ক্রীড়া প্রতিবেদক
সেমিফাইনালে উঠতে হলে হারাতে হবে শ্রীলঙ্কাকে। সেই সাথে মেলাতে হবে নানা সমীকরণ। ফাইনালের আগে অঘোষিত সেই ফাইনালে শাহিবজাদা ফারহানের রেকর্ড সেঞ্চুরিতে ভর করে বিশাল রানের পাহাড় গড়ে তুলেছে পাকিস্তান। নির্ধারিত ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২১২ রান সংগ্রহ সালমান আলি আগার দলের। আর দাসুন শানাকার বলে ডিপ ফাইন লেগ দিয়ে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ফারহান গড়লেন রেকর্ড। তিনি ভেঙে দিয়েছেন টি-২০ বিশ্বকাপের এক আসরে সবচেয়ে বেশি রান করা বিরাট কোহলির রেকর্ড। সেমিফাইনালে উঠতে হলে ১৪৭ রানের মধ্যে শ্রীলঙ্কাকে অলআউট করতে হবে পাকিস্তানকে।
বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ২০১৪ আসরে ছয় ইনিংসে ৩১৯ রান করে রেকর্ডটি গড়েছিলেন কোহলি। তাকে ছাড়িয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সাহিবজাদার প্রয়োজন ছিল ৩৭ রান। ষষ্ঠ ওভারের প্রথম বলেই কাক্সিক্ষত ঠিকানায় পৌঁছান ২৯ বছর বয়সী এই ব্যাটার। এর আগেই ২০২১ সালে পাকিস্তানের হয়ে এক আসরে বাবর আজমের সবচেয়ে বেশি করা ৩০৩ রানকেও টপকে যান তিনি।
পাল্লেকেলেতে গতকাল টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের সূচনা করেন পাকিস্তানের দুই ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও ফখর জামান। দু’জনে মিলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ ওপেনিং জুটি গড়লেন ১৭৬ রান। আর ফারহানের শতকে হয়েছে আরো একটি রেকর্ড। প্রথম ব্যাটার হিসেবে টি-২০ বিশ্বকাপে এক আসরে দু’টি সেঞ্চুরি করলেন তিনি।
সেমিফাইনালে যেতে ৬৫ রানের বেশি ব্যবধানে জয়ের দেখা পেতেই হবে পাকিস্তানের। ব্যাটিংও করলেন সেই মেজাজেই। পাওয়ার প্লেতে ছয় ওভারে যোগ হয় ৬৪ রান। ১৪ ওভার শেষে ১৫০ রান যোগ হয় পাকিস্তানের বোর্ডে ফখর ও ফারহানের ঝড়ে। এরপর তারা টপকে যায় টি-২০ বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ ১৭৫ রানের উদ্বোধনী জুটির রেকর্ড। এবারের আসরেই চেন্নাইতে টিম সেইফার্ট ও ফিন অ্যালেন সংযুক্ত আরব-আমিরাতের বিপক্ষে গড়েছিলেন অপরাজিত ১৭৬ রানের জুটি। পাকিস্তানের রেকর্ড ১৭৬ রানের জুটিটা ভাঙে দুশমন্থ চামিরার বলে। ৪২ বলেন ৮৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে বোল্ড হন তিনি।
তার বিদায়ের পর মাঠে নেমে দ্রুতই আউট হন খাজা নাফে। তবে থামানো যায়নি সাহিবজাদা ফারহানকে। ৫৯ বলে আদায় করে নিয়েছেন এই আসরে তার দ্বিতীয় শতক। এর আগে গ্রুপ পর্বে নামিবিয়ার বিপক্ষে ৫৮ বলে অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। প্রথমবার কোনো ব্যাটার এক আসরে করলেন দু’টি সেঞ্চুরি। আউটও হয়েছেন বরাবর ১০০ রানেই মাদুশাঙ্কার বলে লিয়ানেজকে ক্যাচ দিয়ে। এই আসরে ৩৮৩ রান করে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক এখন তিনি। এরপর শাদাব খান ৭, মোহাম্মদ নওয়াজ ও অধিনায়ক সালমান আলি আগা ব্যর্থ হয়েছেন রানের খাতা খুলতে। চার রান করেছেন শাহিন আফ্রিদি। উসমান খান ৮ রান করে অপরাজিত ছিলেন। তিনটি উইকেট নেন মাধুশঙ্কা।


