নিজস্ব প্রতিবেদক
অগ্নিঝরা মার্চের শুরু আজ। পরাধীনতার শৃঙ্খল, শোষণ-বঞ্চনা আর অত্যাচারের অর্গল ছিন্ন করতে একাত্তরের মার্চে এ জনপদে মুক্তিকামী মানুষের মনে জ্বলে উঠেছিল স্বাধীনতার অনির্বাণ শিখা। স্বাধীনতাকামী মানুষের আন্দোলন-সংগ্রামে উত্তাল হয়ে উঠে গোটা দেশ। আর এর পথ ধরেই দীর্ঘ ৯ মাস স্বশস্ত্র রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় মহান স্বাধীনতা। পূর্ব বাংলা অর্জন করে লাল-সবুজ খচিত একটি মানচিত্র, স্বাধীন সার্বভৌম সোনার বাংলাদেশ।
এ বাংলায় মার্চের শুরুর দিকেই মুক্তিযুদ্ধে জোরালো প্রস্তুতি চলে। শোষণ আর বঞ্চনা বাঙালির মনে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ-বিক্ষোভ দানা বেঁধে ওঠে। গর্জে উঠতে শুরু করে পূর্ব বাংলার স্বাধীনতাকামী মানুষ। ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। বাঙালিরা যখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার জন্য প্রহর গুনছিল তখন সামরিক জান্তা ইয়াহিয়া খান আকস্মিকভাবে আজকের এই দিনে জাতীয় পরিষদের পূর্ব নির্ধারিত ৩ মার্চের অধিবেশন বাতিল করেন। রেডিওতে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সাথে সাথে এ বাংলার মানুষ ফুঁসে ওঠে দাবানলের মতো। শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীসহ আরো অনেকেই অসহযোগ আন্দোলন সফল করার জন্য পথে-প্রান্তরে ছুটে বেড়ান।
মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকেই ঢাকাসহ সারা দেশের স্কুল-কলেজ, মাদরাসা, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস, কলকারখনা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। অচল হয়ে পড়ে গোটা দেশ। স্বাধীনতা আদায়ের দৃঢ় সঙ্কল্পে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন দিন দিন তীব্র হয়ে ওঠে। এই আন্দোলন দমানোর জন্য ধরপাকড় ও গ্রেফতার শুরু করে পাকিস্তান বাহিনী। সংগ্রামী চেতনায় আলোড়িত বাঙালি তবুও নিশ্চুপ থাকেনি; বেছে নেয় মুক্তির পথ, স্বাধীনতার সংগ্রাম। দীর্ঘ ৯ মাস অবিরাম রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করে বীর বাঙালি পরাজিত করে পাক হানাদার বাহিনীকে। বীর বাঙালি এক সাগর রক্তের বিনিময়ে ছিনিয়ে আনে লাল-সবুজের পতাকা আর অক্ষয় মানচিত্র।



