইউসুফ বাহিনীর সেই অলিম্পিক গোলটির মালিক মামুনুল। এরপর ঘরোয়া ফুটবলে আরো তিনটি অলিম্পিক গোল চট্টগ্রামের এই ফুটবলারের। ঘরোয়া ফুটবলে তার প্রথম অলিম্পিক গোল ছিল ২০১২ সালের সুপার কাপে। সেবার শেখ রাসেলের হয়ে ঢাকা আবাহনীর বিপক্ষে গোল করেন। এরপর ২০১৬ সালের লিগে চট্টগ্রাম আবাহনীর হয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রের বিপক্ষে কর্নার থেকে গোল। আর ২০১৮ সালে ঢাকা আবাহনীর হয়ে সাইফ স্পোর্টিং কাবের বিপক্ষে করেছিলেন এই গোল।

ঘরোয়া ফুটবলে এই শতাব্দীতে মামুনুলের মতোই তিনটি অলিম্পিক গোল করেছেন ফয়সাল মাহমুদ। জাতীয় দলের এই ফরোয়ার্ড বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে প্রথম অলিম্পিক গোল করেছিলেন ২০১৮ সালে সাইফ স্পোর্টিং কাবের বিপক্ষে। ২০১৮ সালের সেই লিগে তিনি ছিলেন মোহামেডানের খেলোয়াড়। এরপর ২০২১ সালে ব্রাদার্স ইউনিয়নের জার্সী গায়ে এক ম্যাচে কর্নার কিক থেকে জোড়া গোল। সেই গোল দু’টি করেছিলেন আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের বিপক্ষে। এই ব্রাদার্সেরই হাইতির ফুটবলার ওয়ালসন অগাস্টিন লিগে একটি অলিম্পিক গোল করেছিলেন। ব্রাদার্স ম্যানেজার আমের খান দিলেন সেই তথ্য। তা ২০১৬-১৭ এর দিকে। অবশ্য সেই গোলটি কোন দলের বিপক্ষে ছিল তা মনে করতে পারলেন না আমের। জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার আশরাফউদ্দিন আহমেদ চুন্নু জানিয়েছেন ঢাকা লিগে তার তিনটি অলিম্পিক গোল আছে। তবে প্রতিপক্ষ এবং সালের নাম উল্লেখ করতে পারলেন না তিনি।

মোজাফফরভ জানিয়েছেন, তিনি ২০২৩ সালে চট্টগ্রাম আবাহনীর বিপক্ষে আরেকটি অলিম্পিক গোল করেছিলেন। এছাড়া উজবেক লিগেও তার একটি এমন গোল আছে।

জাতীয় দলের সাবেক ডিফেন্ডার হারুন অর রশীদ ঢাকার প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগে ( তখন প্রিমিয়ার ও প্রথম বিভাগ আলাদা হয়নি) একটি অলিম্পিক গোল করেছিলেন। মিরপুর স্টেডিয়ামে রহমতগঞ্জ মুসলিম ফে"ন্ডস সোসাইটির হয়ে সরাসরি কর্নার থেকে গোলটি করেছিলেন ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে। সালটি অবশ্য বলতে পারেননি ১৯৯০ এর বিশ^কাপ বাছাই পর্বে ইরান ও থাইল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা টঙ্গী নিবাসী এই ফুটবলার।

নারী ফুটবলে বাংলাদেশের প্রথম অলিম্পিক গোল ২০১৯ মালে মিয়ানমারের মাঠে। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের দ্বিতীয় রাউন্ডে মনিকা চাকমার সেই গোলে বাংলাদেশ হারিয়েছিল স্বাগতিক মিয়ানমারকে। গত বছর সাফ অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবলে ভুটানের বিপক্ষে প্রথম পর্বের ম্যাচে সরাসরি কর্নার থেকে গোল করেছিলেন শান্তি মার্ডি। সেই ম্যাচে হ্যাটট্রিকও করেছিলেন তিনি। নারী ফুটবলে সর্বশেষ অলিম্পিক গোল এবারের অনূর্ধ্ব-১৯ নারী সাফে। নেপালের পোখরায় ভুটানের বিপক্ষে অলিম্পিক গোলটি করেছিলেন মামনি চাকমা।

মামুন জানান, ‘আমরা আসলে ওভাবে টার্গেট করে মারি না শট গুলো। এই যে অলিম্পিক গোলগুলো তা হয় গোলরক্ষকের বলের ফাইট মিস বা গোলরক্ষক জায়গায় না থাকার কারনে হয়েছে। অধিকাংশ গোলই হয়েছে সেকেন্ড পোস্টে। আর আফগানিস্তানের বিপক্ষে আমার গোলটি প্রথম পোস্টে হয়েছিল। কারন আমাদের ফরোয়ার্ড ও তাদের ডিফেন্ডার বলের নিয়ন্ত্রন নিতে গিয়ে ব্যর্থ । সেই বলই জালে যায়।’