নয়া দিগন্ত ডেস্ক
গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরাইলি বাহিনীর হামলা থামেনি। পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিমতীরেও ইসরাইলি সেনাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে, বেড়েছে দখলদারদের দমন-পীড়ন। স্থানীয় সূত্র মতে, গতকাল গাজা শহরের পূর্বাঞ্চলের তুহফাহ এলাকায় ইসরাইল যুদ্ধবিমান হামলা চালিয়েছে। একই সময় গাজার উপকূলে নৌসেনারা গুলি ছোড়ে এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আর্টিলারি গোলাবর্ষণ করা হয়। দক্ষিণের খান ইউনুস এলাকার পূর্বাংশেও বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় শিশুসহ অন্তত চারজন ফিলিস্তিনি নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খান ইউনুসের কেন্দ্রস্থলের একটি স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। খবর : আনাদোলু, এপি ও মিডলইস্ট মনিটরের।
মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই : গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭২ হাজার ১২৩ জনে পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছেন প্রায় এক লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও হামলা অব্যাহত থাকায় নতুন করে বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো হাজারো লাশ আটকে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্য দিকে গাজা শহর ও উত্তর গাজার বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক গোলাবর্ষণ ও গুলিতে এক শিশুসহ চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১২ বছর বয়সী ইসমাইল আকল রয়েছে, যে উত্তর গাজার একটি স্কুলের কাছে গুলিতে নিহত হয়। তুহফাহ এলাকায় গোলাবর্ষণে ৫৪ বছর বয়সী আয়মান আহমেদ আল-নাবিহ নিহত হন। শুজাইয়া এলাকায় হামলায় ৩২ বছর বয়সী আবদেলওয়াহাব আসাদ কানবুর নিহত হন এবং আরো একজন যুবক আহত হয়েছেন।
পশ্চিমতীরে অভিযান ও গ্রেফতার : গাজায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিমতীরেও ইসরাইলি সেনাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নাবলুসের পূর্বে আজমুত গ্রামের কাছে এক ফিলিস্তিনি সেনাদের হামলায় আহত হয়েছেন। একই সময়ে বালাতা শরণার্থী শিবিরসহ বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে দুই ফিলিস্তিনি যুবককে আটক করা হয়েছে। ফিলিস্তিনি সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পশ্চিমতীর ও পূর্ব জেরুসালেমে ইসরাইলি অভিযান ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ সময়ের মধ্যে এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত, প্রায় ১১ হাজার ৭০০ জন আহত এবং প্রায় ২২ হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে।
এ দিকে জাতিসঙ্ঘের বিশেষ প্রতিবেদকরা সতর্ক করে বলেছেন, গাজায় চলমান সহিংসতার প্রভাব পশ্চিমতীর ও পূর্ব জেরুসালেমেও ছড়িয়ে পড়ছে। তাদের মতে, ঘরবাড়ি ধ্বংস, জোরপূর্বক উচ্ছেদ এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বাড়ছে। চেকপয়েন্ট ও অবরোধের কারণে ফিলিস্তিনিদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
গাজায় সেনা পাঠাবে কসোভো : এ দিকে গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর অংশ হিসেবে সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে কসোভো। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকার ও সংসদের অনুমোদন পেলে কসোভো নিরাপত্তাবাহিনী এই মিশনে অংশ নিতে প্রস্তুত। কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় ভূমিকা রাখাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
ত্রাণ বহর উদ্যোগ ঘিরে উত্তেজনা : গাজায় ত্রাণ পৌঁছানোর লক্ষ্যে নতুন সমুদ্রপথের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে তিউনিসিয়ায় কয়েকজন ফিলিস্তিনপন্থী কর্মীকে আটক করা হয়েছে। আয়োজকদের অভিযোগ, দানের অর্থ ব্যবহারের অভিযোগ তুলে তদন্তের নামে কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী স্পেন, তিউনিসিয়া ও ইতালি থেকে জাহাজ নিয়ে এক হাজারের বেশি কর্মী গাজার উদ্দেশে যাত্রা করতে পারেন। বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় যুদ্ধবিরতি থাকলেও হামলা, অবরোধ এবং মানবিক সঙ্কটের কারণে পুরো অঞ্চলেই অস্থিরতা আরো বাড়ছে।


