ক্রীড়া প্রতিবেদক
মাসিক এক লাখ টাকার ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড পেয়ে এমন উচ্ছ্বসিত লালসবুজের ক্রীড়াবিদরা। খুশির আবহে কারো কারো চোখে পানিও চলে এসেছে। এ যেন অনেক দিনের চাওয়া পূরণ। এতদিনে ক্রিকেটকে দেখে দেখে কতই না আফসোস করেছেন। ফেডারেশনগুলোর কাছে দাবি যে করেননি তাও নয়। কিন্তু ফেডারেশন বরাবরই নিজেদের অক্ষমতা প্রকাশ করেছে। ইচ্ছে থাকলেও বেতনকাঠামোয় আনতে পারেনি সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের। কোনো টুর্নামেন্ট জিতে এলে পঞ্চাশ হাজার, এক লাখ কিংবা পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে সংবর্ধিত করেছেন। তাও হাতে গোনা। এবার মাসে একলাখ টাকা বেতন খেলোয়াড়দের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা যুগিয়েছে।
চোখ বন্ধ করে পেশা হিসাবে নেয়া যাবে
প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ভাতা পেয়ে আনন্দের পাশাপাশি চ্যালেঞ্জও মনে করছেন জাতীয় নারী ফুটসাল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। এতদিন ক্রিকেট ও ফুটবলের বাইরে অন্য অ্যাথলেটদের জন্য জীবনধারণ ছিল এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। সেই অনিশ্চয়তা দূর হওয়া প্রসঙ্গে সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন বলেন, ‘খেলোয়াড়েরা এখন চোখ বন্ধ করে খেলাকে পেশা হিসেবে নিতে পারবে এবং সেই মুহূর্তটা আমার মনে হয় চলে এসেছে। এই ভাতা কার্ড যেটা সরকার থেকে আমাদের দিয়েছে, সেটার কারণে খেলোয়াড়দের খেলার চাহিদাটা অনেক বেড়ে যাবে এবং কমপিটিশন লেভেলটা আমার মনে হয় আরো বাড়বে।’
টাকার জন্য কাউকে খেলা ছাড়তে হবে না
আর্থিক টানাপড়েনের বাস্তবচিত্র তুলে ধরে সাবেক দ্রুততম মানব মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, ‘একজন অ্যাথলেটের ফিটনেস ঠিক রাখা ও পুষ্টির চাহিদা মেটাতেই মাসে ৩০-৪০ হাজার টাকা লাগে। আমরা পারফরম্যান্স করব নাকি টাকার টেনশন করব? সরকারের এই উদ্যোগ আমাদের খুবই কাজে দেবে। টাকার জন্য এখন আর কাউকে খেলা ছাড়তে হবে না।’
খ্যাপ খেলার দিকে তাকাতে হবে না
ভাতা পেয়ে আনন্দে উচ্ছ্বসিত পদকজয়ী শাটলার আল আমিন। তার কথা, ‘ধন্যবাদ জানই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্যারকে, এমন একটি উদ্যোগ নেয়ার জন্য। এটি পারিবারিক দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন আনবে। আগে পরিবার থেকেও বাধা আসত, এখন সবাই খেলাধুলা দিয়েই ভবিষ্যৎ গড়তে চাইবে। আমাদের সিজনের (খ্যাপখেলা) দিকে আর তাকাতে হবে না। জুনিয়র প্লেয়াররা এখন ব্যাডমিন্টনে আরো আগ্রহী হবে। ভবিষ্যৎ তৈরি করা অনেকটা সহজ হবে। জুনিয়ররা ভালো খেলে আমার জায়গায় আসতে চেষ্টা করবে।’ আরেক শাটলার উর্মি আক্তারের কথা, ‘আমরা গর্বিত, অনুপ্রাণিত। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে মাসিক ভাতা নেয়া এক দারুণ অনুভূতি, যা বলে বুঝানো সম্ভব নয়।’
কখনো ভাবিনি এক লাখ টাকা বেতন হবে
ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে রুপা জয়ী টেবিল টেনিস খেলোয়াড় খই খই মারমা বলেন, ‘কখনো ভাবতে পারিনি, মাসে এক লাখ টাকা করে পাবো।
প্রধানমন্ত্রী অ্যাথলেটদের দুঃখ বুঝেছেন
দুবাইয়ে এশিয়ান ইয়ুথ প্যারা গেমসের স্বর্ণ জেতা সাঁতারু মো: শহিদুল্লাহ বলেন, নিজেকে অনেক গর্বিত মনে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আমাদের মতো প্যারা অ্যাথলেটদের দুঃখ-কষ্ট বুঝতে পেরেছেন। স্বাভাবিক মানুষদের চেয়ে আমরা অনেক বেশি কষ্ট করি।



