সেবা নেই, তবু কর বাড়ানোর তোড়জোড় ক্ষুব্ধ মুন্সীগঞ্জবাসী

Printed Edition

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

ভাঙাচোরা সড়ক, তীব্র যানজট, স্থায়ী জলাবদ্ধতা, দখল হওয়া ফুটপাথ ও অকার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মধ্যেই মুন্সীগঞ্জ পৌরসভায় নতুন করে কর বৃদ্ধির উদ্যোগে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে নাগরিকদের মধ্যে। কর কমানোর আবেদন জমা দিতেও ২০০ টাকা ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে পৌর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

নগরবাসীদের অভিযোগ, কাগজে-কলমে ‘ক’ শ্রেণীর পৌরসভা হলেও বাস্তবে মুন্সীগঞ্জ এখন চরম অব্যবস্থাপনা ও নাগরিক দুর্ভোগের শহরে পরিণত হয়েছে। পৌরসভার ১২০ কিলোমিটার সড়কের বড় অংশই চলাচলের অনুপযোগী। সুপার মার্কেট-মানিকপুর, জুবিলী সড়ক, বিলেরকান্দি ও দেওভোগ-পারুলপাড়া সড়কে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে তা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়।

শহরের প্রধান সড়কগুলোতে প্রতিদিন দীর্ঘ যানজট লেগে থাকে। প্রায় তিন হাজার অটোরিকশা ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা যানবাহনের চাপে শহরের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া ফুটপাথ দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানের কারণে পথচারীদের চলাচলেও দুর্ভোগ বাড়ছে।

এক সময়ের ঐতিহ্যবাহী জুবিলী খালসহ অধিকাংশ খাল দখল ও ভরাট হওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। খাল-ড্রেন ও জলাশয়ে নিয়মিত ময়লা ফেলার কারণে বাড়ছে জনস্বাস্থ্যঝুঁকি।

সামাজিক সংগঠন ‘নাগরিক বন্ধু’-এর আহ্বায়ক মাসুদ রানা বলেন, নাগরিকেরা কোনো সেবা পাচ্ছেন না, অথচ কর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। এটি গণবিরোধী পদক্ষেপ।

পৌর প্রশাসক আ: রব বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকা ও জনবল সঙ্কটের কারণে উন্নয়নকাজ ব্যাহত হচ্ছে।