স্বাধীনতা দিবসে প্যারিসে বাংলাদেশী কমিউনিটির কর্মসূচি পালন

Printed Edition
প্যারিসে বাংলাদেশ দুতাবাসে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপদযাপন উপলক্ষে পতাকা উত্তোলন করা হয় : নয়া দিগন্ত
প্যারিসে বাংলাদেশ দুতাবাসে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপদযাপন উপলক্ষে পতাকা উত্তোলন করা হয় : নয়া দিগন্ত

মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইন প্যারিস থেকে

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৬তম দিবস পালিত হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ দূতাবাস, প্যারিসের নিজস্ব কার্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইউনেস্কোতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এবং ফ্রান্স ও মোনাকোতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহা। পরে দূতাবাসের অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা পরিচালনা করেন দূতাবাসের দূতালয় প্রধান মো: ওয়ালিদ বিন কাশেম।

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। এরপর ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মদানকারী বীর শহীদদের স্মরণে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করা হয়। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহা তার বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণের সাহসিকতার কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। একই সাথে তিনি নতুন প্রজন্মকে সাহস নিয়ে দেশ গঠনে অতন্দ্র প্রহরীর মতো এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাণী উদ্ধৃত করে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

বিএনপি ফ্রান্স শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ তাহের তার বক্তব্যে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সেদিন মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা না দিলে বাংলাদেশ রাষ্ট্র তার স্বাধীন অস্তিত্ব খুঁজে পেত না। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

বাংলাদেশী নাগরিক পরিষদের সভাপতি ও কমিউনিটি নেতা আবুল খায়ের লস্কর তার বক্তব্যে বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা স্বাধীনতার পরপরই বিকৃত করা হয় এবং ১৯৭৫ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ৭ নভেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সিপাহি-জনতার ঐক্যের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন।

অনুষ্ঠানে ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশী কমিউনিটির আরো বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য- বিএনপি ফ্রান্স শাখার সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, বিএনপি নেতা আব্দুস রশিদ পাটওয়ারী, বিএনপি নেতা কবির আহমেদ, কমিউনিটি নেতা ও ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম, বিএনপি নেতা মিল্টন সরকার, সমাজকর্মী, বরিশাল বিভাগীয় কমিউনিটি ইন ফ্রান্সের সভাপতি মনিরুল ইসলাম ও বাংলাদেশী নাগরিক পরিষদের সদস্য তানভীর ওয়াদুদ প্রমুখ।

এ ছাড়া দূতাবাসের কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিফেন্স অ্যাটাশে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ খায়রুজ্জামান মোল্লা (এনডিসি, পিএসসি), প্রথম সচিব শেখ মারেফত তারেকুল ইসলাম, মিনিস্টার (কমার্শিয়াল) মিজানুর রহমান, দ্বিতীয় সচিব কে এফ এম শারহাদ শাকিলসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।