আদমদীঘি (বগুড়া) সংবাদদাতা
গত বছরের লোকসানের ধকল কাটিয়ে উঠতে না উঠতে চলতি বছরে আলুর বাজারদর নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার আলুচাষিরা। এ বছরও লোকসানের কবলে পড়বেন এ অঞ্চলের আলুচাষিরা। তারা আলুর ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। হাটেবাজারে পাইকারদের কাছে আলুচাষিদের যেন কোনো মূল্যই নেই। তাদের পছন্দ মতো দামেই আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। ফলে এ অঞ্চলের কৃষকরা আগামী বছরগুলোতে আলু চাষের আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন বলে মনে করছে সচেতন মহল।
জানা যায়, গত বছর পানির দামে আলু বিক্রি এবং কোল্ড স্টোরগুলোতে আলু সংরক্ষণের সমস্যার কারণে কৃষকরা উৎপাদিত আলু নিয়ে বিপাকে পড়ে প্রচুর লোকসানের কবলে পড়েন। কৃষকরা চাষাবাদ ছাড়া অন্য কোনো কিছু করতে পারেন না। তাই গত বছরের লোকসান পুষিয়ে নেয়ার জন্য তারা চলতি বছরেও অনুরূপ আলু চাষ করেন; কিন্তু এ বছরেও একই অবস্থা। পাইকাররা ভুটান জাতের আলু জমিতেই বিঘা প্রতি ছয়-সাত হাজার টাকায় কিনছেন।
এতে কৃষকের বিঘাপ্রতি সাত হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। এ দিকে হাটবাজারে দেশী জাতের পাকড়ি আলু বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা ও ভুটান আলু বিক্রি হচ্ছে আড়াই শ’ টাকা মণ দরে। এতে কৃষকদের সাত-আট হাজার টাকার লোকসান গুনতে হচ্ছে। উপজেলার শালগ্রামের মোস্তাকিম আলী জানান, এভাবে প্রতি বছর লোকসান হলে আগামীতে আলু চাষ ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন। একই উপজেলার কোমারপুর গ্রামের বেলাল হোসেন জানান, এ ব্যাপারে সরকারের পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। নতুবা কৃষি সেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে। আলু ব্যবসায়ী সিরাজগঞ্জের রফিক, আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ান গ্রামের অনিক, রিফাত হোসেনসহ অনেকে জানান, মোকামে দাম কম হলে আমাদের কিছু করার থাকে না। তারা সিরাজগঞ্জ ও ঢাকা মিরপুরের বাজারে আলু রফতানি করে থাকেন। সেখানে দাম কম হওয়ায় আমরা বাধ্য হয়ে কম দামে আলু কিনছি।



