ভারতে ফিরলেন সোনালী ও ছেলে

প্রতিশ্রুতি দিয়েও বাকি চারজনকে গ্রহণ করেনি বিএসএফ

Printed Edition

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফের পুশইনের পর চাঁপাইনবাবগঞ্জে গ্রেফতার অন্তঃসত্ত্বা ভারতীয় নাগরিক সোনালী খাতুন ও তার সন্তান সাব্বির শেখকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে তাদের ভারতে পাঠানো হয়। তবে একই সাথে গ্রেফতার অপর চারজনকে গ্রহণ করেনি বিএসএফ।

বিজিবির ৫৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সোনালী খাতুন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার পাকুরের বাসিন্দা দানিশ শেখের স্ত্রী।

বিজিবি অধিনায়ক বলেন, সোনামসজিদ আইসিপিতে আনুষ্ঠানিক পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে সোনালী খাতুন ও তার আট বছরের সন্তান মো: সাব্বির শেখকে সুস্থ ও নিরাপদ অবস্থায় বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুকে পুশইন করায় সৃষ্ট মানবিক ঝুঁকি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি নজরে আসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবি সদর দফতরের। এরপর কূটনৈতিক পর্যায়ে নিবিড় যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে উভয় দেশের সম্মতিতে ভারতীয় নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার তাদেরকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হলো।

তবে প্রতিশ্রুতি দিলেও সোনালী খাতুনের স্বামী দানিশ শেখসহ (২৮) একই এলাকার সুইটি বিবি (৩৩) ও তার দুই সন্তান- মো: কুরবান দেওয়ান (১৬) ও মো: ইমাম দেওয়ানকে (৬) গ্রহণ করেনি বিএসএফ। সোনালী খাতুন ও সাব্বিরকে নিয়ে যাওয়ার পর বিএসএফ জানায়, কিছুক্ষণের মধ্যেই বাকি চারজনকে ফিরিয়ে নেয়া হবে; কিন্তু বিজিবি এক ঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষা করলেও বিএসএফ কর্মকর্তারা বাকিদের ফিরিয়ে নিতে আসেননি।

এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন- রাজশাহীতে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার মনোজ কুমার, চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এন এম ওয়াসিম ফিরোজসহ অন্যরা।

এর আগে গত সোমবার সোনালীসহ চার ভারতীয় নাগরিককে জামিন দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (তৃতীয়) আদালত।

আসামিপক্ষের আইনজীবী একরামুল হক পিন্টু বলেন, অন্তঃসত্ত্বা সোনালী খাতুন যেকোনো সময় সন্তান প্রসব করতে পারেন। এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনিসহ বাকি আরো তিনজনকে জামিন দেয়া হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার নয়াগোলা গ্রামের ফারুক হোসেন তার জিম্মাদার হয়েছেন। তিনি সোনালী খাতুনের আত্মীয় হন।

গত ২০ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের আলীনগর থেকে সোনালী খাতুনসহ ছয় ভারতীয়কে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা হলেন- পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার পাকুরের বাসিন্দা ও সোনালী খাতুনের স্বামী দানিশ শেখ (২৮), তাদের সন্তান সাব্বির শেখ (৮) এবং সুইটি বিবি (৩৩) ও তার দুই সন্তান, মো: কুরবান দেওয়ান (১৬) ও মো: ইমাম দেওয়ান (৬)।

পুলিশ ও বিজিবি জানায়, ওই ছয় ভারতীয় নাগরিককে কুড়িগ্রামের একটি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইন করে বিএসএফ। পরে তাদের বিরুদ্ধে সীমান্তে অনুপ্রবেশ আইনে মামলা দায়েরের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে ওই ছয়জনের মধ্যে দুইজন কোলের শিশু হওয়ায় মামলায় তাদের আসামি করা হয়নি। ঘটনাটি ভারতীয় গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয় এবং দেশটিতে আলোচনার জন্ম দেয়। পরে গ্রেফতারকৃতদের পরিবার আদালতে মামলা দায়ের করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্ট গত ২৬ সেপ্টেম্বর ছয় ভারতীয় নাগরিককে ফেরাতে চার সপ্তাহের সময় বেঁধে দেয়।