চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্ত দিয়ে সাতজন বাঙালিকে জোরপূর্বক ঠেলে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে (পুশইন) ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর বিরুদ্ধে। বাংলাদেশে প্রবেশের পর এদের মধ্যে দু’জনের পরিচয় পাওয়া গেলেও বাকি পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে গতকাল ভোর সাড়ে ৪টার দিকে জীবননগরের কোনো এক সীমান্ত পয়েন্ট ব্যবহার করে বিএসএফ তাদের জোর করে বাংলাদেশে পাঠায়। পুশইন হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে শনাক্ত হওয়া দু’জন হলেন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার দেয়ারলাক গ্রামের বাসিন্দা আমিনুর রহমান ও তার ছেলে খলিলুর রহমান। তবে তাদের সাথে থাকা বাকি পাঁচজনের নাম-পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
ভোরে জীবননগর পৌর শহরে ঘুরে বেড়ানোর সময় একজন সংবাদকর্মীর সাথে তাদের সাাথের ভিডিও ভাইরাল হওয়া সূত্রে জানা যায় পুশইন হওয়া আমিনুর রহমান জানান, কর্মসংস্থানের সন্ধানে প্রায় আড়াই বছর আগে তারা অবৈধ পথে ভারতে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার ভোরে বিএসএফ তাদের চোখ বেঁধে সীমান্তে নিয়ে আসে এবং জোর করে পার করে দেয়। বাংলাদেশে প্রবেশের পর বিএসএফের পরামর্শেই তারা নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে ভিন্ন ভিন্ন পথ ধরে আলাদা হয়ে যান। সীমান্ত অতিক্রমের সময় বিজিবির কোনো টহল দলের মুখোমুখি হননি বলেও তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম নয়া দিগন্তকে জানান, সমাজমাধ্যমে পুশইন সম্পর্কিত একটি ভিডিও তাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তবে ৫৮ বিজিবি নিয়ন্ত্রিত সীমান্তের ভারতীয় অংশে ‘পাটোয়ারী’ নামে কোনো গ্রাম বা সীমান্ত পয়েন্টের অস্তিত্ব নেই। ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি বা পুশইন হওয়া কাউকে বিজিবি এখনো সরাসরি খুঁজে পায়নি, তারা সম্ভবত খুলনা চলে গেছে। সার্বিক বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
চুয়াডাঙ্গা দর্শনা সীমান্তে ৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত
দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা জানান, চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পাঁচজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে পুশইনের চেষ্টা বিজিবির তৎপরতায় প্রতিহত করা হয়েছে।
গতকাল ভোর ৪টার দিকে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধীন দর্শনা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ৭৬/৪-এস সংলগ্ন গেট দিয়ে প্রতিপক্ষ ৩২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের গেদে ক্যাম্পের মাধ্যমে পাঁচজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। তাদের মধ্যে একজন পুরুষ, তিনজন নারী এবং পাঁচ বছর বয়সী একজন শিশু ছিল।
চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর তোয়াসীন হাবীব হাসান বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা, অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও দায়িত্বশীলভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের যেকোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।



