আসছে জিনোম-এডিটেড জলবায়ু সহিষ্ণু ধান

গাজীপুরে দেশী-বিদেশী বিজ্ঞানীদের কর্মশালা

Printed Edition

মো: আজিজুল হক, গাজীপুর

বাংলাদেশে আগামী তিন বছরের মধ্যে জিনোম-এডিটেড, জলবায়ু সহিষ্ণু ধানের নতুন জাত উদ্ভাবন ও বাণিজ্যিকীকরণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লবণাক্ততা, উচ্চতাপ, খরা, অতিবৃষ্টি ও রোগবালাই সহনশীল ক্লাইমেট-স্মার্ট ধানের জাত উদ্ভাবনে আধুনিক জিনোম এডিটিং প্রযুক্তির প্রয়োগ নিয়ে গাজীপুরে দেশী-বিদেশী বিজ্ঞানী, গবেষক ও শিল্প প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের পরামর্শমূলক কর্মশালা।

গতকাল গাজীপুরের ব্র্যাক এগ্রিকালচারাল রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে ‘জিনোম এডিটিংয়ের মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীল ধানের জাত উন্নয়ন’ শীর্ষক এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির অধীনে ইটঝ-টঝউঅ-চঅখ অর্থায়িত একটি বিশেষ গবেষণা প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রকল্পের সমন্বয়ক, বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির ফেলো এবং গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো: তোফাজ্জল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন গাকৃবি ভিসি অধ্যাপক ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন দেশের খ্যাতিমান জীবপ্রযুক্তিবিদ অধ্যাপক ড. হাসিনা খান।

স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. তোফাজ্জল ইসলাম। পরে আমন্ত্রিত অতিথিরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান অভিঘাত মোকাবেলা করে টেকসই কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জিনোম এডিটিং প্রযুক্তি হতে পারে সময়োপযোগী ও কার্যকর সমাধান। বিশেষ করে লবণাক্ততা, খরা, অতিবৃষ্টি, উচ্চতাপ এবং রোগবালাই সহনশীল ধানের জাত উদ্ভাবনে এ প্রযুক্তি বাংলাদেশের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

প্রথম কারিগরি অধিবেশনে প্রকল্পের সাতজন প্রধান গবেষক (পিআই) তাদের চলমান গবেষণার অগ্রগতি উপস্থাপন করেন।

দ্বিতীয় কারিগরি অধিবেশনে অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান ও অধ্যাপক ড. তোফাজ্জল ইসলাম গাইড-আরএনএ ডিজাইন, ধানের জাত উন্নয়নে জিনোম এডিটিং প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জাত উন্মুক্তকরণ সংশ্লিষ্ট জীবনিরাপত্তা বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

পরে গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রাভুক্ত ধানের কাক্সিক্ষত বৈশিষ্ট্য অর্জনে বিদ্যমান প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন।

কর্মশালায় ব্র্যাক সিডের ড. আকিদুল আজিজ ও জে. আরিফ, লাল তীর সিডের ড. আফরোজা, ট্রপিক বায়োসায়েন্সসের (যুক্তরাজ্য) ড. জিয়াউর রহমান, ঢাবির ড. তাহমিদা, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের ড. শাহানা, সিমিটের ওয়াশিক ফয়সাল, ন্যাশনাল বায়োটেকনোলজি ইনস্টিটিউটের ড. মুসলিমাসহ দেশী-বিদেশী প্রায় ৪০ জন বিশেষজ্ঞ, গবেষক, শিল্প প্রতিনিধি, পিএইচডি শিক্ষার্থী ও প্রকল্প সদস্য অংশ নেন।

সমাপনী পর্বে আগামী তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশে জিনোম-এডিটেড জলবায়ু সহিষ্ণু ধানের নতুন জাত উদ্ভাবন ও বাণিজ্যিকীকরণের লক্ষ্যে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা এবং কৌশলগত সুপারিশ তুলে ধরা হয়।