লজ্জাশীল জীবন : ঈমান ও সমাজের সংরক্ষণ

লজ্জাহীনতার সবচেয়ে প্রকট ও বিপজ্জনক পরিণতি হলো- পারিবারিক বন্ধনের ক্ষয়। লজ্জা ও হায়া হলো বিয়ে প্রতিষ্ঠানের দৃঢ়তা ও স্থায়িত্বের ভিত্তি।

Printed Edition
লজ্জাশীল জীবন : ঈমান ও সমাজের সংরক্ষণ
লজ্জাশীল জীবন : ঈমান ও সমাজের সংরক্ষণ

মুফতি আহমাদুল্লাহ মাসউদ

মানুষের মূল সৌন্দর্য নিহিত তার চারিত্রিক গুণাবলিতে। দেহের সাজসজ্জা, ধন-সম্পদ বা বাহ্যিক চাকচিক্য মানুষকে সম্মানিত করে না; মানুষকে প্রকৃত অর্থে সম্মানিত ও মর্যাদাবান করে তোলে তার অন্তরের গুণ, নৈতিকতা ও শালীনতা। আর এসব গুণাবলির মধ্যে এমন অনন্য একটি গুণ আছে- যা হারিয়ে গেলে অন্য সব গুণও ধ্বংস হয়ে যায় এবং মানুষ তার মানবিক মর্যাদা হারিয়ে পশুর কাতারে শামিল হয়ে যায়। সেই অনন্য গুণটি হলো- হায়া (লজ্জাশীলতা)। লজ্জা মানুষের অন্তরের এমন এক রূপসৌন্দর্য, যা ব্যক্তির চিন্তা, দৃষ্টি, আচরণ ও উচ্চারণকে পরিশুদ্ধ করে তোলে। প্রকৃতপক্ষে লজ্জাই মানুষকে গুনাহ থেকে দূরে রাখে, কল্যাণের পথে চালিত করে এবং অটুট ঈমানের অধিকারী বানায়। রাসূলুল্লাহ সা: ইরশাদ করেছেন, ‘লজ্জা হলো ঈমানের একটি শাখা’। (বুখারি-৯) যার অন্তরে লজ্জা নেই, তার অন্তরে ঈমানের আলোও ম্লান হয়ে যায়। লজ্জা মানুষকে অন্যায় ও অশ্লীলতার দ্বার থেকে ফিরিয়ে আনে, হারাম কাজ থেকে বিরত রাখে এবং আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর জবাবদিহির অনুভূতি জাগ্রত করে। আজকের বাস্তবতা অত্যন্ত দুঃখজনক- আমাদের সমাজে হায়ার ধ্বংসযজ্ঞ স্পষ্ট দৃশ্যমান। গণমাধ্যম, বিনোদন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, এমনকি শিক্ষাঙ্গন পর্যন্ত লজ্জাহীনতার বিষ ছড়িয়ে পড়েছে। নারী হোক বা পুরুষ, উভয়ই আজ লজ্জার সীমা ভুলে, নির্লজ্জতার প্রতিযোগিতায় নিমগ্ন হয়ে পড়েছে। অশ্লীলতা, বেপর্দা চলাফেরা, ফ্যাশনের নামে নগ্নতা- এসব যেন সমাজের নিত্য রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে, লজ্জা হলো সম্মানের ঢাল, চরিত্রের অলঙ্কার ও ঈমানের সংরক্ষক। আমরা কি আমাদের পরিবার, সন্তান, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই লজ্জাহীনতার এই সুনামি থেকে রক্ষা করতে পারব? নাকি নীরব থেকে লজ্জাহীনতার এই বিষাক্ত স্রোতে তলিয়ে যাব?

হাদিসের আলোকে লাজ-লজ্জা : রাসূল সা: ইরশাদ করেছেন, ‘ঈমানের শাখা-প্রশাখা ষাটেরও বেশি। আর লাজ-লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।’ (বুখারি-৯) হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা: বলেন, রাসূল সা: একবার এক আনসারি মুসলিমের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যিনি তার ভাইকে অতিরিক্ত লজ্জা-শরম না করা সম্পর্কে উপদেশ দিচ্ছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সা: ইরশাদ করলেন, ‘তাকে তার অবস্থায় থাকতে দাও; কারণ লজ্জা তো মূলত ঈমানেরই একটি অংশ।’ হজরত ইমরান বিন হুসাইন রা: বলেন, রাসূল সা: ইরশাদ করেন, ‘লজ্জা-শরম কেবল কল্যাণই বয়ে আনে।’ তিনি অন্যান্য ধর্মের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আরো বলেন, ‘প্রত্যেক ধর্মের একটি আলাদা পরিচয় থাকে, আর আমাদের ধর্মের আলাদা পরিচয় হলো লজ্জা-শরম।’ তিনি আরো বলেন, ‘যখন তোমার মধ্যে হায়া অবশিষ্ট না থাকে, তখন তুমি যা ইচ্ছা তাই করবে।’ (বুখারি-৩৪৮৪) অর্থাৎ- কোনো খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখার একমাত্র কারণ হলো লজ্জা-শরম। যখন মানুষের মধ্যে শরমের অভাব ঘটে এবং লজ্জা অবশিষ্ট থাকে না, তখন সে তার খুশিমতো কাজ করতে থাকে। আর যখন মানুষ নিজের কামনা-বাসনার দাসে পরিণত হয়, তখন তার ধ্বংস অনিবার্য হয়ে ওঠে। এই বাস্তবতার দিকেই ইঙ্গিত করে রাসূল সা: ইরশাদ করেছেন, ‘যখন আল্লাহ তায়ালা কোনো বান্দাকে ধ্বংস করতে চান, তখন তার কাছ থেকে লজ্জা-শরমকে ছিনিয়ে নেন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ-৪০৫৪)

এক দীর্ঘ হাদিসে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা: বলেন, রাসূল সা: লোকদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে বললেন, ‘তোমরা আল্লাহ তায়ালার কাছে এমনভাবে হায়া করো, যেমনভাবে তাঁর কাছ থেকে হায়া করা উচিত।’ লোকেরা আরজ করল, আলহামদুলিল্লাহ! আমরা তো আল্লাহ তায়ালার কাছে লজ্জা করি। তখন রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, ‘না, তোমরা যেটি বুঝেছ হায়ার অর্থ এত সীমিত নয়; বরং আল্লাহর কাছ থেকে হায়া করার অর্থ হলো- মাথা ও মাথার ভেতরে যে চিন্তা-ভাবনা রয়েছে তার পাহারাদারি করা, পেট ও পেটের ভেতরে যা কিছু রয়েছে তার পাহারাদারি করা, আর মৃত্যু ও মৃত্যুর পর যা ঘটবে সেটি স্মরণে রাখা। যে এমন করবে, বুঝে নাও সে-ই আল্লাহ তায়ালার কাছে হায়া করার হক আদায় করেছে।’ এই হাদিসে চিন্তা-ফিকির ও আমল থেকে নিয়ে মৃত্যু ও তার পরবর্তী জীবন পর্যন্ত সব বিষয়ে লজ্জার শিক্ষা দেয়া হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে লজ্জার সর্বাধিক হকদার হলেন আল্লাহ তায়ালার পবিত্র সত্তা। আর যেহেতু আল্লাহ তায়ালার কাছে কোনো কিছুই গোপন নয়, তাই প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সব অবস্থায় আল্লাহর সাথে লাজ-শরম করা উচিত। আল্লাহর সাথে লজ্জা করার প্রকৃত অর্থ হলো তাকওয়া অবলম্বন করা এবং একান্তে হোক বা জনসমক্ষে, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা আর নেকির কাজে অগ্রসর হওয়া।

অন্য হাদিসে রাসূল সা: ইরশাদ করেন, ‘তোমরা তোমাদের গোপনাঙ্গ হিফাজত করো (কারো সামনে প্রকাশ করো না) তবে স্ত্রী ও দাসী ব্যতীত।’ এক সাহাবি আরজ করল, হে আল্লাহর রাসূল! একান্ত নির্জন অবস্থায়ও (খোলা যাবে না)? তিনি উত্তর দিলেন, ‘আল্লাহ তায়ালাই সবচেয়ে বেশি হকদার যে, তাঁর সাথে লজ্জা করা হবে।’

রাসূল সা:-এর লজ্জা : হজরত আবু সাইদ খুদরি রা: বলেন, ‘রাসূল সা: এতটাই লাজুক ছিলেন, তিনি অন্তঃপুরবাসী কুমারী মেয়ের চেয়েও বেশি লজ্জাশীল ছিলেন।’এই কারণেই যাপিত জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে তিনি সব ধরনের অনুচিত কথা ও অশোভন আচরণ থেকে সম্পূর্ণ পরিশুদ্ধ ছিলেন। হজরত আয়েশা রা: বলেন, রাসূল সা: না ছিলেন অশ্লীল ভাষী, না তিনি কাউকে গালি দিতেন, আর তিনি হাট-বাজারে উচ্চ আওয়াজে কথা বলতেন। তিনি কখনো মন্দের বদলা মন্দ দিয়ে দিতেন না; বরং ক্ষমা করে দিতেন। এমনকি আমি তাঁর স্ত্রী হওয়া সত্ত্বে¡ও কখনো তাঁকে কাপড় ছাড়া দেখিনি। রাসূল সা: জুরহুদ বিন খুয়াইলিদ রা:-কে বলেন, ‘তুমি কি জানো না, উরুও (রান) ও সতরের মধ্যে শামিল।’ হজরত আলী রা: বলেন, রাসূল সা: ইরশাদ করেছেন, ‘হে আলী! কখনো তোমার উরু খুলো না এবং কারো জীবিত বা মৃত ব্যক্তির উরুর দিকে তাকিও না।’ হজরত আবু সাইদ খুদরি রা: বলেন, রাসূল সা: ইরশাদ করেছেন, ‘পুরুষ যেন অন্য পুরুষের সতরের দিকে না তাকায় এবং নারী যেন অন্য নারীর সতরের দিকে না তাকায়।’ হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা: বলেন, রাসূল সা: ইরশাদ করেছেন, ‘হে মানুষ! (একান্ত নির্জনতায়ও) উলঙ্গ হওয়া থেকে বেঁচে থাকো। কারণ তোমাদের সাথে সর্বদা ফেরেশতারা উপস্থিত থাকেন এবং কখনো তোমাদের থেকে আলাদা হন না। সুতরাং তাদের সাথেও লজ্জা করো এবং তাদেরকে সম্মান করো।’

তাই উম্মাহর ফুকাহাগণ লিখেছেন, প্রয়োজন ছাড়া যেমন পেশাব-পায়খানা বা দাম্পত্য সম্পর্ক ছাড়া সতর খোলা জায়েজ নয়। আর সম্পূর্ণ উলঙ্গ হয়ে গোসল করাও সুন্নত পরিপন্থী; বরং গোসল করার সময়ও কাপড় দিয়ে সতর ঢেকে রাখা উত্তম। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা: বর্ণিত- রাসূলুল্লাহ সা: ইরশাদ করেছেন, ‘নারীর পুরো সত্তাটাই তো সতর। যখন সে ঘর থেকে বের হয়, তখন শয়তানরা তার দিকে তাকিয়ে থাকে এবং তাকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। (সুতরাং, তার ব্যাপারে সতর্কতা গ্রহণ করা অপরিহার্য কর্তব্য)’ হজরত হাসান বসরি রা: বলেন, আমার কাছে রাসূলুল্লাহ সা:-এর এ বাণী পৌঁছেছে যে, ‘যে ব্যক্তি গায়রে মাহরাম নারীকে দেখে, তার উপর এবং ওই নারী-উভয়ের উপর আল্লাহর লানত পড়বে।’ সুতরাং যখন হঠাৎ করে কারো দিকে দৃষ্টি পড়ে যাওয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলো, তখন তিনি ইরশাদ করলেন, ‘সেদিক থেকে নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে নাও।’

হজরত বুরাইদা রা: বলেন, রাসূল সা: হজরত আলী রা:-কে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেন, ‘হে আলী! যদি কোনো গায়রে মাহরাম নারীর দিকে তোমার দৃষ্টি চলে যায়, তাহলে আবার তার দিকে তাকাইও না। তোমার জন্য প্রথম দৃষ্টি (যা অনিচ্ছাকৃত) তার অবকাশ ছিল; কিন্তু দ্বিতীয় দৃষ্টি কোনোভাবেই জায়েজ নয়।’ হজরত আবু উমামা রা: বর্ণনা করেন- রাসূল সা: ইরশাদ করেন, ‘যে মুমিন ব্যক্তির দৃষ্টি কোনো পর নারীর দিকে চলে যায় এবং সাথে সাথেই সে নিজের দৃষ্টিকে নিচু করে নেয়, আল্লাহ তায়ালা তাকে এমন এক ইবাদত নসিব করেন যার মাধুর্য ও স্বাদ সে নিজেই অনুভব করতে পারে।’ হজরত উমর রা: থেকে বর্ণিত- রাসূল সা: ইরশাদ করেন, ‘কখনো এমন হয় না যে, কোনো গায়রে মাহরাম পুরুষ কোনো নারীর সাথে একান্তে বসে থাকে এবং সেখানে তৃতীয়জন শয়তান উপস্থিত না থাকে।’ হজরত জাবির রা: বর্ণনা করেন, রাসূল সা: বলেন, ‘তোমরা সেই নারীদের ঘরে যেও না, যাদের স্বামীরা বাইরে আছে। কেননা, শয়তান মানুষের রগে রক্তের মতো প্রবাহিত হয়।’

হজরত আবু হুরায়রা রা: বলেন, রাসূল সা: ইরশাদ করেছেন, ‘চোখের ব্যভিচার হলো পর নারীর দিকে তাকানো। কানের ব্যভিচার হলো কিছু শোনা। জিহ্বার ব্যভিচার হলো গর্হিত কথাবার্তা বলা। হাতের ব্যভিচার হলো অবৈধ কিছু ধরা। পায়ের ব্যভিচার হলো নিষিদ্ধ জায়গায় গমনাগমন করা। (আর শোনো) অন্তর কামনা করে এবং গোপনাঙ্গ তার সত্যায়ন করে বা করে না।

লজ্জা ও পর্দা সমাজের নিরাপত্তার চাবিকাঠি : শরম ও হায়া-লজ্জা কখনো কখনো কঠিন মনে হতে পারে এবং সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে কিছুটা কষ্টদায়ক মনে হয়, যেমন- পুরুষ ও নারীর জন্য আলাদা বসা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হয়। নারীদের ঘরে পুরুষদের প্রবেশে বাধা, পুরুষদের জন্য দৃষ্টি সংযমের হুকুম, নারীদের জন্য হিজাব ও ওড়না বাধ্যতামূলক করা। যখন মানুষ মিশ্র সমাবেশে উপস্থিত থাকে, তখন দৃষ্টি সংযম রাখা তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। চোখের মাধ্যমে হৃদয়ে প্রবেশ করে অবৈধ প্রলোভন, কারণ রাসূলুল্লাহ সা: ইরশাদ করেছেন, ‘দৃষ্টি হলো অন্তরের দিকে ছোঁড়া একটি তীর।’ এই দৃষ্টিই জন্ম দেয় অবৈধ আকাক্সক্ষা, যা ধীরে ধীরে সমাজকে ধ্বংসের গভীর খাদে টেনে নিয়ে যায়। তাই জীবনের সব ক্ষেত্রে লজ্জা ও পর্দার গুরুত্ব অপরিসীম। যখন মানুষ আল্লাহর আসমানি শিক্ষাকে উপেক্ষা করবে, তার নির্দেশনাকে অবহেলা করে নিজস্ব কামনা-বাসনার বন্দনে নিমজ্জিত হবে, তখন তার জন্য ধ্বংস ও বিপর্যয় অবধারিত।

লজ্জাহীনতার পরিণতি : লজ্জাহীনতার সবচেয়ে প্রকট ও বিপজ্জনক পরিণতি হলো- পারিবারিক বন্ধনের ক্ষয়। লজ্জা ও হায়া হলো বিয়ে প্রতিষ্ঠানের দৃঢ়তা ও স্থায়িত্বের ভিত্তি। যখন পুরুষ অন্য নারীর দিকে দৃষ্টি দেয় না, বা যখন নারীর সতর নিরাপদ থাকে, তখন তার মন সম্পূর্ণরূপে নিজের স্ত্রীর প্রতি নিবদ্ধ থাকে। একইভাবে, যখন নারীর চাওয়া-পাওয়া একমাত্র তার স্বামীর প্রতি কেন্দ্রীভূত থাকে, তখন পারিবারিক বন্ধন আরো দৃঢ় ও শক্তিশালী হয়। এর ফলাফল হয় শান্তিময়, কল্যাণময় এবং সুস্থ সমাজ।

বর্তমান অবস্থা : আজকের এই সমাজ মানুষকে লজ্জা ও হায়ার চেতনাকে ভুলে যেতে প্রলুব্ধ করছে। সংস্কৃতির ছদ্মবেশে মানুষের মনে এমন একটি কুপ্রবণতা ঢুকে গেছে, যা তাকে তার স্রষ্টা থেকে বিচ্ছিন্ন করে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিচ্ছে। বিনোদন, ফ্যাশন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সিনেমা-টিভি ও শহুরে জীবন- এ সবের মাধ্যমে মানুষকে লজ্জাহীনতা, কামনার স্বেচ্ছাচারিতা এবং অনৈতিকতার দিকে আকৃষ্ট করা হচ্ছে। যে ব্যক্তি এই মোহময়, ব্যভিচারী ও লজ্জাহীন সমাজের সংস্কৃতির ফাঁদে পা রাখবে, সে জীবন্তভাবে প্রমাণ হবে কুরআনের সেই অমর বাণীর- ‘নিশ্চয় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত’। (সূরা আসর)

লেখক : শিক্ষক, জামিয়া নূরিয়া ইসলামিয়া কামরাঙ্গীরচর, ঢাকা