আইসিসি মাসসেরা নাহিদ রানা

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

নতুন গতি-তারকা নাহিদ রানা! ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, ভয়ডরহীন পেস বোলিং এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের জন্য ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয়ার সামর্থ্য তাকে নিয়ে গেছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির সর্বোচ্চ মঞ্চে। এপ্রিল ২০২৬ এপ্রিল মাসের আইসিসির সেরা প্লেয়ার নির্বাচিত হয়েছেন এই ডান হাতি ফাস্ট বোলার। ওমানের জাতিন্দর সিং ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অজয় কুমারকে পেছনে ফেলে সেরার স্বীকৃতি জিতেন তরুণ এই পেসার নাহিদ।

নাহিদ রানা এই প্রথম আইসিসির মাসসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতলেন। গত বছরের এপ্রিলে মেহেদী হাসান মিরাজের পর বাংলাদেশের প্রথম পুরুষ ক্রিকেটার হিসেবে এই পুরস্কার ঘরে তুললেন তিনি। এর আগে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে এই স্বীকৃতি পেয়েছেন মুশফিকুর রহীম ও সাকিব আল হাসান। সাকিব অবশ্য দু’বার এই পুরস্কার জিতেছিলেন।

ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে দুর্দান্ত বোলিংই মূলত নাহিদ রানাকে এনে দিয়েছে এই সম্মান। পুরো সিরিজে তিনি শিকার করেন ৮ উইকেট। গড় ছিল ১৬.৭৫ এবং ইকোনমি রেট ৪.৪৬। তার এই পারফরম্যান্সে ভর করেই বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জেতে। শুধু দলীয় সাফল্য নয়, সিরিজসেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতে।

সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ১ উইকেট নিতে খরচ করেছিলেন ৬৫ রান। তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ান তিনি। মিরপুরে সেই ম্যাচে ৩২ রানে নিউজিল্যান্ডের ৫ ব্যাটারকে সাজঘরের পথ দেখান। পাওয়ারপ্লেতেই নেন ২ উইকেট। পরে আরও ৩ উইকেট নিয়ে কিউইদের গুটিয়ে দেন ১৯৮ রানে। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি ছিল তার দ্বিতীয় ৫ উইকেট নেয়ার কীর্তি।

চট্টগ্রামে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতেও তিনি ছিলেন কার্যকর। তুলে নেন আরো ২ উইকেট। তার ধারাবাহিক বোলিংয়ে বাংলাদেশ নিশ্চিত করে সিরিজ জয়। নিউজিল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিপে এমন পারফরম্যান্স আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দেয়।

আইসিসির পুরস্কার জয়ের পর নাহিদ রানা বলেন, নিউজিল্যান্ডের মতো বিশ্বমানের দলের বিপে ভালো খেলে আইসিসি প্লেয়ার অব দ্য মান্থ হওয়া দারুণ অনুভূতি। দেশের মাটিতে এমন পারফরম্যান্স করায় সিরিজটা আরো বিশেষ হয়ে থাকবে। সতীর্থদের সমর্থন ও বিশ্বাসের জন্য আমি কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতেও দলের জয়ে অবদান রাখতে চাই।

শুধু নিউজিল্যান্ড সিরিজই নয়, এর আগেও ধারাবাহিকভাবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন নাহিদ রানা। গত মার্চে পাকিস্তানের বিপে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও নিয়েছিলেন ৮ উইকেট। এরপর পাকিস্তানের বিপে মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করে ৪০ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন। অনেক দিন ধরেই বাংলাদেশ দলের পেস আক্রমণের অন্যতম নির্ভরতার নাম নাহিদ। আইসিসির এই স্বীকৃতি তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্সেরই স্বীকৃতি।