কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
রুশ বাহিনীর হয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেয়া কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার এক তরুণের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তার এক সহযোদ্ধা ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে নিহতের পরিবারকে এ তথ্য জানিয়েছেন। নিহত ওই তরুণের নাম মো: রিয়াদ রশিদ (২৮)।
তিনি জাফরাবাদ ইউনিয়নের মাঝিরকোনা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো: আব্দুর রশিদের ছেলে। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে রিয়াদ ছিলেন চতুর্থ। সংসারের হাল ধরতে রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। তার মৃত্যুর খবরে পরিবারটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার চাচাতো ভাই জহিরুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে জানান, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে (প্রায় দেড় বছর আগে) একটি কোম্পানির ভিসায় রিয়াদকে রাশিয়ায় পাঠানো হয়। খরচ হয় সাত লাখ টাকার মতো। তাকে বিদেশে পাঠাতে তার বাবার ঋণ করতে হয়েছে।
জহিরুল বলছিলেন, ‘এতদিন ভালোই চলছিল তার। পরে রাশিয়াতেই এক দালালের খপ্পরে পড়ে বেশি টাকার প্রলোভনে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন।’
জানা গেছে, গত এপ্রিল মাসের ৭ তারিখ দেশটির সেনাবাহিনীতে চুক্তিভিত্তিক যোদ্ধা হিসেবে যুক্ত হন রিয়াদ। তার সাথে আরো অনেক বাংলাদেশী ওই দেশের সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘চুক্তিভিত্তিক সামরিক সেবায়’ যোগ দেন। রাশিয়ার হয়ে কয়েকদিন যুদ্ধেও অংশ নেন রিয়াদ। যুদ্ধে অংশ নেয়ার ছবি কয়েকদিন আগে ফেসবুকে পোস্টও করেন তিনি।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় রাশিয়া থেকে রিয়াদের সহযোদ্ধা লিমন দত্ত ফেসবুক মেসেঞ্জারে পরিবারের সদস্যদের কাছে তার নিহত হওয়ার খবর জানান।
লিমন দত্ত জানান, গত ২ এপ্রিল রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেন সীমান্ত এলাকায় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। এতে দুই বাংলাদেশী ও এক নাইজেরিয়ান সৈন্য নিহত হন। আহত হন আরো তিনজন। হামলায় লিমন দত্ত নিজেও একটি পা হারান এবং বর্তমানে সেখানকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শুক্রবার তিনি রিয়াদ রশিদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে পরিবারকে জানান। তিনি আরো জানান, ড্রোন হামলায় রিয়াদ রশিদের শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। তার লাশের অংশ চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। লিমন দত্ত রাশিয়াতে রিয়াদের সাথে সেনাবাহিনীর একই ক্যাম্পে চাকরি করেন। তার দেশের বাড়ি নরসিংদী জেলায়।
রিয়াদ রশিদের চাচাতো ভাই জহিরুল বলেন, রিয়াদের মৃত্যুর খবরে তার পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সাথে তার (রিয়াদ রশিদ) শেষ কথা হয় গত ২৮ এপ্রিল। এ ছাড়া মেসেঞ্জারে তাকে সর্বশেষ ২৯ এপ্রিল রাত ১০টা পর্যন্ত অনলাইনে দেখা গেছে। তবে এখনো রিয়াদ রশিদের লাশের কোনো সন্ধান মেলেনি। এ অবস্থায় কী করণীয়, তা বুঝে উঠতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা।
রিয়াদ রশিদের বাবা জাফরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আব্দুর রশিদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘সেনাবাহিনীতে যোগদানের কথা আমাকে জানায়নি। জানলে আমি আমার ছেলেকে কখনোই যোগদান করতে দিতাম না। ছেলের লাশের সন্ধান পাচ্ছি না। ড্রোন হামলায় নাকি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। বাবা হিসেবে এ কষ্ট কেমন করে সহ্য করব?’
করিমগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মোহাম্মদ মাহবুব মোরশেদ বলেন, ‘পুলিশ নিহত রিয়াদ রশিদের বাড়িতে গিয়েছিল। পরিবারের সূত্রে মৃত্যুর বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।’



