ক্রীড়া প্রতিবেদক
দ্বিতীয় দিনের কাজ দারুণভাবে শেষ করতে পারার তৃপ্তি পাকিস্তান শিবিরে। মাঠ থেকে যখন তারা হাঁটা দিলেন ড্রেসিং রুমের পথে, ডাগ আউটে থাকা সবাই দাঁড়িয়ে করতালিতে স্বাগত জানালেন দু’জনকে। ড্রেসিংরুম থেকেও বেরিয়ে এলেন কেউ কেউ। পিঠ চাপড়ে দিলেন দুই ব্যাটসম্যানের। আযান আওয়াইস ও আবদুল্লাহ ফজল, নবীন দুই ক্রিকেটার তখন পাকিস্তান ইনিংসের নায়ক। তাদের এটি অভিষেক টেস্ট। বাবর শেষ মুহূর্তে চোট না পেলে দু’জনের একজন তো এই ম্যাচে খেলতেই পারতেন না। কিন্তু শুরুতেই প্রতিভার ঝলক দু’জনের। দিনের প্রথম ভাগে মোহাম্মাদ আব্বাসের দারুণ বোলিংয়ের পর টপ অর্ডারের দৃঢ়তাপূর্ণ ব্যাটিংয়ে মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনটি নিজেদের করে নিয়েছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের চিত্র ঠিক উল্টো। প্রথম দিনের উচ্ছ্বাস বা স্বস্তি যতটুকু ছিল, দ্বিতীয় দিনে সব উধাও। বড় ভরসার জায়গা ছিল পেস বোলিং, সেখানেই এ দিন মুখ থুবড়ে পড়েছে দল।
অবশ্যই আনন্দচিত্তে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এলেন ৪৫ রানে মিরাজের বলে আউট হয়ে যাওয়া ইমাম-উল-হক। উচ্ছ্বসিত নতুন দুই ব্যাটারের দারুণ সুচনায় বাংলাদেশের ৪০০ রানের জবাবে শুরুর দিনেই আত্মবিশ্বাসী জবাব দিতে পেরেছে। জানালেন তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনের ওপর নির্ভর করছে ম্যাচের ভবিষ্যৎ। ইমামের কথায়, ‘আমরা অবশ্যই ম্যাচের টেম্পারমেন্ট ধরে রেখে খেলতে পেরেছি। আগামীকাল (আজ) প্রথম সেশনটা জরুরি- এটার ওপরই নির্ভর করবে ম্যাচের ভবিষ্যৎ। হাতে এখনো ৯ উইকেট আছে। লিড নেয়ার যথেষ্ট সময় আছে। কিংবা ম্যাচের ফলাফলের সুযোগ আছে, নিজেদের প্রতিভা দেখানোর সময়ও আছে। সবকিছু নির্ভর করছে সেশনটার ওপর।’
অভিষিক্ত দুই ব্যাটার আওয়াইস ও ফজলকে নিয়ে উচ্ছ্বাসের কমতি নেই ইমাম-উল-হকের, ‘জাতীয় দলে প্রথমবার অভিষেক হলেও তারা বিভিন্ন জায়গায় খেলেছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে আওয়াইসের ১০টি সেঞ্চুরি আছে। দেশে বিদেশে সে প্রচুর ক্রিকেট খেলেছে। তবে বাংলাদেশের বোলাররা ভালো বল করেছে। নাহিদ রানা-তাসকিনদের আগ্রাসী বোলিংয়ের বিপরীতে তারা খুবই ভালো করেছে। তৃতীয় দিনটি এই ধারাবাহিকতায় থাকলে দলের জন্য ভালো কিছুই হবে ইনশাআল্লাহ।



