ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের ওপর লাঠিচার্জ টিয়ার শেল

Printed Edition
রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের সামনে আন্দোলনরত গ্রাহকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের অ্যাকশন : নয়া দিগন্ত
রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের সামনে আন্দোলনরত গ্রাহকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের অ্যাকশন : নয়া দিগন্ত

বিশেষ সংবাদদাতা

  • কার্যালয়ে আসতে পারলেন না নতুন চেয়ারম্যান, ভার্চুয়াল সভাও পণ্ড
  • অর্ধশতাধিক আহত: অবরুদ্ধ প্রধান কার্যালয়
  • বাংলাদেশ ব্যাংকে তলব পর্ষদ সদস্য ও এএমডিদের

ইসলামী ব্যাংকের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো: খুরশিদ আলমের ব্যাংকে পর্ষদ সভাকে কেন্দ্র করে গতকাল দিনভর ব্যাংক এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে। গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে আন্দোলনরত গ্রাহকদের বিক্ষোভের মুখে ব্যাংকে আসতে পারেননি বিতর্কিত চেয়ারম্যান। তিনি অনলাইনে পর্ষদ সভায় যোগ দেয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। সর্বশেষ ব্যাংকের বাইরে একটি আবাসিক এলাকায় পর্ষদ সভা করার চেষ্টাও ব্যর্থ হয় অন্য পরিচালকদের অপারগতার কারণে। এ দিকে সকাল থেকেই চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেন বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। কিন্তু আন্দোলনরত গ্রাহকদের ওপর বেপরোয়া হামলা চালায় পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ, জলকামান ব্যবহার এবং টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত অর্ধশত গ্রাহক আহত হয়েছেন। আহতদের রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ হামলা চালানো হয়। বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা চেয়ারম্যানের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে লাগাতার কর্মসূচির কথা জানিয়েছেন। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যাংকের প্রধান ফটক অবরুদ্ধ করে রাখে তারা।

এ দিকে বিরাজমান পরিস্থিতি উত্তরণে ব্যাংকের সব পর্ষদ সদস্য ও তিন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালককে তলব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

পুলিশের লাঠিচার্জ টিয়ার শেল : প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে নতুন চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ ও স্লোগান দিতে থাকেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাদের সরিয়ে দিতে গেলে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ শুরু করে এবং বেপরোয়াভাবে জলকামান ও টিয়ার শেল ব্যবহার করে। লাঠিচার্জে অনেকের মাথা ফেটে রক্তাক্ত হয়। আহত অনেক গ্রাহক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশি অভিযানের পর বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলেও কিছু সময় পর আবারো প্রধান কার্যালয়ের আশপাশে জড়ো হন। বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সরেজমিন দেখা গেছে, শত শত গ্রাহক ব্যাংকটির প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

ইসলামী ব্যাংক ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক নুর নবী মানিক জানান, গত ২৪ মে সরকারের অবৈধ হস্তক্ষেপে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান এবং এমডি ওমর ফারুক খানকে জোরপূর্বক পদত্যাগ করানো হয়। ওই দিন বাংলাদেশ ব্যাংক ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিতাড়িত সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশিদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। সাথে সাথে ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকরা আওয়ামী দোসর ব্যাংক লুটেরা এস আলমের তল্পিবাহক খুরশিদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান এবং এমডি ওমর ফারুক খানকে স্বপদে বহাল করার আহ্বান জানান। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রাহকদের দাবি উপেক্ষা করে এস আলম গ্রুপের লোকজনকে ইসলামী ব্যাংকে পুনর্বাসনের দিকে এগিয়ে যায়। এরই প্রতিবাদে গতকাল ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকরা শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করতে গেলে সরকারের নির্দেশে পুলিশ জলকামান, টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে এবং ব্যাপক লাঠিচার্জ করতে থাকে। তিনি আরো জানান, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকারের একটি অংশ পতিত আওয়ামী দোসর এস আলম গ্রুপকে ইসলামী ব্যাংকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করে আসছে। এর প্রতিবাদে গত ২৪ মে সারা দেশে ইসলামী ব্যাংকের প্রতিটি শাখার সামনে ভুক্তভোগী গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডাররা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। কিন্তু সরকার ইসলামী ব্যাংকে নগ্ন হস্তক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে। ইসলামী ব্যাংক ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের পক্ষ থেকে তিনি দাবি জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে ইসলামী ব্যাংক থেকে ব্যাংক লুটেরা এস আলম গ্রুপের উত্তরসূরিদের অপসারণ করতে হবে এবং খুরশিদ আলমের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ বাতিল করতে হবে। ইসলামী ব্যাংকের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ও মালিকদের কাছে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ প্রদান করতে হবে। এ দিকে ঘটনার পর ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গতকাল বিকেল পর্যন্ত পুলিশের গাড়ি ও জলকামানসহ বিভিন্ন ধরনের যানবহন নিয়ে অবস্থান করতে দেখা গেছে পুলিশকে।

ডিএমপির ডিসি (মিডিয়া) এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, কয়েকশ’ আন্দোলনকারী ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় অবরোধ করলে মতিঝিলের ব্যাংকিং ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল এবং যানজটের সৃষ্টি হচ্ছিল। তাদের বারবার সরে যেতে অনুরোধ করা হলেও তারা পুলিশের সাথে বাগি¦তণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা হিসেবে জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেডসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ ঘটনায় মতিঝিল বিভাগের পুলিশের সহকারী কমিশনারসহ (এসি-পেট্রোল) অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

পুলিশের পক্ষ থেকে ভার্চুয়াল সভা করার চাপ : এ দিকে বিক্ষোভকারীদের আন্দোলনের মুখে বিতর্কিত চেয়ারম্যান ব্যাংকে আসতে পারেননি। তিনি ভার্চুয়াল সভা করার উদ্যোগ নেন। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের কয়েকজন সদস্য ভারপ্রাপ্ত এমডি মুহাম্মদ আলতাফ হোসাইন চৌধুরির অফিস কক্ষে গিয়ে ভার্চুয়ালি সভা করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। খবর পেয়ে আন্দোলনরত কর্মকর্তাদের একাংশ ভার্চুয়ালি সভা করার প্রতিবাদ জানান। কর্মকর্তাদের বাধার মুখে ভার্চুয়ালি সভা করার চেষ্টাও পণ্ড হয়ে যায়।

অফিসের বাইরে পর্ষদ সভা করার চেষ্টা : এ দিকে ভার্চুয়ালি সভা করার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর একটি আবাসিক এলাকায় সভার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে কয়েকজন পরিচালক এতে সায় দেননি। এমন একজন পরিচালক গতকাল নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, পর্ষদ সভা করতে হলে প্রয়োজন হয় এমডি ও বোর্ড-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। কিন্তু তাদের অনুপস্থিতিতে পর্ষদ সভা করা যৌক্তিক হবে না। এ কারণে অফিসের বাইরে পর্ষদ সভা করার চেষ্টাও ব্যর্থ হয়ে যায়। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (রাত ৯টা) যেকোনো উপায়ে চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে পর্ষদ করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এক কর্মকর্তা।

পুলিশের হামলায় আহতদের তালিকা (একাংশ) : মতিউর রহমান (সাউন্ড গ্রেনেডের আঘাতে পায়ের গিরা ফেটে গেছে), মো: সোহেল (বাম কানে সাউন্ড গ্রেনেডের ¯িপ্রংয়ের আঘাত, ৫টি সেলাই লেগেছে), জহির উদ্দিন বাবর (পিঠে সাউন্ড গ্রেনেডের আঘাতে ক্ষত হয়ে গেছে), ইব্রাহিম (সাউন্ড গ্রেনেডের ¯িপ্রংয়ের আঘাতে পায়ের গিরা ফেটে গেছে), মো: সেহেল (পায়ে পুলিশের লাঠির আঘাত), শহিদুল্লাহ (পুলিশের লাঠির আঘাত), ওমর ফারুক (সাউন্ড গ্রেনেডের ¯িপ্রংয়ের আঘাতে পায়ের গিরা ফেটে গেছে এবং হাতে পুলিশের লাঠির আঘাত লেগেছে), ইকবাল হোসাইন (সাউন্ড গ্রেনেডের ¯িপ্রং আঘাতে পায়ের গিরা ফেটে গেছে), দেলোয়ার হোসেন (সাউন্ড গ্রেনেডের ¯িপ্রংয়ের আঘাতে কান ফেটে গেছে, ৫টি সেলাই লেগেছে)।

এ ছাড়া পুলিশের লাঠির বাড়িতে হাতে ও পায়ে আঘাত পেয়েছেন সোহাগ, জামাল উদ্দিন, মোবারক, মো: মজিবুর রহমান, জুয়েল রানা, জহির আহমেদ, আতিকুর রহমান, মিকাইল ইসলাম, রেজাউল করিম, হাবিবুর রহমান, নুর মোহাম্মদ, ফারুক-ই আজমসহ আরো অনেকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকে তলব : অন্য দিকে দেশের অর্থনীতির প্রধান মেরুদণ্ড হিসেবে খ্যাত সর্ববৃহৎ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের বিরাজমান পরিস্থিতি উত্তরণে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার পর্ষদের সব সদস্য ও তিন এএমডিকে তলব করা হয় বাংলাদেশ ব্যাংকে। আজ বিকেলে বা সন্ধ্যার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

রাস্তার আন্দোলনে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হবে না : বাংলাদেশ ব্যাংক

এ দিকে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে আন্দোলন ও বিক্ষোভের মুখে বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো ধরনের রাস্তার আন্দোলন বা চাপের মুখে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এ কথা বলেন। সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক আবেগ, চাপ বা রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়; বরং আইন, বিধি এবং প্রতিষ্ঠানের সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সংক্ষুব্ধ হলে তারা আইনসম্মত উপায়ে মতপ্রকাশ কিংবা প্রতিকার চাইতে পারেন, তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়াতেই হবে। আরিফ হোসেন খান বলেন, কোনো ব্যাংক যদি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে পরিচিত হয়ে ওঠে, তাহলে তা ব্যাংকটির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও টেকসই কার্যক্রমের জন্য বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ দেখে মনে হচ্ছে কিছু ব্যাংক বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাববলয়ে চলে যাচ্ছে, যা দেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য শুভ নয়। তিনি জানান, ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড সভাকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাঝুঁকির আশঙ্কায় সরাসরি সভার পরিবর্তে ভার্চুয়াল সভা আয়োজনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানান তিনি।

ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের গুলি করার প্রতিবাদ : জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষা এবং নবনিযুক্ত বিতর্কিত চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত সাধারণ গ্রাহকদের ওপর পুলিশের গুলি চালিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করা এবং লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস ও জলকামান ব্যবহারের আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সাথে গ্রাহকদের যৌক্তিক দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করছি।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, সোমবার সকাল থেকে ঢাকার মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে সাধারণ গ্রাহকরা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। ব্যাংকের আমানতকারী ও গ্রাহকদের স্বার্থেই তারা এই আন্দোলন করছিলেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, পুলিশ কোনো উসকানি ছাড়াই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নিরীহ ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করে এবং জলকামান ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে পুলিশ গুলি চালিয়ে বহু আমানতকারীকে মারাত্মকভাবে আহত করে। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আমি তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। আমানতকারী ও গ্রাহকদের নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে হামলা করা পুলিশের কাজ নয়। পুলিশের এই অযাচিত বলপ্রয়োগ ও দমনপীড়ন অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।

তিনি আরো বলেন, গ্রাহকদের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর ও যৌক্তিক। বিগত দিনে একটি নির্দিষ্ট মহলের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের ব্যাংকিং খাতে যে নজিরবিহীন লুটপাট ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে, দেশের মানুষ তা ভুলে যায়নি। গ্রাহকরা মনে করেন, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর। তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রাখলে ব্যাংকটি আবারো ভয়াবহ লুটপাটের মুখে পড়বে এবং সাধারণ মানুষের আমানত অনিরাপদ হয়ে পড়বে। নিজের কষ্টের জমানো টাকার নিরাপত্তা চাওয়া এবং ব্যাংকের সুরক্ষায় সোচ্চার হওয়া প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার।

বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল জোর দিয়ে বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, ব্যাংক জনগণের আমানতে চলে। গ্রাহকদের স্বার্থ উপেক্ষা করে কোনো ব্যাংক টিকতে পারে না। সাধারণ গ্রাহকদের কণ্ঠরোধ করতে পুলিশের গুলি চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অবিলম্বে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। অবিলম্বে অবৈধ ও দলীয়ভাবে নিয়োগকৃত চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিলপূর্বক কোটি কোটি আমানতকারী ও গ্রাহকদের ক্ষোভ ও উত্তেজনা প্রশমন এবং ব্যাংকের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।