ভারতসহ বিভিন্ন দেশে মুসলিম হত্যার প্রতিবাদ

সারা দেশে বিক্ষোভ

Printed Edition
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম হত্যা, নির্যাতনের প্রতিবাদে খেলাফত মজলিস বাদজুমা রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করে : নয়া দিগন্ত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম হত্যা, নির্যাতনের প্রতিবাদে খেলাফত মজলিস বাদজুমা রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করে : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারতে মুসলিম নির্যাতন ও সীমান্ত হত্যা, যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তি বাতিল, দখলদার রাষ্ট্র ইসরাইল বিশ্বজুড়ে ক্রমাগত হত্যা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির প্রতিবাদে রাজধানীসহ দেশে বিক্ষোভ করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট এবং দলীয় কার্যালয়ে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

খেলাফত মজলিস : খেলাফত মজলিস মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেছেন, সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিকদেরকে গুলি করে হত্যা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ বারবার আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। পুশইন, মাদক চোরাচালানসহ অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভারত অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়। ভারতকে অবিলম্বে সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে হবে এবং সব হত্যাকাণ্ডের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। নিজ দেশের সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে। আধিপত্যবাদ নয়, প্রতিবেশীসুলভ আচরণ ও সম্পর্ক স্থাপনের আহ্বান জানান তিনি। সীমান্তে তিনজন বাংলাদেশী নাগরিককে হত্যা করা হলেও এর উপযুক্ত জবাব চাইতে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনারকে এখনো তলব করেনি বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অবিলম্বে বাংলাদেশ সরকারকে এই ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাই।

জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা মহানগরী উত্তর সভাপতি মাওলানা সাইফুদ্দিন আহমদ খন্দকারের সভাপতিত্বে ও মহানগরী দক্ষিণ সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেনে পরিচালনায় সমাবেশে সংগঠনের ঢাকা মহানগরী উত্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ : সংগঠনের সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আহমদ আবদুল কাইয়ূম বলেছেন, সারা বিশ্বে মুসলিমরা শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের ধর্মীয় বিধিবিধান পালন করে আসছে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মুসলিমরা নিজের পিতৃভূমিতে থেকেও আজ নিরাপদ নয়। পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম নির্যাতন হিন্দুত্ববাদের উগ্রতার বহিঃপ্রকাশ। গতকাল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কার্যালয়ে নিয়মিত মাসিক সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ইসলামী ঐক্য আন্দোলন : ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণ আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে নেতারা বলেছেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যে মুসলমানদের ওপর বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড ও অমানবিক নির্যাতন অনেকাংশে ইসরাইলকেও হার মানিয়েছে। মনে হচ্ছে ইসরাইলকে গুরু মেনেই ভারত এই মুসলিম নিধনযজ্ঞ চালাচ্ছে। ভারত সরকার মুসলমানদের জান-মাল, ইজ্জত-আব্রুর নিরাপত্তা দিতে চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। ভারত সরকার মুসলমানদের ওপর এই অত্যাচার-নির্যাতন বন্ধ না করলে চরম খেসারত দিতে হবে। জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশে নেতারা এ কথা বলেন।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ : পশ্চিমবঙ্গ ইস্যু ও বাণিজ্য চুক্তির প্রতিবাদে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নেতারা বলেন, নির্বাচনের তিনদিন আগে দেশের মানুষকে রীতিমতো অন্ধকারে রেখে অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অসম বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর করেছে। যে চুক্তিতে একতরফা ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে এবং বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণœ করা হয়েছে সে চুক্তি নিশ্চয়ই দেশের মানুষ চায় না। অবিলম্বে নতুন সরকারকে এ চুক্তি বাতিলে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। নেতারা আরো বলেন, পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের ওপর চলমান নির্যাতন, তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণ এবং সেখানে সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিজেপি সরকারকে অবিলম্বে মুসলিম জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও আহ্বান জানিয়েছেন।

গতকাল জুমার নামাজ শেষে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে সংগঠনটির নেতারা এ কথা বলেন। সমাবেশ শেষে একটি শান্তিপূর্ণ মিছিল বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে বিজয়নগর পানির ট্যাংকি মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

লেবার পার্টি : ভারতে ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশে পরিকল্পিতভাবে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী সঙ্ঘাত, সহিংসতা ও প্রতিহিংসার রাজনীতির কারণে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মদদে বিজেপির সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর নৃশংস হামলা, বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট, মসজিদ-মাদরাসায় ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের মহোৎসব চালাচ্ছে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মুসলমানদের নাগরিক অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা আজ মারাত্মক হুমকির মুখে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উচিত পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনাগুলো তদন্ত করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি। গতকাল নয়াপল্টন কার্যালয়ে বাংলাদেশ লেবার পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আবদুল মতীনের ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা মহানগর লেবার পার্টি আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

আগ্রাসন প্রতিরোধ আর্ন্তজাতিক আন্দোলন : সংগঠনটির আহ্বায়ক ও ইসলামী ঐক্যজোটের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা মাওলানা শওকত আমীন পীরসাহেব বি-বাড়িয়া বলেছেন, ভারতের বিজেপি যেভাবে পশ্চিমবঙ্গসহ সারা ভারতে হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, মসজিদ-মাদরাসা ধ্বংস ও সীমান্ত হত্যা চালিয়ে যাচ্ছে তার মোকাবেলায় শান্তিকামী বিশ্বকে চীনকে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ প্রতিরক্ষা জোট গঠন এখন সময়ের দাবি। জুমার নামাজের পর বাইতুল মোকাররমের উত্তর বারান্দায় আয়োজিত সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি কথাগুলো বলেন।

পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদে নেত্রকোনায় বিক্ষোভ

নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম নির্যাতন ও যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তির প্রতিবাদে নেত্রকোনায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শুক্রবার বাদ জুমা জমিয়তে ওলামা ইসলাম জেলা শাখার উদ্যোগে স্থানীয় বড় বাজার শাহী মসজিদ প্রাঙ্গণে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জেলা জমিয়তে ইসলামের সভাপতি মুফতি মুহাম্মদ তাহের কাসেমীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, হাফেজ দেলোয়ার হোসেন, আবুল বাশার, মুফতি আব্দুল বারী প্রমুখ। বক্তারা বলেন, উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপি নিরীহ ও শান্তিপ্রিয় মুসলমানদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ করে হত্যা, নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। মুসলমানদের ঘরবাড়ি, দোকান পাটে আক্রমণ চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করছে। অবিলম্বে অনাকাক্সিক্ষত কর্মকাণ্ড বন্ধ করা না হলে মুসলমানরা হাত গুটিয়ে ঘরে বসে থাকবে না হুঁশিয়ারি করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের যে আত্মঘাতী বাণিজ্য চুক্তি করা হয়েছে তা বাতিলের জোর দাবি জানানো হয়। পরে এক বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

পশ্চিমবঙ্গে মুসলমান নির্যাতনের প্রতিবাদে কলারোয়ায় বিক্ষোভ

কলারোয়া (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা জানান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন, বাড়িঘর ভাঙচুর, মসজিদে অগ্নিসংযোগ ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর হামলার প্রতিবাদে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে কলারোয়া উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি, আইম্মায়ে মাসাজিদ ও সর্বস্তরের মুসল্লিদের ব্যানারে আয়োজিত এ মিছিলে উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, খতিব, আলেম-ওলামা, ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। মিছিলটি কলারোয়া বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌরাস্তা মোড়ে গিয়ে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও মসজিদ-মাদরাসায় অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি কলারোয়া উপজেলা শাখার সভাপতি ও কলারোয়া থানা জামে মসজিদের খতিব মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান ফারুকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা ওলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা মো: ওসমান গনী।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কলারোয়া আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো: আহম্মদ আলী, কলারোয়া আল মাদানী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মো: ইমাম হাসান নাসেরী, নতুন বাজার জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মো: রুহুল কুদ্দুস, কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মো: তৌহিদুর রহমান, কলারোয়া আলিয়া মাদরাসা জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মো: আবুল হোসেন ও হাতিয়াভাঙ্গা জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মো: জালাল উদ্দিন প্রমুখ।

পরিশেষে দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন জাতীয় ইমাম সমিতির কলারোয়া উপজেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি ও কলারোয়া উপজেলা মডেল মসজিদের খতিব মাওলানা মো: খাইরুল ইসলাম।

ভারতে মুসলিম নিপীড়নের প্রতিবাদে নরসিংদীতে বিক্ষোভ মিছিল

নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ ভারত জুড়ে মুসলিম নিপীড়নের প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার নরসিংদীতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। তানজিমুল মাদারিসিল কওমিয়া ও নরসিংদী জেলা ইমাম পরিষদের যৌথ আয়োজনে এ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পূর্ব ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী নরসিংদী পৌরসভা চত্বরে বাদ জুমা খণ্ড খণ্ড মিছিল আসতে থাকে। পরে তা বিশালাকার ধারণ করে। পরে সেখান থেকে মিছিলটি বিভিন্ন রাস্তা পদক্ষিণ করে নরসিংদী রেলস্টেশনে এসে শেষ হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন তানজিমুল মাদারিসিল কওমিয়ার সভাপতি মাহেফজ মাওলানা শওকত হোসেন সরকার। মিছিল শেষে নরসিংদী রেলস্টেশনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ইমাম পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি মুফতি রবিউল ইসলাম, মুফতি শফিউল্লাহ, মাওলানা সাদেকুর রহমান, মাওলানা অলিউল্লাহ, মাওলানা নূরুল কবির, মাওলানা ছলিম উল্লাহ প্রমুখ।