সঞ্জয় ব্যানার্জি দশমিনা (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর দশমিনায় নদ-নদী, খাল-বিল ও মুক্ত জলাশয়ে দেশীয় প্রজাতির মাছ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এক সময় এ অঞ্চলের দেশীয় মাছ পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। ফলে তেঁতুলিয়া নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলছে দেশীয় মাছের স্বাদ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এক দশক আগেও উপজেলার বিভিন্ন নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর-ডোবা ও ফসলি জমিতে প্রচুর দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। অনেক মানুষ মাছ ধরাকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে মুক্ত জলাশয়ে মাছের পরিমাণ কমে যাওয়ায় অনেকেই পেশা পরিবর্তনে বাধ্য হচ্ছেন।
মৎস্য সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মিঠাপানির প্রায় ২৬০ প্রজাতির মাছের মধ্যে শতাধিক প্রজাতি বর্তমানে অস্তিত্ব সঙ্কটে রয়েছে। এর মধ্যে ঢেলা, পাবদা, দাড়কানা, মোয়া, রয়না, গোরপে, আইড়, তেলটুপি, গাড্ডু টাকি, ভেদা, মাগুড়, শৈল, পুঁটি, টেংরা, শিং, বালিয়া, চান্দা, বাইম, কাকিলা, খলিসা ও গজাল মাছ উল্লেখযোগ্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নদী-নালা ও খাল-বিল ভরাট হয়ে যাওয়া, মাছের প্রজনন ক্ষেত্র সঙ্কুুচিত হওয়া, বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া, জলাশয় সেচে মাছ ধরা এবং ডিমওয়ালা ও পোনা মাছ নিধনের কারণে দেশীয় মাছের উৎপাদন কমছে।
দশমিনা সদর ইউনিয়নের ৮৮ বছর বয়সী শান্তি রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, ‘কিশোর বয়স থেকে মাছ ধরা ছিল আমার নেশা। বিল থেকে মাছ ধরে পরিবার নিয়ে খেতাম। এখন খাল-বিলে মাছের দেখাই মেলে না।’
বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের লাল মিয়া জানান, বহু বছর মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে সংসার চালিয়েছেন তিনি। কিন্তু কয়েক বছর ধরে আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না। তিনি বলেন, ‘দেশীয় মাছ এখন খুবই দুর্লভ। বাজারে যা আসে, তার দাম এত বেশি যে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।’
দশমিনা মাছ বাজারের ব্যবসায়ীরাও জানান, এক সময় দেশীয় ছোট মাছের কোনো সঙ্কট ছিল না। বর্তমানে অল্প যা পাওয়া যায়, তার দাম অনেক বেশি।
বড়গোপালদী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক আহম্মেদ ইব্রাহিম অরবিল বলেন, আগে গ্রামের মানুষ বিভিন্ন ধরনের জাল দিয়ে মাছ ধরত এবং মাছ খেতে খেতে বিরক্ত হয়ে যেত। এখন সেই ছোট মাছের দেখা পাওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে।
দশমিনা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) তপন মজুমদার বলেন, জলাশয় ভরাট, নদ-নদীতে পানির সঙ্কট, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত মৎস্য আহরণের কারণে দেশীয় মাছ কমে যাচ্ছে। এ ছাড়া সেচ দিয়ে মাছ নিধন ও জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের প্রভাবেও দেশীয় মাছ বিলুপ্তির পথে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে দেশীয় মাছ চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।



