সংসদে মির্জা ফখরুল

ইভিএম প্রকল্পে দুর্নীতি তদন্ত করছে দুদক : প্রস্তুতি শেষে দ্রুত স্থানীয় নির্বাচন

Printed Edition

সংসদ প্রতিবেদক

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদকে জানিয়েছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সাথে অডিট অধিদফতর প্রকল্পটিতে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের আপত্তি তুলেছে, যা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।

গতকাল সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২২তম দিনে সরকারি দলের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নের লিখিত জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, জুলাই ২০১৮ থেকে জুন ২০২৪ মেয়াদে এক লাখ ৫০ হাজার ইভিএম ক্রয়ের জন্য ৩ হাজার ৮২৫ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। ইভিএমগুলো অর্পিত ক্রয় পদ্ধতিতে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ক্রয় করা হয়েছিল। প্রকল্পের সমাপ্তি প্রতিবেদন (পিসিআর) ২০২৫ সালের ১৩ মে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগে (আইএমইডি) প্রেরণ করা হলেও এখন পর্যন্ত তার মূল্যায়ন প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। তবে অডিট অধিদফতর এই প্রকল্পে বড় ধরনের বেশ কিছু অডিট আপত্তি উত্থাপন করেছে। এই আপত্তিগুলো বর্তমানে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। আগামীতে জাতীয় বা স্থানীয় পর্যায়ের কোনো নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে না। বর্তমানে এই ইভিএমগুলো বিভিন্ন গোডাউন এবং বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) হেফাজতে রয়েছে।

প্রস্তুতি শেষে স্থানীয় সরকার নির্বাচন

বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য জহিরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে দ্রুত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। সর্বস্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করতে ১০ মাস থেকে এক বছর সময়ের প্রয়োজন হয়। নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে ভোটার তালিকা প্রস্তুত, ভোটের সামগ্রী সংগ্রহ, ধর্মীয় উৎসব, পাবলিক পরীক্ষা, আওহাওয়া, কেন্দ্র চূড়ান্তকরণ ও সংস্কার, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে তফসিল ঘোষণা করতে হয়। তফসিল ঘোষণার প্রাক-প্রস্তুতি হিসেবে ন্যূনতম ৪৫ দিন প্রয়োজন হয়।