সিলিং ও গ্রিল কেটে বাকৃবির দুই হলে চুরি

Printed Edition

বাকৃবি প্রতিনিধি

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) অভিনব কায়দায় দু’টি আবাসিক হলে চুরির ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিকন্যা হলে সিলিং ভেঙে ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে গ্রিল কেটে চোর টাকা, মোবাইল ফোন ও মূল্যবান জিনিস চুরি করে নিয়ে গেছে।

জানা যায়, শুক্রবার রাতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের ডি ব্লকের চারতলার ৪৪১ ও ৪৪০ নম্বর কক্ষে চুরির ঘটনা ঘটে। চোর জানালার দু’টি স্টিলের শিক কেটে কক্ষে ঢোকে। এ সময় মূল্যবান মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও টাকা নিয়ে যায়। এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে কৃষিকন্যা হলের খ ব্লকের ১৩ নম্বর কক্ষে সিলিং ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, চোর সিলিংয়ের পথ দিয়ে কক্ষে ঢুকে নগদ প্রায় চার হাজার টাকা, আইডি কার্ডসহ দু’টি ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী কৃষিকণ্যা হলের একজন শিক্ষার্থী জানান, রাত ৭টা ৪৫ মিনিটের দিকে আমি রিডিং রুম থেকে ফিরেছিলাম। দরজায় তালা খুলতে গিয়ে দেখি ভেতর থেকে দরজার সিটকিনি আটকানো। অথচ রুমে তখন আমাদের কোনো রুমমেট ছিল না। তখন জানালা দিয়ে চোরকে দেখতে পাই। আমাকে দেখা মাত্র চোরটি সিলিংয়ের পথ দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। আমার চিৎকার শুনে তখন আশপাশের সবাই ছুটে আসে। পরে আমরা রুমে ঢুকে দেখি, আমাদের প্রায় চার হাজার টাকা আর আইডি কার্ডসহ দুইটা ব্যাগ নিয়ে চোর পালিয়ে গিয়েছে। পুরো ঘটনায় আমরা এখনো আতঙ্কে আছি।

কৃষিকন্যা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, হলের নির্মাণকাজ চলমান। সেখানে প্রয়োজনের তুলনায় কর্মী সংখ্যা অনেক কম। আমি আমার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি; কিন্তু আজকের এই ঘটনাটি সম্পূর্ণ অনাকাক্সিক্ষত। এটি পরিকল্পিত কোনো ঘটনা হতে পারে অথবা কোনো নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি সুযোগ বুঝে এই কাজ করেছে বলে অনুমান করছি।

অন্য দিকে সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো: বজলুর রহমান মোল্লা বলেন, সোহরাওয়ার্দী হলের চুরির ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তৎপর রয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং প্রক্রিয়া উদঘাটনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, শিক্ষার্থীরা রুমে থাকা অবস্থাতেই জানালা কেটে এই চুরির ঘটনা ঘটেছে, যা কিছুটা অস্বাভাবিক এবং বর্তমানে তদন্তাধীন পর্যায়ে রয়েছে। এ ক্ষেত্রে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মীদের কোনো প্রকার অবহেলা ছিল কি না, তাও গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ামাত্রই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিরাপত্তা শাখাকে অবহিত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।