পীরগঞ্জে উত্তম কৃষিচর্চা পদ্ধতিতে আলুর বাম্পার ফলন, দামও ৪ গুণ বেশি

Printed Edition

আব্দুল হাকিম ডালিম পীরগঞ্জ (রংপুর)

রংপুরের পীরগঞ্জে পরীক্ষামূলক ‘পার্টনার’ প্রকল্পের আওতায় উত্তম কৃষি চর্চার মাধ্যমে আলু চাষে চলতি মৌসুমে অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। ফলন যেমন ভালো হয়েছে, তেমনি এই পদ্ধতিতে উৎপাদিত আলুর বাজারদর সাধারণ আলুর চেয়ে প্রায় চার গুণ বেশি হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। আধুনিক ও নিরাপদ এই চাষ পদ্ধতি এখন স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে পীরগঞ্জে এক হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে উত্তম কৃষি চর্চার মাধ্যমে আলু চাষ করা হয়েছে। এতে সম্ভাব্য উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৯ হাজার ৬১৫ মেট্রিক টন। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ২০টি প্রদর্শনীর মাধ্যমে অর্ধশত চাষি এই বিশেষ পদ্ধতিতে আলুর আবাদ করেছেন। অন্যদিকে, প্রথাগত পদ্ধতিতে ৬ হাজার ৮৩০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছে।

উত্তম কৃষি চর্চা বা পার্টনার প্রকল্পের পদ্ধতিতে চাষাবাদের প্রক্রিয়াটি বেশ শৃঙ্খলিত। সরেজমিনে দেখা যায়, এই পদ্ধতিতে আলুর জমি জালের বেষ্টনী দিয়ে এমনভাবে আবদ্ধ করা হয় যাতে কোনো পশু-পাখি বা অনাহূত মানুষ প্রবেশ করতে না পারে। জমিতে প্রবেশের জন্য একটি মাত্র গেট রাখা হয়। কৃষি কর্মকর্তা, শ্রমিক বা চাষি; যে কেউ ভেতরে প্রবেশের আগে হ্যান্ড গ্লাভস, অ্যাপ্রোন, মাস্ক ও গামবুট পরে শরীর জীবাণুমুক্ত করে নেন। এমনকি চাষকালীন জমিতে ধূমপান বা কোনো কিছু খাওয়াও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মাটি, পানি ও সারের গুণাগুণ ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করেই এখানে আবাদ করা হয়।

উপজেলার খেদমতপুর গ্রামের চাষি বেলাল প্রধান ও ডাক্তারপাড়ার এরশাদ হোসেন জানান, এই পদ্ধতিতে রোগবালাই কম হয় এবং কীটনাশকের খরচও অনেক কম। তারা বলেন, বর্তমানে বাজারে সাধারণ আলু কেজিপ্রতি ৬ থেকে ৯ টাকায় বিক্রি হলেও আমাদের এই ‘নিরাপদ আলু’ আড়ং, স্বপ্ন ও আগোরার মতো অভিজাত সুপারশপগুলো ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে কেনার জন্য যোগাযোগ করছে।

পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমন মিয়া বলেন, উত্তম কৃষি চর্চা পদ্ধতি মূলত নিরাপদ ও গুণগত মানসম্পন্ন খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করে। এটি পরিবেশগত ও সামাজিকভাবে টেকসই। এই আলু ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে দেশের বড় শপিং মলগুলোয় সরবরাহ এবং উন্নত বিশ্বে রফতানি করা সম্ভব। সাধারণ চাষের চেয়ে এতে খরচ কম ও লাভ অনেক বেশি।

স্থানীয় কৃষকরা মনে করছেন, সরকারের এই উদ্যোগ ও কারিগরি সহায়তা অব্যাহত থাকলে পীরগঞ্জের বিষমুক্ত ও নিরাপদ আলু দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। এ জন্য সরকার ও কৃষি বিভাগের নিবিড় সহযোগিতা কামনা করেছেন চাষিরা।