দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা
টানা তিন দিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ডের পাশাপাশি ঘন ঘন লোডশেডিং ও জ্বালানি তেলের সঙ্কটে চুয়াডাঙ্গার জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রখর রোদ, অসহনীয় গরম এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবায় ঘাটতি মিলিয়ে জেলাটি যেন নীরব দুর্যোগের জনপদে পরিণত হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ এপ্রিল তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ৩ এপ্রিল তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে- যা ওই দিনে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। গত ৪ এপ্রিলও তাপমাত্রা ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রিতে স্থির থাকে। টানা এই উচ্চ তাপমাত্রার কারণে জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপদাহ বয়ে যাচ্ছে, যা দ্রুত তীব্র রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই তাপদাহের মধ্যেই ঘন ঘন লোডশেডিং জনদুর্ভোগকে আরো বাড়িয়ে তুলছে। বিদ্যুতের লোডশেডিং থাকায় ঘরে ফ্যান বন্ধ থাকছে, পানির পাম্প চালানো যাচ্ছে না। ফলে, গরমের তীব্রতায় মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। বিশেষ করে দুপুর ও সন্ধ্যায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
অন্য দিকে জ্বালানি তেলের সঙ্কট পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে। পেট্রলপাম্পগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে চালক ও কৃষকদের। তীব্র রোদে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে গিয়ে অনেকেই শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘রোদে দাঁড়িয়ে থাকি, তেলও ঠিকমতো পাই না- মনে হয় যেন আগুনে পুড়ছি।’ তাপদাহে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক, পরিবহনচালক ও খেটে খাওয়া মানুষ। প্রখর রোদে কাজ করতে গিয়ে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ফলে তারা কাজের সময় কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে আয় কমছে, বাড়ছে দুশ্চিন্তা। কৃষকদের অভিযোগ, ধান মৌসুমে পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যা ধান উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। চুয়াডাঙ্গা জেলার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে প্রতি বছরই এখানে শীতে দেশের সর্বনিম্ন এবং গ্রীষ্মে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়। ফলে বছরের দুই মৌসুমেই চরম আবহাওয়ার সাথে লড়াই করতে হয় এ জেলার বাসিন্দাদের।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বৃষ্টিপাতের অভাব, মেঘহীন আকাশ এবং তীব্র রোদের কারণে তাপমাত্রা আরো বাড়ছে। পিচঢালা সড়ক নরম হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে এ তাপদাহ ধীরে ধীরে নীরব দুর্যোগে রূপ নিচ্ছে, যার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের পর্যবেক্ষক জামিনুর রহমান বলেন, বর্তমানে মাঝারি তাপপ্রবাহ চলছে। আকাশে মেঘ না থাকায় সূর্যের তাপ সরাসরি এসে পড়ছে। আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরো বাড়তে পারে।



